রূপসায় মামলা প্রত্যাহার না করলে প্রাণনাশের হুমকি; চরম নিরাপত্তাহীনতায় সাবেক সেনা সদস্যের পরিবার

 

খুলনার রূপসা উপজেলায় প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করায় প্রাণনাশের হুমকি ও নানা ধরনের ভয়ভীতির শিকার হওয়ার অভিযোগ করেছেন এক সাবেক সেনা সদস্য। বিচার ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন তিনি।
জীবননাশের আশঙ্কায় আইনি সহায়তা পেতে দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন বলেও দাবি করেন ভুক্তভোগী।

সোমবার (১৩ জুলাই) দুপুর ১২টায় পূর্ব রূপসায় অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন খুলনা জেলার রূপসা উপজেলার নৈহাটি ইউনিয়নের নৈহাটি শেখ বাড়ির মৃত উহাব আলী শেখের ছেলে এম এম সুজাউদ্দিন (৫১)।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, গত ৮ জুন ২০২৬ তারিখ বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে আমার ছেলে মো. রাসেদুল ইসলাম ওরফে সালভী (১৭)-কে রূপসা উপজেলার ইলাইপুর গ্রামের মো. সাঈদের ছেলে মো. মিলন (২০), মো. ইসরাফিলের ছেলে মো. রোমান (১৯) এবং নৈহাটি গ্রামের মো. ইউনুসের ছেলে মো. রাকিব (২০) সংঘবদ্ধ হয়ে অতর্কিতভাবে মারপিট করে মারাত্মক রক্তাক্ত জখম করে। এতে আমার ছেলে সালভীর মাথায় অস্ত্রোপচার করতে হয় এবং মাথায় ৩২টি সেলাই দেওয়া হয়। মাথায় প্রচণ্ড আঘাতের কারণে তার কথাও বন্ধ হয়ে যায়।

তিনি আরও বলেন, আমার ছেলের মৃত্যুশয্যায় থাকা অবস্থা দেখে আমি আইনি বিচার পাওয়ার লক্ষ্যে ওই ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে গত ৯ জুন ২০২৬ তারিখে রূপসা থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করি। যার মামলা নম্বর-০৪, তারিখ-০৯/০৬/২০২৬ এবং জিআর নং-৮১/২০২৬।”
তিনি অভিযোগ করেন, মামলাটি তুলে নেওয়ার জন্য ওই ব্যক্তিরাসহ অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজন গত ২৭ জুন ২০২৬ তারিখে আমার বাড়ির সামনে এসে আমাকে বিভিন্ন ধরনের হুমকি-ধামকি ও প্রাণনাশের ভয় দেখায়। এ ঘটনার পর আমি গত ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞ আদালতে ওই ব্যক্তিদেরসহ অজ্ঞাতনামা ৫/৬ জনের বিরুদ্ধে ফৌজদারি কার্যবিধির ১০৭/১১৭ ধারায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করি। যার মামলা নম্বর-১৫৪/২০২৬ (রূপসা)।

তিনি বলেন, আমি তাদের বিরুদ্ধে মামলা করায় তারা আরও ক্ষিপ্ত হয়ে গত ৩০ জুন ২০২৬ তারিখ বিকেল আনুমানিক ৫টার দিকে বিবাদী (১) মো. আবু সাঈদ (৪৬), পিতা-মৃত দেলোয়ার হোসেন, সাং-ইলাইপুর; (২) মো. মিলন (২০), পিতা-মো. আবু সাঈদ, সাং-ইলাইপুর; (৩) মো. ইউনুস শেখ (৫৫), পিতা-মৃত আব্দুল গণি শেখ, সাং-নৈহাটি এবং (৪) মো. রাজিব (৩৫), পিতা-মৃত ইন্তাজ শেখ, সাং-ইলাইপুর, থানা-রূপসা, জেলা-খুলনাসহ সংঘবদ্ধ হয়ে আমার বাড়ির সামনে এসে আমার নাম ধরে উচ্চস্বরে গালিগালাজ ও ডাকাডাকি করতে থাকে।

তিনি আরও বলেন, আমি বাড়ি থেকে বের হয়ে তাদের এমন আচরণের কারণ জানতে চাইলে তারা আমাকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে বলে, তোর এক ছেলেকে মাথা ফাটিয়ে জীবনে শেষ করার চেষ্টা করেছি, এবার তোকে ও তোর পরিবারের সবাইকে জীবনের তরে শেষ করে দেব। তুই আমাদের নামে দুটি মামলা করেছিস, মামলা তুলে নিবি। তা না হলে তোদের জানে বাঁচতে দেব না। তুই ভালো করেই জানিস, আমরা কারা।

তিনি বলেন, আমি জীবন বাঁচানোর তাগিদে চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। এরপর থেকে আমি, আমার পরিবারের সদস্যরা এবং আমার দায়ের করা মামলার সাক্ষীরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছি। তাদের জানমালের নিরাপত্তার স্বার্থে আমি রূপসা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছি।

সংবাদ সম্মেলনে এম এম সুজাউদ্দিন বলেন, এ ব্যাপারে প্রশাসন যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে আমি অপূরণীয় ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারি। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় আমি একজন সাবেক সেনা সদস্য হিসেবে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও কলমসৈনিক ভাইদের হস্তক্ষেপ কামনা করছি। আমার মতো একজন ভুক্তভোগীর জীবন ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে—এটাই আমার প্রত্যাশা।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

আইজিপির বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিলো পুলিশ সদরদফতর, ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে

