ভোটার সচেতনতা ও ‘ ‘হ্যাঁ’ ভোট প্রদানের আহ্বানে নীলফামারীতে জেলা ইমাম সম্মেলন

 

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন–২০২৬ কে সামনে রেখে ভোটারদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ জোরদার এবং ‘হ্যাঁ’ ভোট প্রদানের মাধ্যমে ইতিবাচক পরিবর্তনের আহ্বান জানাতে নীলফামারীতে অনুষ্ঠিত হয়েছে জেলা ইমাম সম্মেলন–২০২৬।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ যৌথভাবে এ সম্মেলনের আয়োজন করে।

বুধবার (২৮ জানুয়ারি) সকাল সারে ১০টায় নীলফামারী শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে আয়োজিত এই সম্মেলনে জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও ইউনিয়ন থেকে আগত ইমাম, খতিব এবং আলেম-ওলামাগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা যায়।

অনুষ্ঠানের শুরুতে জেলা মডেল মসজিদ নীলফামারীর ইমাম মাওলানা মো. ওমর ফারুক পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করেন।

সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নীলফামারীর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন পুলিশ সুপার শেখ জাহিদুল ইসলাম (পিপিএম)। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইসলামিক ফাউন্ডেশন নীলফামারীর উপপরিচালক মোছাদ্দিকুল আলম।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান বলেন, “গণতন্ত্রের প্রকৃত শক্তি নিহিত রয়েছে জনগণের ভোটাধিকার প্রয়োগে। একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য ভোটারদের সচেতন সিদ্ধান্ত গ্রহণ অপরিহার্য। দেশের কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আনতে ‘হ্যাঁ’ ভোট প্রদানের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। এ ক্ষেত্রে মসজিদভিত্তিক ইমামদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পুলিশ সুপার শেখ জাহিদুল ইসলাম (পিপিএম) বলেন, “নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যেকোনো ধরনের সহিংসতা, গুজব বা বিশৃঙ্খলা প্রতিরোধে পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে থাকবে। ভোটাররা যেন নির্বিঘ্নে ও নির্ভয়ে কেন্দ্রে গিয়ে ‘হ্যাঁ’ ভোট প্রদান করতে পারেন, সে লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সব ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।”

সভাপতির বক্তব্যে মোছাদ্দিকুল আলম বলেন,
“জাতির ভবিষ্যৎ নির্ধারণে ভোটাধিকার একটি গুরুত্বপূর্ণ আমানত। দায়িত্বশীল ও নৈতিক নেতৃত্ব নির্বাচনের জন্য ধর্মীয় ও সামাজিক দৃষ্টিকোণ থেকে জনগণকে সচেতন করা জরুরি। ইমামগণ যদি খুতবা ও ধর্মীয় আলোচনার মাধ্যমে ‘হ্যাঁ’ ভোটের গুরুত্ব তুলে ধরেন, তবে সমাজে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন ত্বরান্বিত হবে।”

সম্মেলনে বক্তারা জুমার খুতবা, ওয়াজ ও ধর্মীয় আলোচনায় ভোটারদের ভোটাধিকার প্রয়োগে উৎসাহিত করা, বিশেষ করে ‘হ্যাঁ’ ভোটের মাধ্যমে পরিবর্তনের পক্ষে অবস্থান গ্রহণ, গুজব ও অপপ্রচার প্রতিরোধ এবং শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

এ সময় উপস্থিত ইমাম ও খতিবগণ নিজ নিজ এলাকায় ভোটার সচেতনতা বৃদ্ধিতে সক্রিয় ভূমিকা রাখার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

হামের টিকার কার্যকারিতা নিয়ে উদ্বেগ, ২৭ শতাংশ শিশুর অ্যান্টিবডি নেই

Verified by MonsterInsights

ভোটার সচেতনতা ও ‘ ‘হ্যাঁ’ ভোট প্রদানের আহ্বানে নীলফামারীতে জেলা ইমাম সম্মেলন

আপলোডের সময় : 07:37:52 pm, Wednesday, 28 January 2026

 

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন–২০২৬ কে সামনে রেখে ভোটারদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ জোরদার এবং ‘হ্যাঁ’ ভোট প্রদানের মাধ্যমে ইতিবাচক পরিবর্তনের আহ্বান জানাতে নীলফামারীতে অনুষ্ঠিত হয়েছে জেলা ইমাম সম্মেলন–২০২৬।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ যৌথভাবে এ সম্মেলনের আয়োজন করে।

বুধবার (২৮ জানুয়ারি) সকাল সারে ১০টায় নীলফামারী শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে আয়োজিত এই সম্মেলনে জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও ইউনিয়ন থেকে আগত ইমাম, খতিব এবং আলেম-ওলামাগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা যায়।

অনুষ্ঠানের শুরুতে জেলা মডেল মসজিদ নীলফামারীর ইমাম মাওলানা মো. ওমর ফারুক পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করেন।

সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নীলফামারীর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন পুলিশ সুপার শেখ জাহিদুল ইসলাম (পিপিএম)। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইসলামিক ফাউন্ডেশন নীলফামারীর উপপরিচালক মোছাদ্দিকুল আলম।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান বলেন, “গণতন্ত্রের প্রকৃত শক্তি নিহিত রয়েছে জনগণের ভোটাধিকার প্রয়োগে। একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য ভোটারদের সচেতন সিদ্ধান্ত গ্রহণ অপরিহার্য। দেশের কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আনতে ‘হ্যাঁ’ ভোট প্রদানের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। এ ক্ষেত্রে মসজিদভিত্তিক ইমামদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পুলিশ সুপার শেখ জাহিদুল ইসলাম (পিপিএম) বলেন, “নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যেকোনো ধরনের সহিংসতা, গুজব বা বিশৃঙ্খলা প্রতিরোধে পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে থাকবে। ভোটাররা যেন নির্বিঘ্নে ও নির্ভয়ে কেন্দ্রে গিয়ে ‘হ্যাঁ’ ভোট প্রদান করতে পারেন, সে লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সব ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।”

সভাপতির বক্তব্যে মোছাদ্দিকুল আলম বলেন,
“জাতির ভবিষ্যৎ নির্ধারণে ভোটাধিকার একটি গুরুত্বপূর্ণ আমানত। দায়িত্বশীল ও নৈতিক নেতৃত্ব নির্বাচনের জন্য ধর্মীয় ও সামাজিক দৃষ্টিকোণ থেকে জনগণকে সচেতন করা জরুরি। ইমামগণ যদি খুতবা ও ধর্মীয় আলোচনার মাধ্যমে ‘হ্যাঁ’ ভোটের গুরুত্ব তুলে ধরেন, তবে সমাজে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন ত্বরান্বিত হবে।”

সম্মেলনে বক্তারা জুমার খুতবা, ওয়াজ ও ধর্মীয় আলোচনায় ভোটারদের ভোটাধিকার প্রয়োগে উৎসাহিত করা, বিশেষ করে ‘হ্যাঁ’ ভোটের মাধ্যমে পরিবর্তনের পক্ষে অবস্থান গ্রহণ, গুজব ও অপপ্রচার প্রতিরোধ এবং শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

এ সময় উপস্থিত ইমাম ও খতিবগণ নিজ নিজ এলাকায় ভোটার সচেতনতা বৃদ্ধিতে সক্রিয় ভূমিকা রাখার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।