
ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের লাগাতার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মুখে সৌদি আরবের আকাশপথে মারাত্মক বিপর্যয় নেমে এসেছে। এর সরাসরি প্রভাবে রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফ্লাইট পরিচালনায় ব্যাপক বিঘ্ন ঘটেছে। আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলের তথ্য বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান সিরিয়ামের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ৮ থেকে ২৫ অক্টোবরের মধ্যে বিমানবন্দরটিতে নির্ধারিত ৪ হাজার ৭৩৬টি ফ্লাইটের মধ্যে ৪ হাজার ৭১টিই বাতিল করতে হয়েছে। অর্থাৎ, এই ১৮ দিনের ব্যবধানে মোট ফ্লাইটের প্রায় ৮৬ শতাংশই উড্ডয়ন বা অবতরণ করতে পারেনি।
নিরাপত্তাজনিত চরম উদ্বেগের কারণে বিমানবন্দরটির নিয়মিত শিডিউল ও কার্যক্রমে এই ধস নেমেছে। গত ১০ অক্টোবর রিয়াদের বিমানবন্দর এলাকায় হুতিদের চালানো এক ভয়াবহ হামলায় ১৩ জন সাধারণ মানুষ প্রাণ হারান। গত এক দশকের মধ্যে সৌদি আরবে এটিই ছিল সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলার ঘটনা। এই হামলার পর বিমানবন্দরের নিরাপত্তাব্যবস্থা ও আকাশপথের সুরক্ষা নিয়ে নতুন করে সংকট তৈরি হয়, যার জেরে কর্তৃপক্ষ ফ্লাইট স্থগিত রাখতে বাধ্য হয়। এ ঘটনার পর নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় বিমানবন্দরটির কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়।
সৌদির জেদ্দা বিমানবন্দরের পর কিং খালিদ বিমানবন্দর দেশটির দ্বিতীয় ব্যস্ততম বিমানকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। এটি অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগ ব্যবস্থায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বিমানবন্দরটি দীর্ঘ বিরতির পর গত রোববার অর্থাৎ ২৫ অক্টোবর থেকে সীমিত আকারে পুনরায় কার্যক্রম শুরু করেছে। তবে নিরাপত্তাঝুঁকি পুরোপুরি না কাটায় ফ্লাইট চলাচল কত দ্রুত স্বাভাবিক হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েই গেছে। নিরাপত্তাঝুঁকি অব্যাহত থাকলে ফ্লাইটের সময়সূচি পরিবর্তন এবং বাতিলের ঘটনা আরও বাড়তে পারে।
চলতি মাসে হুতি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের বেসামরিক অবকাঠামো, বিশেষ করে তেল স্থাপনা ও বিমানবন্দরগুলোতে হামলার মাত্রা বাড়িয়ে দিয়েছে। এই পরিস্থিতি শুধু যাত্রী পরিবহন নয়, বরং বিমান সংস্থাগুলোর স্বাভাবিক পরিচালন কার্যক্রমেও তীব্র চাপ সৃষ্টি করেছে। রিয়াদগামী ও রিয়াদ থেকে ছেড়ে যাওয়া ফ্লাইটগুলোর ওপর নির্ভরশীল হাজার হাজার যাত্রী চরম ভোগান্তির শিকার হয়েছেন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পরবর্তী নির্দেশনা ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনার দিকেই এখন তাকিয়ে আছে সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থা ও ভুক্তভোগী যাত্রীরা। বিমান চলাচলে এই বিপর্যয়ের ফলে যাত্রীদের ভ্রমণ পরিকল্পনা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি বিমান সংস্থাগুলোর পরিচালন কার্যক্রমেও চাপ তৈরি হয়েছে।
প্রতিনিধির নাম 






















