
দখলীকৃত পশ্চিমতীরে ইসরাইলের অবৈধ বসতি সম্প্রসারণের পরিকল্পনা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা তুঙ্গে। এই বসতি স্থাপনের নিন্দা জানিয়ে বৃটিশ সরকার এখন কঠোর পদক্ষেপ হিসেবে নিষেধাজ্ঞার কথা বিবেচনা করছে। বৃটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড জানিয়েছেন, ইসরাইল আন্তর্জাতিক নীতির লাল সীমা অতিক্রম করছে। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ইসরাইলের বিষয়ে বৃটেনের নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের পরিকল্পনা রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
এই পরিস্থিতির জবাবে ইসরাইলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদিয়ন সার হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, বৃটেন যদি কোনো নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে, তবে ইসরাইলও পাল্টা ব্যবস্থা নেবে। ইসরাইলি সংবাদমাধ্যমকে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, বৃটেনের এমন পদক্ষেপ হবে একটি বড় ধরনের ভুল। দুই দেশের এই পাল্টাপাল্টি অবস্থান আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম হাউস অব কমন্সে সতর্ক করে বলেছেন, বিতর্কিত ই-১ বসতি নিয়ে ইসরাইলের সিদ্ধান্ত ফিলিস্তিনের সঙ্গে দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের সম্ভাবনাকে চিরতরে শেষ করে দিতে পারে। বিশেষ করে অক্টোবরের সাধারণ নির্বাচনের আগে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সরকার যদি এই প্রকল্প এগিয়ে নেয়, তবে তা মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি প্রক্রিয়াকে বিপন্ন করবে। বৃটিশ সরকার ই-১ প্রকল্পকে আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী বলে অভিহিত করেছে, কারণ এটি বাস্তবায়িত হলে পশ্চিম তীর থেকে পূর্ব জেরুজালেম বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে।
লেবার পার্টির এমপি ডেবি আব্রাহামসের এক প্রশ্নের জবাবে বার্নহাম জানান, ই-১ বসতি স্থাপনের বিষয়ে ইসরাইলের সাম্প্রতিক বক্তব্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক। দ্রুত দরপত্র আহ্বানের মাধ্যমে এই প্রক্রিয়া এগিয়ে নেয়া হচ্ছে, যা দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। সরকার এই বিষয়ে খুব শিগগিরই পার্লামেন্টে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড স্পষ্ট করেছেন যে, দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান প্রক্রিয়া ধ্বংস করার কোনো প্রচেষ্টা বৃটেন মেনে নেবে না। তিনি বলেন, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে একটি সমন্বিত পদক্ষেপের প্যাকেজ ঘোষণা করা হবে। এই প্রক্রিয়ায় আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের (আইসিজে) রায়ে উঠে আসা বসতি স্থাপনের বৈধতার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে।
এদিকে বৃটিশ মন্ত্রী স্টিফেন ডাউটি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, নীতি পরিবর্তনের অংশ হিসেবে পশ্চিম তীরের অবৈধ বসতি থেকে আসা পণ্যের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হতে পারে। তিনি বসতিস্থাপনকারীদের সহিংসতা ও সন্ত্রাসবাদের তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, ই-১ প্রকল্পের প্রস্তাবসহ সব ধরনের অবৈধ বসতি স্থাপনের কার্যক্রম অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। বৃটেন বিশ্বের অন্যান্য দেশের সঙ্গে একাত্ম হয়ে ইসরাইলকে এই বার্তা দিয়েছে যে, তাদের এই কর্মকাণ্ড অবশ্যই থামানো প্রয়োজন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ই-১ প্রকল্পের প্রস্তাব এবং সব অবৈধ বসতিরও আমরা নিন্দা জানিয়েছি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এ খবর দিয়েছে অনলাইন দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: হাউসের উভয় পক্ষের অনেক সদস্য শুধু বাণিজ্যের বিষয়েই নয়, বরং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য দিয়েছেন।