টঙ্গীর ৫৭ নং ওয়ার্ডে কাউন্সিলর প্রার্থীকে ঘিরে বিস্তর অভিযোগ ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা (১ম পর্ব)

গাজীপুর মহানগরের টঙ্গী বাজার সংলগ্ন ৫৭ নং ওয়ার্ডে সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থী শামীম ওরফে বিএম শামীমকে ঘিরে একাধিক গুরুতর অভিযোগ সামনে এসেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের একটি বড় অংশের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে তিনি ও তার ঘনিষ্ঠদের একটি প্রভাবশালী চক্র এলাকায় বিভিন্ন অসামাজিক ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত, যার ফলে সাধারণ মানুষ চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১৮ বছর আগে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সময় ভিন্ন পরিচয়ে এলাকায় প্রভাব বিস্তার শুরু করেন শামীম। পরবর্তীতে তার আর্থিক অবস্থার দ্রুত পরিবর্তন নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে বিভিন্ন মহলে। টঙ্গীর বউবাজার এলাকায় বহুতল ভবন নির্মাণসহ কোটি টাকার সম্পদের মালিকানা নিয়ে এলাকাজুড়ে চলছে আলোচনা-সমালোচনা। এলাকাবাসীর অভিযোগ, তার পরিবারের একাধিক সদস্যের বিরুদ্ধেও বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততার কথা শোনা যায়। বিশেষ করে তার এক বোনকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগ স্থানীয়দের মুখে মুখে ঘুরছে। এছাড়া ছিনতাই, চাঁদাবাজি ও দেহ ব্যবসার মতো অপরাধের সঙ্গেও সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে বলে দাবি করেন অনেকেই।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন বাসিন্দা জানান টঙ্গীর বউবাজার নদীর পাড় ও আশপাশের এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এসব গ্যাংয়ের সদস্যরা মাদক বেচাকেনা ছিনতাই ও চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে। তাদের দাবি এসব কর্মকাণ্ড একটি প্রভাবশালী চক্রের ছত্রছায়ায় পরিচালিত হচ্ছে। আরও জানা যায়, নির্দিষ্ট কিছু স্থানে মাদক বেচাকেনার জন্য আলাদা পয়েন্ট গড়ে উঠেছে যেখানে ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত অবাধে এসব কার্যক্রম চলে। স্থানীয়দের মতে এসব কার্যক্রম থেকে নিয়মিত অর্থ আদায় করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।সম্প্রতি বউবাজার এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে যা পুরো এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করে। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। একইসঙ্গে রেলওয়ের জায়গা দখল করে অবৈধভাবে দোকান স্থাপন এবং সেখান থেকে চাঁদাবাজির মাধ্যমে অর্থ আদায়ের অভিযোগও তুলেছেন সচেতন মহল। এলাকাবাসীর দাবি, এসব কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় পরিস্থিতি দিন দিন জটিল হয়ে উঠছে। যদিও প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো পর্যন্ত প্রকাশ্যে কোনো অবস্থান জানানো হয়নি অভিযুক্ত শামীম ও তার ঘনিষ্ঠদের বক্তব্য জানার জন্য একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। এ অবস্থায় স্থানীয় সচেতন মহল, সুশীল সমাজ ও সাধারণ জনগণ নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

জুলাই গণহত্যায় কুষ্টিয়ার হানিফসহ চারজনের রায় বৃহস্পতিবার

Verified by MonsterInsights

টঙ্গীর ৫৭ নং ওয়ার্ডে কাউন্সিলর প্রার্থীকে ঘিরে বিস্তর অভিযোগ ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা (১ম পর্ব)

আপলোডের সময় : 02:14:51 pm, Sunday, 26 April 2026

গাজীপুর মহানগরের টঙ্গী বাজার সংলগ্ন ৫৭ নং ওয়ার্ডে সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থী শামীম ওরফে বিএম শামীমকে ঘিরে একাধিক গুরুতর অভিযোগ সামনে এসেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের একটি বড় অংশের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে তিনি ও তার ঘনিষ্ঠদের একটি প্রভাবশালী চক্র এলাকায় বিভিন্ন অসামাজিক ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত, যার ফলে সাধারণ মানুষ চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১৮ বছর আগে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সময় ভিন্ন পরিচয়ে এলাকায় প্রভাব বিস্তার শুরু করেন শামীম। পরবর্তীতে তার আর্থিক অবস্থার দ্রুত পরিবর্তন নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে বিভিন্ন মহলে। টঙ্গীর বউবাজার এলাকায় বহুতল ভবন নির্মাণসহ কোটি টাকার সম্পদের মালিকানা নিয়ে এলাকাজুড়ে চলছে আলোচনা-সমালোচনা। এলাকাবাসীর অভিযোগ, তার পরিবারের একাধিক সদস্যের বিরুদ্ধেও বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততার কথা শোনা যায়। বিশেষ করে তার এক বোনকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগ স্থানীয়দের মুখে মুখে ঘুরছে। এছাড়া ছিনতাই, চাঁদাবাজি ও দেহ ব্যবসার মতো অপরাধের সঙ্গেও সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে বলে দাবি করেন অনেকেই।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন বাসিন্দা জানান টঙ্গীর বউবাজার নদীর পাড় ও আশপাশের এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এসব গ্যাংয়ের সদস্যরা মাদক বেচাকেনা ছিনতাই ও চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে। তাদের দাবি এসব কর্মকাণ্ড একটি প্রভাবশালী চক্রের ছত্রছায়ায় পরিচালিত হচ্ছে। আরও জানা যায়, নির্দিষ্ট কিছু স্থানে মাদক বেচাকেনার জন্য আলাদা পয়েন্ট গড়ে উঠেছে যেখানে ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত অবাধে এসব কার্যক্রম চলে। স্থানীয়দের মতে এসব কার্যক্রম থেকে নিয়মিত অর্থ আদায় করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।সম্প্রতি বউবাজার এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে যা পুরো এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করে। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। একইসঙ্গে রেলওয়ের জায়গা দখল করে অবৈধভাবে দোকান স্থাপন এবং সেখান থেকে চাঁদাবাজির মাধ্যমে অর্থ আদায়ের অভিযোগও তুলেছেন সচেতন মহল। এলাকাবাসীর দাবি, এসব কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় পরিস্থিতি দিন দিন জটিল হয়ে উঠছে। যদিও প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো পর্যন্ত প্রকাশ্যে কোনো অবস্থান জানানো হয়নি অভিযুক্ত শামীম ও তার ঘনিষ্ঠদের বক্তব্য জানার জন্য একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। এ অবস্থায় স্থানীয় সচেতন মহল, সুশীল সমাজ ও সাধারণ জনগণ নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।