ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রস্তাব, বিনিময়ে হরমুজ প্রণালি উন্মুক্তের শর্ত

মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস দিয়ে ইরানের ওপর আরোপিত সব ধরনের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের একটি প্রস্তাব দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। চ্যানেল আল এরাবিয়ার এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির সম্প্রতি তেহরান সফরকালে ওয়াশিংটনের এই প্রস্তাবটি ইরানি কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন। সফরকালে তিনি ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মহসেন রেজাইয়ের সাথে বৈঠক করেন।

যুক্তরাষ্ট্রের এই প্রস্তাবের মূল শর্ত হলো, বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ জ্বালানি তেল পরিবহনের প্রধান জলপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে অবাধ জাহাজ চলাচলের নিশ্চয়তা দিতে হবে এবং আঞ্চলিক প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোর সব ধরনের আক্রমণ বন্ধ করতে হবে। এর বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র গত ২৪ আগস্ট মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টের ঘোষণা করা ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’ কর্মসূচি স্থগিত বা বাতিল করবে। পাশাপাশি ইরানের ওপর থেকে সব ধরনের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া এবং ইরানি সমুদ্রবন্দরগুলোর ওপর থেকে চলমান নৌ-অবরোধ প্রত্যাহারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ওয়াশিংটন।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের এই নতুন প্রস্তাবের বিপরীতে তেহরান এখনো তাদের পূর্বের অবস্থানে অনড় রয়েছে। ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা এ বিষয়ে নিজেদের অভ্যন্তরীণ আলোচনা চালিয়ে যাবে। তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ৩০০ বিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দাবি করছে। একই সাথে তারা যুক্তরাষ্ট্রের সমস্ত নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি প্রত্যাহার, বিদেশে আটকে থাকা ১০০ থেকে ১২৩ বিলিয়ন ডলারের ইরানি সম্পদ মুক্ত করা, নৌ-অবরোধ তুলে নেওয়া, পুরো মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চল থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার এবং লেবানন ও গাজাসহ পুরো অঞ্চলে সার্বিক যুদ্ধবিরতি কার্যকরের দাবি জানিয়েছে।

উল্লেখ্য যে, গত ২৪ আগস্ট মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট ইরানের বিরুদ্ধে অত্যন্ত কঠোর সেকেন্ডারি-নিষেধাজ্ঞা কর্মসূচি হিসেবে ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’ উন্মোচন করেছিলেন। বর্তমান এই কূটনৈতিক তৎপরতা সেই কঠোর অবস্থানের বিপরীতে একটি নতুন মোড় হিসেবে দেখা হচ্ছে, যদিও ইরান তাদের দীর্ঘদিনের দাবিগুলো থেকে সরে আসার কোনো ইঙ্গিত এখনো দেয়নি।

জনপ্রিয় সংবাদ

রেলওয়ের ৯৬ লাখ টাকা আত্মসাৎ: ১৪ জনের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

Verified by MonsterInsights

ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রস্তাব, বিনিময়ে হরমুজ প্রণালি উন্মুক্তের শর্ত

আপলোডের সময় : 11:34:13 am, Friday, 28 August 2026

মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস দিয়ে ইরানের ওপর আরোপিত সব ধরনের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের একটি প্রস্তাব দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। চ্যানেল আল এরাবিয়ার এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির সম্প্রতি তেহরান সফরকালে ওয়াশিংটনের এই প্রস্তাবটি ইরানি কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন। সফরকালে তিনি ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মহসেন রেজাইয়ের সাথে বৈঠক করেন।

যুক্তরাষ্ট্রের এই প্রস্তাবের মূল শর্ত হলো, বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ জ্বালানি তেল পরিবহনের প্রধান জলপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে অবাধ জাহাজ চলাচলের নিশ্চয়তা দিতে হবে এবং আঞ্চলিক প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোর সব ধরনের আক্রমণ বন্ধ করতে হবে। এর বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র গত ২৪ আগস্ট মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টের ঘোষণা করা ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’ কর্মসূচি স্থগিত বা বাতিল করবে। পাশাপাশি ইরানের ওপর থেকে সব ধরনের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া এবং ইরানি সমুদ্রবন্দরগুলোর ওপর থেকে চলমান নৌ-অবরোধ প্রত্যাহারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ওয়াশিংটন।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের এই নতুন প্রস্তাবের বিপরীতে তেহরান এখনো তাদের পূর্বের অবস্থানে অনড় রয়েছে। ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা এ বিষয়ে নিজেদের অভ্যন্তরীণ আলোচনা চালিয়ে যাবে। তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ৩০০ বিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দাবি করছে। একই সাথে তারা যুক্তরাষ্ট্রের সমস্ত নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি প্রত্যাহার, বিদেশে আটকে থাকা ১০০ থেকে ১২৩ বিলিয়ন ডলারের ইরানি সম্পদ মুক্ত করা, নৌ-অবরোধ তুলে নেওয়া, পুরো মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চল থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার এবং লেবানন ও গাজাসহ পুরো অঞ্চলে সার্বিক যুদ্ধবিরতি কার্যকরের দাবি জানিয়েছে।

উল্লেখ্য যে, গত ২৪ আগস্ট মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট ইরানের বিরুদ্ধে অত্যন্ত কঠোর সেকেন্ডারি-নিষেধাজ্ঞা কর্মসূচি হিসেবে ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’ উন্মোচন করেছিলেন। বর্তমান এই কূটনৈতিক তৎপরতা সেই কঠোর অবস্থানের বিপরীতে একটি নতুন মোড় হিসেবে দেখা হচ্ছে, যদিও ইরান তাদের দীর্ঘদিনের দাবিগুলো থেকে সরে আসার কোনো ইঙ্গিত এখনো দেয়নি।