1. reporter@youthtvnewsbd.com : reporter :
  2. youthtvnews2019@gmail.com : youthttvnews24 :
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় দুই স্বাস্থ্যকর্মীর হাতে সাড়ে ১০ হাজারের বেশি শিশুর স্বাভাবিক জন্ম - Youth Tv news
নোটিশ
ইয়ুথ টেলিভিশন এ বাংলাদেশের সকল জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সংবাদকর্মী নিয়োগ চলছে। এছাড়াও জেলা ব্যুরো প্রধান, বিভাগীয় ব্যুরো প্রধান, স্টাফ রিপোর্টার, ক্যাম্পাস  প্রতিনিধি, মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার নিয়োগ চলছে। আগ্রহীগণ জীবনবৃত্তান্ত, পাসপোর্ট সাইজের ছবি, ভোটার আইডি কার্ডের কপি, নাগরিক সনদের কপি ও সকল শিক্ষাগত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার সনদ (যদি থাকে) সহ যোগাযোগ করার জন্য অনুরোধ করা হলো। মোবাইল: ০১৪০৯-৯৯০৪০০, ০১৯৭২-০৮৪৬৯৬।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় দুই স্বাস্থ্যকর্মীর হাতে সাড়ে ১০ হাজারের বেশি শিশুর স্বাভাবিক জন্ম

স্টাফ রিপোর্টারঃ
  • আপডেট সময়ঃ বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ৪ বার

প্রসবের জটিল মুহূর্তে গভীর রাত কিংবা ভোরের আলো—সব সময়ই প্রসূতি মায়েদের পাশে দাঁড়িয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার দুই নিবেদিতপ্রাণ স্বাস্থ্যকর্মী। বাঞ্ছারামপুর উপজেলার দরিয়াদৌলত ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ কেন্দ্রের পরিবারকল্যাণ পরিদর্শিকা নাজমা আক্তার এবং বিজয়নগরের পাহাড়পুর ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ কেন্দ্রের পরিবারকল্যাণ পরিদর্শিকা শিরিনা চৌধুরী দীর্ঘ কর্মজীবনে সাড়ে ১০ হাজারের বেশি শিশুর স্বাভাবিক প্রসব নিশ্চিত করেছেন। তাঁদের এই অসামান্য সেবায় মায়েদের কাছে তাঁরা এখন আস্থার প্রতীক হয়ে উঠেছেন।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, নাজমা আক্তার গত ১২ বছরে প্রায় তিন হাজার এবং শিরিনা চৌধুরী গত ৩৪ বছরে সাড়ে সাত হাজারের বেশি স্বাভাবিক প্রসব করিয়েছেন। নাজমা আক্তার ২০১৪ সালের ১০ ডিসেম্বর চাকরিতে যোগ দেন। ২০১৯ সালে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ছয় মাসের মিডওয়াইফারি প্রশিক্ষণের পর তাঁর কর্মদক্ষতা ও সুনাম আরও বৃদ্ধি পায়। বর্তমানে বাঞ্ছারামপুরের পাশাপাশি নবীনগর উপজেলা, নরসিংদী এবং কুমিল্লার হোমনা থেকেও প্রসূতিরা তাঁর কাছে সেবা নিতে আসেন।

বাঞ্ছারামপুর উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয় ও দরিয়াদৌলত স্বাস্থ্যকেন্দ্রের তথ্যমতে, গত সাড়ে পাঁচ বছরে নাজমা আক্তারের তত্ত্বাবধানে স্বাভাবিক প্রসবের হার সবচেয়ে বেশি। ২০২১ সালের জানুয়ারি থেকে চলতি বছরের জুলাই পর্যন্ত তাঁর সহায়তায় ২ হাজার ৪৪১টি শিশুর স্বাভাবিক জন্ম হয়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত সাত মাসে তিনি ২৮০ জন প্রসূতিকে সেবা দিয়েছেন। নাজমা জানান, এক দিনে তিনি সর্বোচ্চ ছয়টি প্রসব করিয়েছেন এবং এ পর্যন্ত ১৫ জোড়া যমজ শিশুর জন্ম হয়েছে তাঁর তত্ত্বাবধানে।

নাজমা আক্তার বলেন, ‘টানা কাজের চাপে অনেক সময় ক্লান্ত হয়ে পড়ি, কিন্তু একটি সুস্থ নবজাতকের মুখ দেখলে সব ক্লান্তি দূর হয়ে যায়। বর্তমানে প্রতি মাসে গড়ে ৪০ থেকে ৪৫টি স্বাভাবিক প্রসবে সহায়তা করছি। ২০১৯ সালে মিডওয়াইফারি প্রশিক্ষণের পর থেকে মানুষের আস্থা ও আমার কাজের পরিধি দুটোই বেড়েছে।’ ২০২২ সাল থেকে টানা উপজেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ পরিবারকল্যাণ পরিদর্শিকা এবং ২০২৪ ও ২০২৫ সালসহ চলতি বছরে জেলার শ্রেষ্ঠ পরিবারকল্যাণ পরিদর্শিকা নির্বাচিত হয়েছেন তিনি।

