সংবাদ সম্মেলনে যে অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন, সাবরেজিস্টার লুৎফর রহমান মোল্লা

 

গত ২৭ অক্টোবর নীলফামারী প্রেসক্লাবে সুনির্দিষ্ট প্রমান ছাড়াই যে সকল অভিযোগ এনে আমার ও অফিস স্টাফদের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে তা ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন জলঢাকা উপজেলার সাবরেজিস্টার বীরমুক্তিযোদ্ধা লুৎফর রহমান মোল্লা।

তিনি বলেন, অভিযোগ থাকলে অভিযোগকারী ব্যক্তিগন সুনির্দিষ্ট অভিযোগ নিয়ে তাঁরা কি আমার কাছে আসতে পারে না। যেসব অভিযোগ উঠেছে এবিষয়ে আমি কিছুই জানিনা, অথচ আমার ও আমার অফিস স্টাফদের বিরুদ্ধে অনিয়ম দূর্নীতির অভিযোগ এনে মানববন্ধন এবং সংবাদ সম্মেলন করলেন তাঁরা । মিথ্যা অভিযোগে আপনার সম্মানহানি হচ্ছে আপনি কোন পদক্ষেপ নিবেন কি না? এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দেখুন আমি একজন সরকারি কর্মকর্তা চাইলেও তাড়াতাড়ি কিছুই করতে পারবো না।

সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ গুলো হলো, ১৯৭১ সালে উপজেলা সাবরেজিস্টার লুৎফর রহমান মোল্লার বয়স ছিল ২ বছর তিনি মুক্তিযোদ্ধা সনদ ব্যবহার করে নিয়োগপ্রাপ্ত হন। সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী আনোয়ার হোসেন জানান, লুৎফর রহমান মোল্লা তাঁর পূর্বের কর্মস্থল গুলোতেও মোটা অংকের ঘুষ-বাণিজ্য করেছেন, যা বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচারিত হয়েছে। তিনি বলেন, জলঢাকায় যোগদানের শুরু থেকে সাবরেজিস্টার লুৎফর রহমান মোল্লা ও স্টাফরা একই নিয়মে অনিয়ম-দূর্নীতি ও ঘুষ-বাণিজ্য অব্যাহত রেখেছে। যার ফলে গত ২৫ শে আগস্ট ২০২৫ ইং তারিখে জলঢাকা প্রানকেন্দ্র জিরোপয়েন্ট মোড়ে শত শত সাধারণ মানুষ মানববন্ধন করেছে।

সংবাদ সম্মেলনে জানা যায়, কোন কিছুর তোয়াক্কা না করে মনগড়া বিধান তৈরির মাধ্যমে দলিলের নির্ধারিত ফি ছাড়াও অতিরিক্ত টাকা আদায়, খাজনা খারিজ না থাকলে নকল খাজনা খারিজ তৈরি করে দলিল পার করাসহ নানান অনিয়ম দূর্নীতি এবং জালিয়াতি চালিয়ে যাচ্ছে সাবরেজিস্টার ও তাঁর অফিসেের স্টাফরা। সাবরেজিস্টারের ঘুষ-বাণিজ্যের অন্যতম সহযোগী হিসেবে অভিযোগ উঠেছে, অফিস পরিছন্নতাকর্মী শ্যামলী রাণী রায় ও নৈশপ্রহরী হামিদুর রহমানের বিরুদ্ধে। এছাড়াও সংবাদ সম্মেলনে জেলা রেজিস্ট্রার এসএম সোহেল রানা মিলনকে মাশোয়ারা দেওয়া ও দলিল লেখক সমিতির অসংখ্য দলিল লেখকদের সম্পৃক্ত রেখে ঘুষ-দূর্নীতির অভিযোগ তুলে ধরেন সাবরেজিস্টারের বিরুদ্ধে।

এসব অভিযোগের ভিত্তিতে জলঢাকা উপজেলা সাবরেজিস্টার অফিসে গিয়ে জানা যায়, ভিন্নমতের কথা। অফিসের নৈশপ্রহরী হামিদুর রহমান বলেন, আমি একজন নৈশপ্রহরী, রাতের ডিউটি শেষে পিয়নের অসুস্থতার কারণে দিনের বেলায় অফিসের কাজে ব্যাংকে যেতে হয়, চিঠিপত্র আনা-নেওয়া করতে হয়। অফিসের কাজে আমি ব্যস্ত থাকি স্যারের কাছে যাইনা, আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা।
পরিছন্নতা কর্মী শ্যামলী রানী রায় জানান, এসবের আমি কিছুই জানিনা।

নাম না বলা শর্তে দলিল লেখকদের মধ্যে অনেকে জানান, অভিযোগ সত্য হউক আর মিথ্যা হউক হয়েছে তদন্ত আসলে একসাথেই বলবো।
অভিযোগকারী আনোয়ার হোসেন জানান, আমি নিজেই ভুক্তভোগী, দলিল করতে গিয়ে আমি ভোগান্তির শিকার হয়েছি। তদন্ত আসলে প্রমান সহকারে তদন্তকারী কর্মকর্তাদের সহযোগিতা করবো।
এদিকে মার্সিক মাসোয়ারার নেয়ার অভিযোগের ব্যাপারে জেলা রেজিস্ট্রার এসএম সোহেল রানা মিলন বলেন, আমরা জনগণের সেবক, আমরা আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জমির খাজনা-খারিজ দলিল করে দেই, দলিল করতে বিধিমালার বাইরে কোন অতিরিক্ত টাকা নেই না, কেউ নিতেও পারবেনা। সংবাদ সম্মেলনে যে অভিযোগ আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ তা ভিত্তিহীন ও বানোয়াট ।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

