1. reporter@youthtvnewsbd.com : reporter :
  2. youthtvnews2019@gmail.com : youthttvnews24 :
ছাত্রী মোটা নাকি চিকন হয়েছে’ দেখতে ভিডিও কল দেন ইবি শিক্ষক - Youth Tv news
নোটিশ
ইয়ুথ টেলিভিশন এ বাংলাদেশের সকল জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সংবাদকর্মী নিয়োগ চলছে। এছাড়াও জেলা ব্যুরো প্রধান, বিভাগীয় ব্যুরো প্রধান, স্টাফ রিপোর্টার, ক্যাম্পাস  প্রতিনিধি, মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার নিয়োগ চলছে। আগ্রহীগণ জীবনবৃত্তান্ত, পাসপোর্ট সাইজের ছবি, ভোটার আইডি কার্ডের কপি, নাগরিক সনদের কপি ও সকল শিক্ষাগত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার সনদ (যদি থাকে) সহ যোগাযোগ করার জন্য অনুরোধ করা হলো। মোবাইল: ০১৪০৯-৯৯০৪০০, ০১৯৭২-০৮৪৬৯৬।

ছাত্রী মোটা নাকি চিকন হয়েছে’ দেখতে ভিডিও কল দেন ইবি শিক্ষক

বিশেষ প্রতিনিধি, রাশেদুল ইসলাম
  • আপডেট সময়ঃ বৃহস্পতিবার, ৩ জুলাই, ২০২৫
  • ৪২ বার

 

কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন ঐ বিভাগের শিক্ষার্থীরা। অভিযোগের মধ্যে রয়েছে নারী শিক্ষার্থীদের চেম্বারে ডেকে কুপ্রস্তাব দেওয়া, হয়রানি, গভীর রাতে ফোনকল এবং বিবাহিত মেয়েদের ক্লাসে দাড় করিয়ে দাম্পত্য জীবন, স্বামীর সাথে বোঝাপড়া নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন করা সহ বাজে ইঙ্গিতের’মত কুরুচিপূর্ণ আচরণ।

অভিযুক্ত শিক্ষকের নাম মো: আজিজুল ইসলাম। তিনি বায়োটেকনোলজি এন্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত রয়েছেন। তার বিরুদ্ধে বেশ কিছু অভিযোগ উল্লেখ করে বিভাগীয় সভাপতি অধ্যাপক ড. নাজমুল হুদা বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছে বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষ থেকে ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের মোট ২৩ জন শিক্ষার্থী। তবে, অভিযোগ দাখিলের পরপরই অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো ঘটনাটি যাতে বাইরে না আসে সেজন্য বিভাগের অন্যান্য শিক্ষকদের মাধ্যমে মীমাংসার প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের।

বিভাগের সভাপতির নিকট দেওয়া লিখিত অভিযোগপত্রে শিক্ষার্থীরা বলেন, অভিযুক্ত শিক্ষক আজিজুল ইসলাম মেয়েদের গভীর রাতে কল দিয়ে বিরক্ত করেন। বিশেষ করে তিনি ম্যাসেঞ্জারে কল দেন যাতে ফোনকল রেকর্ড করা না যায়। নিজেকে মেয়েদের বন্ধু হিসেবে পরিচয় দিয়ে ক্লোজ হতে চান, ম্যাসেঞ্জারে কল দেওয়া, নানারকম উত্যাক্তকারী ম্যাসেজ দেবার পর সাড়া না পেলে তিনি প্রমাণ মুছতে ম্যাসেঞ্জার থেকে সকল মেসেজ আনসেন্ট করে দেন।

দ্বিতীয়ত, ক্লাসরুমে মেয়েদের ব্যক্তিগত জীবন, বিশেষ করে বিবাহিত মেয়েদের দাঁড় করিয়ে বা উদ্দেশ্য করে বিবাহিত জীবন, দাম্পত্য জীবন, হাজবেন্ডের সাথে বোঝাপড়া নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন করেন। এতে মেয়েরা বিভ্রান্ত ও অপমানিত হওয়ার পরেও শিক্ষক হিসেবে উনার মাঝে কোনধরনের বিকার লক্ষ্য করা যায় না। ক্লাসে বিভিন্ন টপিক পড়ানোর ক্ষেত্রেও মেয়েদের উদ্দেশ্য করে কুরুচিপূর্ণ উদাহরণ টানেন এবং যেকোন বিষয় নিয়ে বাজে ইঙ্গিত করে কথা বলেন। তাছাড়া, মেয়েদের তার চেম্বারে একা ডেকে নিয়ে নানারকম কুপ্রস্তাব দেন তিনি। এতে রাজি না হলে পরীক্ষায় নাম্বার কমিয়ে দেবার হুমকি দেওয়া হয় যাতে মেয়েরা বাইরে কথা বলার সাহস না করে।

এছাড়াও আজিজুল ইসলামের বিরুদ্ধে ক্লাসে প্রবেশের ক্ষেত্রে ৫ মিনিট দেরি হলেও ঢুকতে না দেওয়া, টিউটোরিয়ালের মার্ক ও উপস্থিতির নাম্বারের বেলায় স্বজনপ্রীতি এবং সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা চলাকালে অতিরিক্ত খাতা বাঁধতে দেরি হওয়ায় শিক্ষার্থীদের খাতা ছিড়ে ফেলার অভিযোগ তুলেছেন তারা।

