
বেসরকারি খাতের ব্যাংকগুলোতে এন্ট্রি পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ ও মেধাভিত্তিক করতে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন থেকে এসব পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ (বিআরপিডি) থেকে এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, যেসব পদে পূর্ব অভিজ্ঞতার প্রয়োজন নেই, যেমন ম্যানেজমেন্ট ট্রেইনি অফিসার, সিনিয়র অফিসার, প্রবেশনারি অফিসার, ট্রেইনি অ্যাসিস্ট্যান্ট অফিসার, জুনিয়র অফিসার ও ক্যাশ অফিসারসহ সমপর্যায়ের পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে সব প্রার্থীর জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি অবশ্যই ব্যাংকের নিজস্ব ওয়েবসাইট ও চাকরির পোর্টালের পাশাপাশি অন্তত দুটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশ করতে হবে।
নিয়োগের ক্ষেত্রে সশরীরে উপস্থিতি অথবা অনলাইনে নৈর্ব্যক্তিক বা লিখিত পরীক্ষা গ্রহণ করতে হবে। এরপর মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে চূড়ান্ত প্রার্থী বাছাই করতে হবে। অভিজ্ঞ প্রার্থীদের উচ্চতর পদে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রেও অন্তত মৌখিক পরীক্ষাসহ প্রতিযোগিতামূলক প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে।
নতুন নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যোগদানের এক বছরের মধ্যে তাদের সর্বশেষ শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ড বা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে যাচাই করতে হবে। এছাড়া বর্তমানে কর্মরতদের শিক্ষাগত সনদের সত্যতা আগামী ৩১ মার্চ ২০২৭-এর মধ্যে সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পদোন্নতি বা আর্থিক সুবিধা পাওয়ার জন্য জমা দেওয়া যেকোনো পেশাগত বা নতুন সনদের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য হবে।
চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের ক্ষেত্রেও সনদ যাচাইয়ের নিয়ম অপরিবর্তিত থাকবে। যদি কোনো কর্মীর সনদ ভুয়া বা জাল প্রমাণিত হয়, তবে তার বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। তবে অন্য ব্যাংক থেকে উচ্চতর পদে যোগ দেওয়া কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে আগের ব্যাংক থেকে সনদ যাচাইয়ের প্রত্যয়নপত্র থাকলে নতুন করে যাচাইয়ের প্রয়োজন নেই, তবে অব্যাহতিপত্রে সনদের বিস্তারিত উল্লেখ থাকতে হবে।
প্রতিটি ব্যাংককে আগামী ৩১ মার্চ ২০২৭-এর মধ্যে পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন সাপেক্ষে যুগোপযোগী ও সমন্বিত মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা নীতিমালা প্রণয়ন বা হালনাগাদ করতে বলা হয়েছে। এই নীতিমালায় নিয়োগ, পদোন্নতি, ছুটি, আচরণবিধি, শৃঙ্খলাজনিত ব্যবস্থা, স্বার্থের সংঘাত নিরসন, হুইসেলব্লোয়ার নীতি, অভিযোগ নিষ্পত্তি ও যৌন হয়রানি প্রতিরোধসহ মোট ১৮টি বিষয় অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, ব্যাংকিং খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা, গ্রাহকের আস্থা বৃদ্ধি এবং মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতেই এই নতুন নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। চাকরির আরও তথ্য: পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে যোগ্য ও মেধাবী প্রার্থীদের নিয়োগ দিতে হবে।
প্রতিনিধির নাম 

