মাগুরায় দুই মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত এক

Verified by MonsterInsights

সংবাদ সম্মেলনে যে অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন, সাবরেজিস্টার লুৎফর রহমান মোল্লা

আপলোডের সময় : 07:21:04 pm, Monday, 3 November 2025

 

গত ২৭ অক্টোবর নীলফামারী প্রেসক্লাবে সুনির্দিষ্ট প্রমান ছাড়াই যে সকল অভিযোগ এনে আমার ও অফিস স্টাফদের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে তা ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন জলঢাকা উপজেলার সাবরেজিস্টার বীরমুক্তিযোদ্ধা লুৎফর রহমান মোল্লা।

তিনি বলেন, অভিযোগ থাকলে অভিযোগকারী ব্যক্তিগন সুনির্দিষ্ট অভিযোগ নিয়ে তাঁরা কি আমার কাছে আসতে পারে না। যেসব অভিযোগ উঠেছে এবিষয়ে আমি কিছুই জানিনা, অথচ আমার ও আমার অফিস স্টাফদের বিরুদ্ধে অনিয়ম দূর্নীতির অভিযোগ এনে মানববন্ধন এবং সংবাদ সম্মেলন করলেন তাঁরা । মিথ্যা অভিযোগে আপনার সম্মানহানি হচ্ছে আপনি কোন পদক্ষেপ নিবেন কি না? এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দেখুন আমি একজন সরকারি কর্মকর্তা চাইলেও তাড়াতাড়ি কিছুই করতে পারবো না।

সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ গুলো হলো, ১৯৭১ সালে উপজেলা সাবরেজিস্টার লুৎফর রহমান মোল্লার বয়স ছিল ২ বছর তিনি মুক্তিযোদ্ধা সনদ ব্যবহার করে নিয়োগপ্রাপ্ত হন। সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী আনোয়ার হোসেন জানান, লুৎফর রহমান মোল্লা তাঁর পূর্বের কর্মস্থল গুলোতেও মোটা অংকের ঘুষ-বাণিজ্য করেছেন, যা বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচারিত হয়েছে। তিনি বলেন, জলঢাকায় যোগদানের শুরু থেকে সাবরেজিস্টার লুৎফর রহমান মোল্লা ও স্টাফরা একই নিয়মে অনিয়ম-দূর্নীতি ও ঘুষ-বাণিজ্য অব্যাহত রেখেছে। যার ফলে গত ২৫ শে আগস্ট ২০২৫ ইং তারিখে জলঢাকা প্রানকেন্দ্র জিরোপয়েন্ট মোড়ে শত শত সাধারণ মানুষ মানববন্ধন করেছে।

সংবাদ সম্মেলনে জানা যায়, কোন কিছুর তোয়াক্কা না করে মনগড়া বিধান তৈরির মাধ্যমে দলিলের নির্ধারিত ফি ছাড়াও অতিরিক্ত টাকা আদায়, খাজনা খারিজ না থাকলে নকল খাজনা খারিজ তৈরি করে দলিল পার করাসহ নানান অনিয়ম দূর্নীতি এবং জালিয়াতি চালিয়ে যাচ্ছে সাবরেজিস্টার ও তাঁর অফিসেের স্টাফরা। সাবরেজিস্টারের ঘুষ-বাণিজ্যের অন্যতম সহযোগী হিসেবে অভিযোগ উঠেছে, অফিস পরিছন্নতাকর্মী শ্যামলী রাণী রায় ও নৈশপ্রহরী হামিদুর রহমানের বিরুদ্ধে। এছাড়াও সংবাদ সম্মেলনে জেলা রেজিস্ট্রার এসএম সোহেল রানা মিলনকে মাশোয়ারা দেওয়া ও দলিল লেখক সমিতির অসংখ্য দলিল লেখকদের সম্পৃক্ত রেখে ঘুষ-দূর্নীতির অভিযোগ তুলে ধরেন সাবরেজিস্টারের বিরুদ্ধে।

এসব অভিযোগের ভিত্তিতে জলঢাকা উপজেলা সাবরেজিস্টার অফিসে গিয়ে জানা যায়, ভিন্নমতের কথা। অফিসের নৈশপ্রহরী হামিদুর রহমান বলেন, আমি একজন নৈশপ্রহরী, রাতের ডিউটি শেষে পিয়নের অসুস্থতার কারণে দিনের বেলায় অফিসের কাজে ব্যাংকে যেতে হয়, চিঠিপত্র আনা-নেওয়া করতে হয়। অফিসের কাজে আমি ব্যস্ত থাকি স্যারের কাছে যাইনা, আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা।
পরিছন্নতা কর্মী শ্যামলী রানী রায় জানান, এসবের আমি কিছুই জানিনা।

নাম না বলা শর্তে দলিল লেখকদের মধ্যে অনেকে জানান, অভিযোগ সত্য হউক আর মিথ্যা হউক হয়েছে তদন্ত আসলে একসাথেই বলবো।
অভিযোগকারী আনোয়ার হোসেন জানান, আমি নিজেই ভুক্তভোগী, দলিল করতে গিয়ে আমি ভোগান্তির শিকার হয়েছি। তদন্ত আসলে প্রমান সহকারে তদন্তকারী কর্মকর্তাদের সহযোগিতা করবো।
এদিকে মার্সিক মাসোয়ারার নেয়ার অভিযোগের ব্যাপারে জেলা রেজিস্ট্রার এসএম সোহেল রানা মিলন বলেন, আমরা জনগণের সেবক, আমরা আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জমির খাজনা-খারিজ দলিল করে দেই, দলিল করতে বিধিমালার বাইরে কোন অতিরিক্ত টাকা নেই না, কেউ নিতেও পারবেনা। সংবাদ সম্মেলনে যে অভিযোগ আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ তা ভিত্তিহীন ও বানোয়াট ।