
পুলিশ বাহিনীর হাতেগোনা কিছু সদস্যের অনিয়ম ও দুর্নীতির দায়ভার পুরো বাহিনী বহন করবে না বলে মন্তব্য করেছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির। শনিবার সকালে রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইনসে বাংলাদেশ পুলিশ অডিটরিয়ামে আয়োজিত এক মেধাবৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে ২০২৪ ও ২০২৫ সালে এসএসসি, এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জনকারী পুলিশ সদস্যদের সন্তানদের মাঝে মেধাবৃত্তি বিতরণ করা হয়। বাংলাদেশ পুলিশ কল্যাণ ট্রাস্টের অর্থায়নে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে দুই বছরে মোট ২ হাজার ১১৩ জন মেধাবী শিক্ষার্থীকে বৃত্তি দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে শনিবার ঢাকায় আনুষ্ঠানিকভাবে ৩৬০ জনের হাতে বৃত্তির চেক তুলে দেওয়া হয় এবং বাকিদের সংশ্লিষ্ট জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ের মাধ্যমে তা পৌঁছে দেওয়া হবে বলে জানানো হয়।
আইজিপি বলেন, পুলিশ যখন কোনো বড় ধরনের অপরাধ বা অনিয়মের বিরুদ্ধে অভিযানে নামে, তখন তাদের লক্ষ্য করে নানা ধরনের গুজব ও মিথ্যা অপবাদ ছড়ানো হয়। তিনি ‘হলুদ সাংবাদিকতা’র বিরুদ্ধে প্রকৃত সাংবাদিকদের সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান। পুলিশ প্রধান স্পষ্ট করেন, বাহিনীর ভেতরেও কিছু খারাপ লোক থাকতে পারে, তবে অপরাধে জড়িত সদস্যের হার এক শতাংশেরও কম। তিনি বলেন, আমার তথ্যমতে এই হার শূন্য দশমিক সত্তর শতাংশ। এই অল্প সংখ্যক দুর্নীতিপরায়ণ সদস্যের জন্য পুরো পুলিশ বাহিনী দায় নিতে পারে না।
দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে আইজিপি বলেন, গত ১৭ বছরে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে ব্যাংকগুলো শূন্য হয়ে পড়েছে। আমানতকারীরা তাদের টাকা ফেরত পেতে হিমশিম খাচ্ছেন। তিনি ষড়যন্ত্র না করে ষড়যন্ত্রকারীদের চিহ্নিত করার ওপর জোর দেন। এছাড়া জুলাই বিপ্লবের পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে নতুন প্রজন্মের কিছু মানুষের বাহাসে জড়ানোর প্রবণতার সমালোচনা করে তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ঠিক না থাকলে দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অসম্ভব।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় আইজিপি আরও জানান, মাদক ব্যবসায়ী ও ছিনতাইকারীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চালানো হলেও আইনের সীমাবদ্ধতার কারণে তাদের দীর্ঘসময় কারাগারে আটকে রাখা যাচ্ছে না। বারবার আইনের আওতায় আসার পরও তারা ছাড়া পেয়ে পুনরায় অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও সচেতন ও সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
তরুণ প্রজন্মের উদ্দেশে পুলিশ প্রধান বলেন, মাদক নতুন প্রজন্মকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। অনেক সময় মাদককে আকর্ষণীয় নামে বা ‘এনার্জি ট্যাবলেট’ হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। শিক্ষার্থীদের এসব মরণফাঁদ থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, প্রযুক্তি যেন তোমাদের ব্যবহার করতে না পারে, সেদিকে সতর্ক থাকতে হবে। মোবাইল ও ইন্টারনেটের অতিরিক্ত আসক্তিও মাদকের মতোই ক্ষতিকর।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অতিরিক্ত আইজি (প্রশাসন) এ কে এম আওলাদ হোসেন। এছাড়া ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ ও এআইজি ইসমাইল হোসেন বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা, অভিভাবক ও বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আমি একবার বলেছিলাম, আমাদের পুলিশের এক শতাংশ লোকও খারাপ না। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এটা নিয়ে মিডিয়াতে বলা শুরু হলো, তিনি পুলিশের অনিয়মকে জায়েজ করার চেষ্টা করছেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তবে অপবাদ দিয়ে কারও মনোবল নষ্ট করার বিরুদ্ধেও সবাইকে সোচ্চার হতে হবে। চাকরির আরও তথ্য: আমানতের টাকা ফেরত পেতে মানুষকে ব্যাংকে আবেদন করতে হচ্ছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তিনি বলেন, মানুষের বাড়ি, গাড়ি ও সম্পদ থাকলেও বাড়ি থেকে বের হয়ে নিরাপদে ফেরার নিশ্চয়তা না থাকলে দেশ অকার্যকর হয়ে যাবে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আইনের সীমাবদ্ধতায় অপরাধীরা ফের জড়াচ্ছে অপরাধে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: প্রত্যেক মাদক কারবারি ও প্রত্যেক ছিনতাইকারী একাধিকবার আইনের আওতায় এসেছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কিন্তু আইনের ফাঁকফোকরের কারণে তাদের ওইভাবে আটকে রাখতে পারিনি।