অভিযোগপত্রে ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের এক ছাত্রী বলেন, স্যার আমাকে ইমোতে ভিডিও কল দেন। আমি কল রিসিভ না করায় পরে অডিও কল দেন। তখন তিনি বলেন, অনেকদিন তোমাদের দেখি না, তোমরা মোটা হয়েছো না চিকন হয়েছো দেখার জন্য ভিডিও কল দিচ্ছি। তারপর উনি বলেন, তোমার কি কথা বলার লোক আছে? আমি বলি না নেই। তখন তিনি বলেন, এখন বলছো কেউ নাই, কিছুদিন পর তো দেখবো ক্যাম্পাসে কোনো ছেলের হাত ধরে ঘুরছো।

ওই ছাত্রী আরও জানান, স্যার ক্লাসে বিভিন্ন সময় আমাকে উদ্দেশ্য করে আজেবাজে ইঙ্গিত করে বাজে কথা বলেন। আমার উচ্চতা নিয়ে তিনি কুরুচিপূর্ণ জোকস করেন। আমি বিবাহিত হওয়ায় বিয়ের পর স্বামী-স্ত্রীর ব্যক্তিগত জীবন ও সম্পর্ক নিয়ে আমাকে বিভিন্ন মন্তব্য করেন। তিনি আমাকে সবার মাঝে ক্লাসে দাঁড় করিয়ে মেন্সট্রুয়েশন সাইকেল নিয়ে কুরুচিপূর্ণ কথা বলেন, যা আমার জন্য খুবই অপমানজনক। এভাবে বিভিন্ন সময় উনি ক্লাসে বাজে ইঙ্গিতপূর্ণ কথা বলার পাশাপাশি বডি শেমিং করেন এবং হুমকি দেন যে তার কোর্সে ভালো রেজাল্ট করতে পারব না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নারী শিক্ষার্থী বলেন, একটি কোর্সে রিটেক থাকায় উনি আগেরদিন আমাকে রুমে ডেকে নিয়ে বলেন যে রিটেকের প্রশ্ন ও খাতা দেখার দায়িত্ব তার। এই ছুতোয় প্রায় ১ ঘন্টা তিনি আমাকে হ্যারেজ করেন, বডির কমপ্লিমেন্ট দেন এবং পরীক্ষার দিন অনেকবার কল দিলেও রিসিভ না করায় পরবর্তীদিন রুমে ডেকে রেজাল্ট খারাপ করানোর হুমকি দেন এবং উনার সাথে সুসম্পর্ক রেখে রেজাল্ট ভালো করার আশ্বাস দেন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত শিক্ষক আজিজুল ইসলাম বলেন, ক্লাস পরীক্ষার ব্যাপারে আমি খুবই সিনসিয়ারলি কাজ করি। করোনা কালীন সময়ে পরীক্ষা কমিটির সভাপতি থাকাকালে তারা কয়েকজন আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে পরীক্ষা দিতে পারবে না উল্লেখ করে আবেদন দিয়েছিল। সেই সূত্র ধরে আমি তাদের অভিভাবকদের কাছে ফোন দিয়ে কনফার্ম হতে চাইলে অভিভাবকরা বিষয়টি অস্বীকার করেন। সেখান থেকেই আমার উপর তাদের ক্ষোভ ছিলো। আর ক্লাসে দেরিতে আসলে আমি উপস্থিতির নাম্বার দেই না, টিউটোরিয়ালে যা পায় তাই দেই। এসব কারণে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে এসব অভিযোগ তুলেছে।

গভীর রাতে ফোনকলের ব্যাপারে তিনি বলেন, অনেক সময় সিআররা ফোন দেয় ক্লাসের সময় জানার জন্য। ওইসময় ফোন ধরতে না পারলে পরবর্তীতে আমি ফোন করে জানিয়ে দেই, এর বেশি কিছু না। তবে রাগের মাথায় অনেক সময় হয়তো ক্লাসে বকাঝকা করেছি, সেটা আমার ভুল হয়ে থাকতে পারে। কারণ কার মেন্টালিটি কখন কেমন আছে সেটা ত বোঝা যায় না, হয়তো আমার কোন কথা তাদের খারাপ লেগে যেতে পারে৷ বিভিন্ন কাজের সুবাদে বা কোন অনুষ্ঠানে আমি পজেটিভলি সুন্দর ড্রেস পরে আসার কথা বলেছি। কিন্তু কোন মেয়েকে আমি ওইভাবে কিছু বলি নাই।

বিভাগীয় সভাপতি অধ্যাপক ড. নাজমুল হুদা বলেন, শিক্ষার্থীদের লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পরে আমরা আনীত অভিযোগের ব্যাপারে প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছি। পরবর্তীতে নিয়মান অনুযায়ী একাডেমিক কমিটির সভায় তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছি। আপাতত তাকে বিভাগের সব কার্যক্রম থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে।

শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো দেখুন...

Copyright © All rights reserved © 2017 Youth Television News. Design & Development by SA Creative Media 
Raytahost Facebook Sharing Powered By : Raytahost.com