অন্যদিকে, বিজয়নগরের পাহাড়পুর স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ১৯৯২ সালের জুন মাসে যোগ দেন শিরিনা চৌধুরী। ১৯৯২ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত মাসে ৮-৯টি এবং ২০১০ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ২৫-৩০টি প্রসব করিয়েছেন তিনি। সব মিলিয়ে ৩৪ বছরে তাঁর হাতে ৭ হাজার ৫৭৩টি স্বাভাবিক প্রসব সম্পন্ন হয়েছে। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে এক মাসে ৪৭টি প্রসব করিয়ে তিনি রেকর্ড গড়েন। পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সালের জানুয়ারি থেকে চলতি বছরের জুলাই পর্যন্ত বিজয়নগরের ১০টি কেন্দ্রে ৫ হাজার ৫৫২টি স্বাভাবিক প্রসবের মধ্যে ২ হাজার ৪৩৯টিই হয়েছে শিরিনার তত্ত্বাবধানে।

শিরিনা চৌধুরী বলেন, ‘শুরুতে বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রসূতিদের উদ্বুদ্ধ করতে হতো। এখন সচেতনতা বাড়ায় দূরদূরান্ত থেকে মায়েদের ভিড় বাড়ে। অনেক নির্ঘুম রাত কেটেছে, কিন্তু নবজাতকের সুস্থ পৃথিবীতে আসার আনন্দ সব কষ্ট ভুলিয়ে দেয়।’ ২০১০ সাল থেকে এখন পর্যন্ত তিনি উপজেলার শ্রেষ্ঠ পরিবারকল্যাণ পরিদর্শিকা এবং তাঁর স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি শ্রেষ্ঠত্বের মর্যাদা ধরে রেখেছে। এছাড়া ২০১৫ সালে জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ পরিবারকল্যাণ পরিদর্শিকা এবং ২০১৮ সালে উপজেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ জয়িতা পুরস্কার পেয়েছেন তিনি।

উভয় স্বাস্থ্যকর্মীই জানান, কোনো প্রসূতির শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন মনে হলে তাঁরা ঝুঁকি না নিয়ে দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স বা উন্নত হাসপাতালে পাঠানোর পরামর্শ দেন। স্বাভাবিক প্রসবের সময় স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সামনে অ্যাম্বুলেন্স প্রস্তুত রাখার ওপরও তাঁরা জোর দেন।

জেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের উপপরিচালক ইফতেখার আহমেদ চৌধুরী বলেন, শিরিনা চৌধুরী ও নাজমা আক্তার স্বাভাবিক প্রসবে জেলায় অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তাঁদের এই সেবামূলক কার্যক্রমকে সাধুবাদ জানিয়ে অবস্টেট্রিক্যাল অ্যান্ড গাইনোকোলজিক্যাল সোসাইটি অব বাংলাদেশের (ওজিএসবি) সাবেক সভাপতি রওশন আরা বেগম বলেন, ‘তাঁদের এই নিরলস প্রচেষ্টাকে আমরা স্যালুট জানাই। সারা দেশে স্বাভাবিক প্রসবের এই ধারা অব্যাহত থাকুক, এটাই আমাদের প্রত্যাশা।’ প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ২০২১ সালের জানুয়ারি থেকে চলতি বছরের জুলাই পর্যন্ত সময়ে তাঁর তত্ত্বাবধানে ২ হাজার ৪৪১ শিশুর স্বাভাবিক জন্ম হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: গত ১৬ জুন দরিয়াদৌলত স্বাস্থ্যকেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায় নাজমার কক্ষে রোগীর ভিড়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: প্রসববেদনায় কাতর মায়ের পাশে কখনো গভীর রাতে, কখনো ভোরের আগে ছুটে যেতে হয়েছে তাঁদের। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: নাজমা আক্তার উপজেলার ছয়ফুল্লাহকান্দি ইউনিয়নের ফতেহপুর গ্রামের বাসিন্দা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: পাশের কক্ষে প্রসবব্যথা নিয়ে অপেক্ষা করছিলেন এক প্রসূতি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আগের দিন বিকেল থেকে পরবর্তী ১৭ ঘণ্টায় পাঁচটি স্বাভাবিক প্রসব করান তিনি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কিন্তু একটি সুস্থ নবজাতক পৃথিবীর আলো দেখার পর সেই ক্লান্তি আর থাকে না।

শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো দেখুন...

Copyright © All rights reserved © 2017 Youth Television News.
Verified by MonsterInsights