গাইবান্ধায় পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে জুয়ার আসর ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ

গাইবান্ধা সদর পুলিশ ফাঁড়ি ও তদন্ত কেন্দ্রের ভেতরে খোদ পুলিশ সদস্যদের জুয়া খেলার বেশ কয়েকটি ভিডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

ভিডিওতে দেখা যায়, পুলিশের পোশাক পরিহিত অবস্থায় একদল সদস্য নগদ টাকা দিয়ে জুয়ার আসর জমিয়েছেন। এছাড়া ওই তদন্ত কেন্দ্রের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মাদক কারবারিদের কাছ থেকে নিয়মিত মাসোহারা আদায় এবং অনৈতিক কাজে লিপ্ত থাকার প্রমাণও মিলেছে।
​একটি ২ মিনিট ২৩ সেকেন্ডের ভিডিও ক্লিপে দেখা যায়, তদন্ত কেন্দ্রের একটি বন্ধ রুমে ৬-৭ জন পুলিশ সদস্য টেবিল পেতে তাস খেলছেন টেবিলে ৫০০, ১০০ এবং ২০ টাকার নোট ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকতে দেখা যায়। শনাক্ত হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন গাইবান্ধা সদর ফাঁড়ির সহকারী টাউন সাব ইন্সপেক্টর (এটিএসআই) আক্তার এবং সদর থানার এসআই বুলবুল।
​সিসিটিভি ফুটেজ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৩ মে তারিখে এটিএসআই আক্তারকে এক তরুণীর সাথে আপত্তিকর অবস্থায় দেখা গেছে। অভিযোগ রয়েছে, তদন্ত কেন্দ্রের গোপন কক্ষগুলোতে নিয়মিত নারী নিয়ে আসা হয়।
অপর এক ভিডিওতে দেখা যায়, মাদক কারবারিদের আটক না করে তাদের কাছ থেকে মাদক ও নগদ অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছেন এটিএসআই আক্তার। স্থানীয় মাদক কারবারিদের অভিযোগ, এই পুলিশ কর্মকর্তারা ৪ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত নিয়মিত চাঁদা আদায় করেন। টাকা না দিলে সাধারণ মানুষকে মাদক মামলায় ফাঁসানোর ভয় দেখানো হয়।
​​এই বিষয়ে অভিযুক্ত এটিএসআই আক্তার এবং এসআই বুলবুলের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি এবং পরবর্তীতে ফোন বন্ধ করে রাখেন। ​সদর ফাঁড়ির ইন্সপেক্টর মোহাম্মদ বেলাল জানান যে তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত ছিলেন না এবং সাংবাদিকদের মাধ্যমেই প্রথম জানতে পেরেছেন। তবে গাইবান্ধার পুলিশ সুপার মোঃ জসিমউদ্দিন জানিয়েছেন, ভিডিওগুলো তাদের হাতে পৌঁছেছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

আইজিপির বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিলো পুলিশ সদরদফতর, ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে

Verified by MonsterInsights

গাইবান্ধায় পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে জুয়ার আসর ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ

আপলোডের সময় : 08:54:35 pm, Saturday, 14 March 2026

গাইবান্ধা সদর পুলিশ ফাঁড়ি ও তদন্ত কেন্দ্রের ভেতরে খোদ পুলিশ সদস্যদের জুয়া খেলার বেশ কয়েকটি ভিডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

ভিডিওতে দেখা যায়, পুলিশের পোশাক পরিহিত অবস্থায় একদল সদস্য নগদ টাকা দিয়ে জুয়ার আসর জমিয়েছেন। এছাড়া ওই তদন্ত কেন্দ্রের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মাদক কারবারিদের কাছ থেকে নিয়মিত মাসোহারা আদায় এবং অনৈতিক কাজে লিপ্ত থাকার প্রমাণও মিলেছে।
​একটি ২ মিনিট ২৩ সেকেন্ডের ভিডিও ক্লিপে দেখা যায়, তদন্ত কেন্দ্রের একটি বন্ধ রুমে ৬-৭ জন পুলিশ সদস্য টেবিল পেতে তাস খেলছেন টেবিলে ৫০০, ১০০ এবং ২০ টাকার নোট ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকতে দেখা যায়। শনাক্ত হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন গাইবান্ধা সদর ফাঁড়ির সহকারী টাউন সাব ইন্সপেক্টর (এটিএসআই) আক্তার এবং সদর থানার এসআই বুলবুল।
​সিসিটিভি ফুটেজ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৩ মে তারিখে এটিএসআই আক্তারকে এক তরুণীর সাথে আপত্তিকর অবস্থায় দেখা গেছে। অভিযোগ রয়েছে, তদন্ত কেন্দ্রের গোপন কক্ষগুলোতে নিয়মিত নারী নিয়ে আসা হয়।
অপর এক ভিডিওতে দেখা যায়, মাদক কারবারিদের আটক না করে তাদের কাছ থেকে মাদক ও নগদ অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছেন এটিএসআই আক্তার। স্থানীয় মাদক কারবারিদের অভিযোগ, এই পুলিশ কর্মকর্তারা ৪ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত নিয়মিত চাঁদা আদায় করেন। টাকা না দিলে সাধারণ মানুষকে মাদক মামলায় ফাঁসানোর ভয় দেখানো হয়।
​​এই বিষয়ে অভিযুক্ত এটিএসআই আক্তার এবং এসআই বুলবুলের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি এবং পরবর্তীতে ফোন বন্ধ করে রাখেন। ​সদর ফাঁড়ির ইন্সপেক্টর মোহাম্মদ বেলাল জানান যে তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত ছিলেন না এবং সাংবাদিকদের মাধ্যমেই প্রথম জানতে পেরেছেন। তবে গাইবান্ধার পুলিশ সুপার মোঃ জসিমউদ্দিন জানিয়েছেন, ভিডিওগুলো তাদের হাতে পৌঁছেছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।