
মঙ্গলবার রাতে ইরানের বিভিন্ন অঞ্চলে বড় ধরনের সামরিক হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন এই হামলায় শিশুসহ বেশ কয়েকজন নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন অন্তত ৫০ জন। তুর্কি সংবাদমাধ্যম আনাদোলু এবং ইরানের আধা সরকারি বার্তা সংস্থা ফার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দক্ষিণ ইরানের সিরিক শহরে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে মার্কিন হামলায় অন্তত দুজন নিহত ও ২০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
সিরিক শহর ছাড়াও ইরানের কোনারাক কাউন্টি, জাস্ক এবং বন্দর লেঙ্গেহ শহর মার্কিন হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি জানিয়েছে, কেশম দ্বীপের মাসান গ্রামের আশপাশে পাঁচটির বেশি এবং হরমুজ প্রণালির দিক থেকে অন্তত চারটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, তাদের বাহিনী মূলত ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্য করে এই অভিযান পরিচালনা করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের এই হামলার পরপরই পাল্টা আক্রমণ শুরু করে ইরান। আইআরজিসি জানিয়েছে, অপারেশন থান্ডার নামক সামরিক অভিযানের ২৯তম ধাপের অংশ হিসেবে তারা এই পাল্টা হামলা চালিয়েছে। আইআরজিসির দাবি অনুযায়ী, জর্ডানের প্রিন্স হাসান বিমানঘাঁটিতে দীর্ঘপাল্লার আরকিউ ফোর এবং এমকিউ নাইন ড্রোন রাখা হ্যাঙ্গারগুলো লক্ষ্য করে তারা ভারী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। এই হামলায় বেশ কয়েকটি মার্কিন ড্রোন ধ্বংস হওয়ার পাশাপাশি কয়েকজন আমেরিকান ফ্লাইট ও কারিগরি কর্মী নিহত হয়েছেন বলে আইআরআইবির বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে।
জর্ডানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ইরানি ভূখণ্ড থেকে ছোড়া ১৩টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তাদের আকাশসীমায় প্রবেশ করেছিল। এর মধ্যে ১০টি ক্ষেপণাস্ত্র আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে মাঝপথেই ধ্বংস করা হয়েছে। বাকি তিনটি ক্ষেপণাস্ত্র লোকালয় থেকে দূরে প্রত্যন্ত অঞ্চলে পড়ায় কোনো ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেনি।
ইরাকের এরবিল প্রদেশে অবস্থিত মার্কিন স্থাপনাতেও সমন্বিত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে আইআরজিসি। তাদের দাবি, এই হামলায় একটি মেরামত কেন্দ্র, কারিগরি সরঞ্জামের গুদাম এবং মার্কিন নজরদারি বেলুনের গাইডেন্স সিস্টেম ধ্বংস হয়েছে। এছাড়া ঘাঁটির জ্বালানি ট্যাংকে আগুন ধরে যাওয়া এবং বেশ কয়েকজন মার্কিন সেনার মৃত্যুর কথাও জানিয়েছে আইআরজিসি।
এদিকে কুয়েতের সশস্ত্র বাহিনী এক বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছে যে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শত্রু ড্রোন প্রতিহত করেছে। একইসঙ্গে বাহরাইনের শেখ ঈসা বিমানঘাঁটিতে মার্কিন সেনা মোতায়েন থাকা এলাকাতেও ইরান হামলা চালিয়েছে বলে দেশটির সেনাবাহিনীর বরাতে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা তাসনিম। সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি বর্তমানে অত্যন্ত উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: পাল্টাপাল্টি এই হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে যুদ্ধ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সাধারণ মানুষের ওপর এমন হামলার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এছাড়া হরমুজগান প্রদেশের দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দরনগরী বন্দর আব্বাসের পূর্ব দিকে বেশ কয়েকটি শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এসব লক্ষ্যের মধ্যে রয়েছে আকাশ প্রতিরক্ষা স্থাপনা, রাডার ব্যবস্থা, সামুদ্রিক সম্পদ ও স্থাপনা, মাইন স্থাপনের সক্ষমতা এবং সামরিক যোগাযোগ অবকাঠামো। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার কড়া জবাব দিতে দেরি করেনি ইরান। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: মঙ্গলবার রাতেই উপসাগরীয় অঞ্চলের জর্ডান, ইরাক, কুয়েত ও বাহরাইনে থাকা মার্কিন সামরিক অবস্থানগুলোতে একযোগে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইরানের আইআরজিসি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তবে যুক্তরাষ্ট্র তাদের কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের বিষয়টি পুরোপুরি অস্বীকার করেছে।