Verified by MonsterInsights

রূপসায় মামলা প্রত্যাহার না করলে প্রাণনাশের হুমকি; চরম নিরাপত্তাহীনতায় সাবেক সেনা সদস্যের পরিবার

আপলোডের সময় : 10:14:47 pm, Monday, 13 July 2026

 

খুলনার রূপসা উপজেলায় প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করায় প্রাণনাশের হুমকি ও নানা ধরনের ভয়ভীতির শিকার হওয়ার অভিযোগ করেছেন এক সাবেক সেনা সদস্য। বিচার ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন তিনি।
জীবননাশের আশঙ্কায় আইনি সহায়তা পেতে দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন বলেও দাবি করেন ভুক্তভোগী।

সোমবার (১৩ জুলাই) দুপুর ১২টায় পূর্ব রূপসায় অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন খুলনা জেলার রূপসা উপজেলার নৈহাটি ইউনিয়নের নৈহাটি শেখ বাড়ির মৃত উহাব আলী শেখের ছেলে এম এম সুজাউদ্দিন (৫১)।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, গত ৮ জুন ২০২৬ তারিখ বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে আমার ছেলে মো. রাসেদুল ইসলাম ওরফে সালভী (১৭)-কে রূপসা উপজেলার ইলাইপুর গ্রামের মো. সাঈদের ছেলে মো. মিলন (২০), মো. ইসরাফিলের ছেলে মো. রোমান (১৯) এবং নৈহাটি গ্রামের মো. ইউনুসের ছেলে মো. রাকিব (২০) সংঘবদ্ধ হয়ে অতর্কিতভাবে মারপিট করে মারাত্মক রক্তাক্ত জখম করে। এতে আমার ছেলে সালভীর মাথায় অস্ত্রোপচার করতে হয় এবং মাথায় ৩২টি সেলাই দেওয়া হয়। মাথায় প্রচণ্ড আঘাতের কারণে তার কথাও বন্ধ হয়ে যায়।

তিনি আরও বলেন, আমার ছেলের মৃত্যুশয্যায় থাকা অবস্থা দেখে আমি আইনি বিচার পাওয়ার লক্ষ্যে ওই ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে গত ৯ জুন ২০২৬ তারিখে রূপসা থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করি। যার মামলা নম্বর-০৪, তারিখ-০৯/০৬/২০২৬ এবং জিআর নং-৮১/২০২৬।”
তিনি অভিযোগ করেন, মামলাটি তুলে নেওয়ার জন্য ওই ব্যক্তিরাসহ অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজন গত ২৭ জুন ২০২৬ তারিখে আমার বাড়ির সামনে এসে আমাকে বিভিন্ন ধরনের হুমকি-ধামকি ও প্রাণনাশের ভয় দেখায়। এ ঘটনার পর আমি গত ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞ আদালতে ওই ব্যক্তিদেরসহ অজ্ঞাতনামা ৫/৬ জনের বিরুদ্ধে ফৌজদারি কার্যবিধির ১০৭/১১৭ ধারায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করি। যার মামলা নম্বর-১৫৪/২০২৬ (রূপসা)।

তিনি বলেন, আমি তাদের বিরুদ্ধে মামলা করায় তারা আরও ক্ষিপ্ত হয়ে গত ৩০ জুন ২০২৬ তারিখ বিকেল আনুমানিক ৫টার দিকে বিবাদী (১) মো. আবু সাঈদ (৪৬), পিতা-মৃত দেলোয়ার হোসেন, সাং-ইলাইপুর; (২) মো. মিলন (২০), পিতা-মো. আবু সাঈদ, সাং-ইলাইপুর; (৩) মো. ইউনুস শেখ (৫৫), পিতা-মৃত আব্দুল গণি শেখ, সাং-নৈহাটি এবং (৪) মো. রাজিব (৩৫), পিতা-মৃত ইন্তাজ শেখ, সাং-ইলাইপুর, থানা-রূপসা, জেলা-খুলনাসহ সংঘবদ্ধ হয়ে আমার বাড়ির সামনে এসে আমার নাম ধরে উচ্চস্বরে গালিগালাজ ও ডাকাডাকি করতে থাকে।

তিনি আরও বলেন, আমি বাড়ি থেকে বের হয়ে তাদের এমন আচরণের কারণ জানতে চাইলে তারা আমাকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে বলে, তোর এক ছেলেকে মাথা ফাটিয়ে জীবনে শেষ করার চেষ্টা করেছি, এবার তোকে ও তোর পরিবারের সবাইকে জীবনের তরে শেষ করে দেব। তুই আমাদের নামে দুটি মামলা করেছিস, মামলা তুলে নিবি। তা না হলে তোদের জানে বাঁচতে দেব না। তুই ভালো করেই জানিস, আমরা কারা।

তিনি বলেন, আমি জীবন বাঁচানোর তাগিদে চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। এরপর থেকে আমি, আমার পরিবারের সদস্যরা এবং আমার দায়ের করা মামলার সাক্ষীরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছি। তাদের জানমালের নিরাপত্তার স্বার্থে আমি রূপসা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছি।

সংবাদ সম্মেলনে এম এম সুজাউদ্দিন বলেন, এ ব্যাপারে প্রশাসন যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে আমি অপূরণীয় ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারি। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় আমি একজন সাবেক সেনা সদস্য হিসেবে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও কলমসৈনিক ভাইদের হস্তক্ষেপ কামনা করছি। আমার মতো একজন ভুক্তভোগীর জীবন ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে—এটাই আমার প্রত্যাশা।