মহাস্থানগড়ে পর্যটকের গলায় ছু’রি ঠেকিয়ে ছি’নতাই: মূল হোতা ইমন গ্রে’প্তার, প’লাতক আরও ৩

 

বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার ঐতিহাসিক মহাস্থানগড় এলাকায় পর্যটকদের নিরাপত্তা চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে। দিনে-দুপুরে অস্ত্রের মুখে ছিনতাইয়ের ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষের মধ্যে।

ঘটনাটি ঘটে শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি ২০২৬) বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে মহাস্থানগড়ের মানকালী কুন্ড এলাকায়। ভুক্তভোগী পর্যটক জিহাদ (১৮) জানান, চারজনের একটি সংঘবদ্ধ ছিনতাইকারী দল দেশীয় ধারালো অস্ত্র নিয়ে তার ওপর হামলা চালায়। একপর্যায়ে তার গলায় ছুরি ঠেকিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ব্যবহৃত রিয়েলমি সি-১৪ (Realme C14) মডেলের একটি মোবাইল ফোন ও পকেটে থাকা নগদ ৯ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়।

ঘটনার পরপরই শিবগঞ্জ থানার এসআই ছাইদুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল অভিযান চালিয়ে ছিনতাইকারী চক্রের মূল হোতা ইমন (২৯) কে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। সে স্বাধীন নামের এক ব্যক্তির ছেলে এবং তার বাড়ি অন্তবালা গ্রামে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এই ঘটনায় জড়িত আরও তিনজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলো—
শরিফ (২৩), পিতা পরিচয় অজ্ঞাত (পলাতক),
শাকিল (২৩), পিতা লুতফর, গ্রাম মহাস্থান নামাপাড়া (পলাতক), এবং অপর একজন অজ্ঞাতনামা ছিনতাইকারী।

গ্রেপ্তারকৃত ইমনের কাছ থেকে ছিনতাইকৃত মোবাইল ফোনটি উদ্ধার করা হয়েছে। তবে নগদ টাকা এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

পুলিশ জানায়, ধৃত আ’সামীর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পলাতক দুইজনসহ বাকি অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সম্প্রতি মহাস্থানগড় এলাকায় ছিনতাই ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে গেছে। একের পর এক পর্যটক হয়রানির শিকার হলেও কার্যকর ব্যবস্থা চোখে পড়ছিল না। মহাস্থান নামাপাড়া ও অন্তবালা এলাকার একটি চিহ্নিত চক্র দীর্ঘদিন ধরে এসব কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে বলে দাবি করেন তারা।

মহাস্থানগড়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নতাত্ত্বিক এলাকায় প্রকাশ্যে ছুরি ঠেকিয়ে ছিনতাইয়ের ঘটনায় সচেতন মহল গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

তাদের দাবি, পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা ও নিয়মিত টহল জোরদার করা হোক।

শিবগঞ্জ থানা পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত আসামীর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং লুণ্ঠিত টাকা উদ্ধারে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানো হচ্ছে।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

মাগুরায় দুই মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত এক

Verified by MonsterInsights

মহাস্থানগড়ে পর্যটকের গলায় ছু’রি ঠেকিয়ে ছি’নতাই: মূল হোতা ইমন গ্রে’প্তার, প’লাতক আরও ৩

আপলোডের সময় : 10:54:54 pm, Saturday, 31 January 2026

 

বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার ঐতিহাসিক মহাস্থানগড় এলাকায় পর্যটকদের নিরাপত্তা চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে। দিনে-দুপুরে অস্ত্রের মুখে ছিনতাইয়ের ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষের মধ্যে।

ঘটনাটি ঘটে শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি ২০২৬) বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে মহাস্থানগড়ের মানকালী কুন্ড এলাকায়। ভুক্তভোগী পর্যটক জিহাদ (১৮) জানান, চারজনের একটি সংঘবদ্ধ ছিনতাইকারী দল দেশীয় ধারালো অস্ত্র নিয়ে তার ওপর হামলা চালায়। একপর্যায়ে তার গলায় ছুরি ঠেকিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ব্যবহৃত রিয়েলমি সি-১৪ (Realme C14) মডেলের একটি মোবাইল ফোন ও পকেটে থাকা নগদ ৯ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়।

ঘটনার পরপরই শিবগঞ্জ থানার এসআই ছাইদুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল অভিযান চালিয়ে ছিনতাইকারী চক্রের মূল হোতা ইমন (২৯) কে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। সে স্বাধীন নামের এক ব্যক্তির ছেলে এবং তার বাড়ি অন্তবালা গ্রামে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এই ঘটনায় জড়িত আরও তিনজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলো—
শরিফ (২৩), পিতা পরিচয় অজ্ঞাত (পলাতক),
শাকিল (২৩), পিতা লুতফর, গ্রাম মহাস্থান নামাপাড়া (পলাতক), এবং অপর একজন অজ্ঞাতনামা ছিনতাইকারী।

গ্রেপ্তারকৃত ইমনের কাছ থেকে ছিনতাইকৃত মোবাইল ফোনটি উদ্ধার করা হয়েছে। তবে নগদ টাকা এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

পুলিশ জানায়, ধৃত আ’সামীর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পলাতক দুইজনসহ বাকি অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সম্প্রতি মহাস্থানগড় এলাকায় ছিনতাই ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে গেছে। একের পর এক পর্যটক হয়রানির শিকার হলেও কার্যকর ব্যবস্থা চোখে পড়ছিল না। মহাস্থান নামাপাড়া ও অন্তবালা এলাকার একটি চিহ্নিত চক্র দীর্ঘদিন ধরে এসব কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে বলে দাবি করেন তারা।

মহাস্থানগড়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নতাত্ত্বিক এলাকায় প্রকাশ্যে ছুরি ঠেকিয়ে ছিনতাইয়ের ঘটনায় সচেতন মহল গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

তাদের দাবি, পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা ও নিয়মিত টহল জোরদার করা হোক।

শিবগঞ্জ থানা পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত আসামীর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং লুণ্ঠিত টাকা উদ্ধারে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানো হচ্ছে।