
ভয়াবহ বন্যায় পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যাওয়া নেপাল ও চীন সীমান্তের অন্যতম প্রধান যোগাযোগ মাধ্যম গিরং সীমান্ত ক্রসিংয়ের সড়কটি মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যে পুনর্নির্মাণ করেছে চীন। বুধবার থেকে সড়কটি যান চলাচলের জন্য পুরোপুরি উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি জানিয়েছে, এই দ্রুত সংস্কারের ফলে দুর্গত এলাকায় ভারী যন্ত্রপাতি ও উদ্ধারকারী দল পাঠানো এখন অনেক সহজতর হয়েছে, যা সামগ্রিক উদ্ধার তৎপরতায় নতুন গতি সঞ্চার করেছে।
গত সপ্তাহে হিমবাহ ধসের ফলে বরফ, পাথর ও কাদার প্রবল স্রোতে গিরং সীমান্ত ক্রসিং এবং এর সাথে যুক্ত বিস্তীর্ণ সড়কপথ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। এতে ওই অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিল। তবে চীনের দ্রুত পদক্ষেপের ফলে এখন ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রম জোরদার করা সম্ভব হচ্ছে।
এদিকে নেপালে চলমান প্রাকৃতিক দুর্যোগের পর উদ্ধার অভিযান পুরোদমে অব্যাহত রয়েছে। দেশটির সেনাবাহিনীর তথ্যমতে, বৈরী আবহাওয়া ও দুর্গম পথের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে হেলিকপ্টারসহ বিভিন্ন আকাশযানের সহায়তায় নতুন করে আরও ১১৮ জনকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধারকর্মীদের নিরলস প্রচেষ্টায় এখন পর্যন্ত মোট ১১ হাজারের বেশি মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়েছে।
তবে উদ্ধার অভিযানের মাঝেও বড় ধরনের শঙ্কা রয়ে গেছে। ত্রিশূলী নদীর তীরবর্তী জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলোর ভূগর্ভস্থ টানেলে এখনো ৬০০ জনের বেশি শ্রমিক আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। কাঠমান্ডুর মেয়র বালেন্দ্র শাহ জানিয়েছেন, দুর্যোগের পর থেকে এখন পর্যন্ত এসব জলবিদ্যুৎ প্রকল্প এলাকা থেকে ২৭৯ জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। বর্তমানে নেপাল, ভারত ও চীনের যৌথ উদ্ধারকারী দল একযোগে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
নেপাল সরকারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই ভয়াবহ দুর্যোগের পর দেশটিতে এখন পর্যন্ত ৪২ কোটি মার্কিন ডলারের বেশি আর্থিক সহায়তা পৌঁছেছে। সাম্প্রতিক বন্যা ও ভূমিধসে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ স্মরণকালের ভয়াবহতাকে ছাড়িয়ে গেছে এবং সরকারি হিসাবে মৃতের সংখ্যা এক হাজার দুইশ ছাড়িয়েছে। দুর্যোগ মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় নেপালের পাশে দাঁড়িয়েছে; চীন নিখোঁজদের শনাক্ত করতে ডিএনএ বিশেষজ্ঞ দল ও বিশেষ সরঞ্জাম পাঠিয়েছে।
কাঠমান্ডুর মেয়র বালেন্দ্র শাহ এই পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, এই দুর্যোগ হিমালয় অঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তনের ক্রমবর্ধমান ও ভয়াবহ ঝুঁকিকে আরও একবার স্পষ্টভাবে সামনে নিয়ে এসেছে। হিমালয় অঞ্চলে এমন ভয়াবহ দুর্যোগের পেছনে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবকেই প্রধান কারণ হিসেবে দায়ী করছেন বিশেষজ্ঞরা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তবে আশার কথা হলো, উদ্ধারকর্মীদের নিরলস প্রচেষ্টায় এখন পর্যন্ত ১১ হাজারের বেশি মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: নিখোঁজ রয়েছেন প্রায় পাঁচ হাজার মানুষ, যাদের মধ্যে বেশ কয়েকজন বিদেশি নাগরিকও রয়েছেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: প্রতিবেশী দেশ চীন ইতোমধ্যে নিখোঁজদের শনাক্ত করতে ডিএনএ পরীক্ষার বিশেষজ্ঞ দল, দুর্গম এলাকায় অনুসন্ধানের জন্য অত্যাধুনিক ড্রোন এবং দুর্গত মানুষের জন্য পানি পরিশোধন সরঞ্জামসহ অতিরিক্ত সহায়তা পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে।