কক্সবাজারে জোয়ারের তোড়ে মেরিন ড্রাইভে ভয়াবহ ভাঙন: ঝুঁকিতে উপকূল, পর্যটন ও জনপদ

কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কে জোয়ারের পানির তীব্র আঘাতে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। সাগরের উত্তাল ঢেউয়ের ক্রমাগত ধাক্কায় সড়কের নিচের মাটি, সুরক্ষাতালিকা এবং জিও ব্যাগ ধসে তলিয়ে যাচ্ছে। ছবিটিতে দেখা যাচ্ছে, সড়কের একটি বিশাল অংশ ভেঙে পুরোপুরি বিলীন হয়ে গেছে, যা এই অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থাকে চরম হুমকির মুখে ফেলেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবেশবাদীরা বলছেন, এটি কেবল একটি সড়কের সাধারণ ক্ষতি নয়। দৃষ্টিনন্দন এই মেরিন ড্রাইভ সড়কটি কক্সবাজারের পর্যটন শিল্পের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ। সড়কটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় পর্যটকদের যাতায়াত যেমন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে, তেমনি উপকূলীয় এলাকার নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে। ভাঙন তীব্র হওয়ায় জোয়ারের লবণাক্ত পানি পূর্ব পাশের চাষের জমিতে ঢুকে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা স্থানীয় কয়েক হাজার কৃষকের জীবিকাকে হুমকির মুখে ফেলেছে।

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট আবহাওয়াগত পরিবর্তনের কারণে জোয়ারের পানির উচ্চতা স্বাভাবিকের চেয়ে কয়েক ফুট বৃদ্ধি পাওয়ায় এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তবে স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা যায়, এর আগে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন ব্যাটালিয়ন (ইসিবি) জিও ব্যাগ ও জিও টিউব দিয়ে অস্থায়ী সুরক্ষার চেষ্টা করলেও তা তীব্র ঢেউয়ের মুখে টিকতে পারছে না।

ভাঙন কবলিত এলাকার বাসিন্দারা গভীর উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন। সড়কটি সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হলে পাশের গ্রামগুলো প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এই জাতীয় ও অর্থনৈতিক গুরুত্বসম্পন্ন সম্পদের সুরক্ষায় এবং উপকূলীয় মানুষের জানমাল রক্ষার্থে সিসি ব্লক স্থাপন কিংবা স্থায়ী ও টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের মাধ্যমে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও সরকারের কাছে জোর দাবি জানানো হয়েছে।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

সাঘাটায় অবৈধ বালু উত্তোলনবিরোধী অভিযান, ড্রেজার মেশিন ও সরঞ্জাম জব্দ

Verified by MonsterInsights

কক্সবাজারে জোয়ারের তোড়ে মেরিন ড্রাইভে ভয়াবহ ভাঙন: ঝুঁকিতে উপকূল, পর্যটন ও জনপদ

আপলোডের সময় : 10:05:33 pm, Saturday, 25 July 2026

কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কে জোয়ারের পানির তীব্র আঘাতে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। সাগরের উত্তাল ঢেউয়ের ক্রমাগত ধাক্কায় সড়কের নিচের মাটি, সুরক্ষাতালিকা এবং জিও ব্যাগ ধসে তলিয়ে যাচ্ছে। ছবিটিতে দেখা যাচ্ছে, সড়কের একটি বিশাল অংশ ভেঙে পুরোপুরি বিলীন হয়ে গেছে, যা এই অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থাকে চরম হুমকির মুখে ফেলেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবেশবাদীরা বলছেন, এটি কেবল একটি সড়কের সাধারণ ক্ষতি নয়। দৃষ্টিনন্দন এই মেরিন ড্রাইভ সড়কটি কক্সবাজারের পর্যটন শিল্পের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ। সড়কটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় পর্যটকদের যাতায়াত যেমন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে, তেমনি উপকূলীয় এলাকার নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে। ভাঙন তীব্র হওয়ায় জোয়ারের লবণাক্ত পানি পূর্ব পাশের চাষের জমিতে ঢুকে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা স্থানীয় কয়েক হাজার কৃষকের জীবিকাকে হুমকির মুখে ফেলেছে।

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট আবহাওয়াগত পরিবর্তনের কারণে জোয়ারের পানির উচ্চতা স্বাভাবিকের চেয়ে কয়েক ফুট বৃদ্ধি পাওয়ায় এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তবে স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা যায়, এর আগে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন ব্যাটালিয়ন (ইসিবি) জিও ব্যাগ ও জিও টিউব দিয়ে অস্থায়ী সুরক্ষার চেষ্টা করলেও তা তীব্র ঢেউয়ের মুখে টিকতে পারছে না।

ভাঙন কবলিত এলাকার বাসিন্দারা গভীর উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন। সড়কটি সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হলে পাশের গ্রামগুলো প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এই জাতীয় ও অর্থনৈতিক গুরুত্বসম্পন্ন সম্পদের সুরক্ষায় এবং উপকূলীয় মানুষের জানমাল রক্ষার্থে সিসি ব্লক স্থাপন কিংবা স্থায়ী ও টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের মাধ্যমে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও সরকারের কাছে জোর দাবি জানানো হয়েছে।