যুক্তরাষ্ট্রে আইসিই হেফাজতে চিকিৎসায় অবহেলায় মেক্সিকান যুবকের মৃত্যু, বিচারের দাবি পরিবারের

যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) বা আইস-এর একটি ডিটেনশন সেন্টারে আটক থাকা অবস্থায় ২৯ বছর বয়সী এক মেক্সিকান যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। নর্থ ক্যারোলাইনার ডারহামের বাসিন্দা প্রিসিলিয়ানো মাত্র তিন বছর বয়সে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমিয়েছিলেন। গত ১৯ জুন তাকে গ্রেপ্তার করে জর্জিয়ার স্টুয়ার্ট ডিটেনশন সেন্টারে পাঠানো হয়।

পরিবারের অভিযোগ, হেফাজতে থাকাকালীন তাকে ন্যূনতম চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত করা হয়েছিল। এমনকি নিজের ২৯তম জন্মদিনে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তিনি লিখেছিলেন যে, তীব্র গলাব্যথা, রক্তকাশি এবং মাইগ্রেনের যন্ত্রণায় ভুগলেও কর্তৃপক্ষ তাকে কোনো ওষুধ দেয়নি। তার ভাষ্যমতে, ডিটেনশন সেন্টারের কর্তৃপক্ষের কাছে বন্দিরা কেবলই একটি ‘সংখ্যা’ মাত্র।

গত ১৬ জুলাই আইনজীবীর মাধ্যমে পরিবার জানতে পারে যে, প্রিসিলিয়ানোকে জর্জিয়ার অগাস্টার একটি হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) ভর্তি করা হয়েছে। সেখানে চিকিৎসকরা জানান, তিনি অ্যাকিউট লিউকেমিয়া বা ব্লাড ক্যানসারে আক্রান্ত ছিলেন। লাইফ সাপোর্টে থাকা অবস্থায় অবশেষে ২৪ জুলাই তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুর ঠিক আগে তাকে আইস হেফাজত থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে মুক্তি দেওয়া হয়েছিল, যার ফলে সরকারি পরিসংখ্যানে এই মৃত্যুকে ‘হেফাজতে মৃত্যু’ হিসেবে দেখানো হচ্ছে না। এই বিষয়টি নিয়ে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।

পরিবারের দাবি, ডিটেনশন সেন্টারে যদি তিনি সঠিক সময়ে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা পেতেন, তবে হয়তো তাকে এভাবে অকালে প্রাণ হারাতে হতো না। এই ঘটনায় মানবাধিকার কর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। প্রিসিলিয়ানোর পরিবার এখন আইস-এর জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার এবং এই মর্মান্তিক অবহেলার সুষ্ঠু বিচার দাবি করছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

রেলওয়ের ৯৬ লাখ টাকা আত্মসাৎ: ১৪ জনের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

Verified by MonsterInsights

যুক্তরাষ্ট্রে আইসিই হেফাজতে চিকিৎসায় অবহেলায় মেক্সিকান যুবকের মৃত্যু, বিচারের দাবি পরিবারের

আপলোডের সময় : 09:19:07 am, Thursday, 10 September 2026

যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) বা আইস-এর একটি ডিটেনশন সেন্টারে আটক থাকা অবস্থায় ২৯ বছর বয়সী এক মেক্সিকান যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। নর্থ ক্যারোলাইনার ডারহামের বাসিন্দা প্রিসিলিয়ানো মাত্র তিন বছর বয়সে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমিয়েছিলেন। গত ১৯ জুন তাকে গ্রেপ্তার করে জর্জিয়ার স্টুয়ার্ট ডিটেনশন সেন্টারে পাঠানো হয়।

পরিবারের অভিযোগ, হেফাজতে থাকাকালীন তাকে ন্যূনতম চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত করা হয়েছিল। এমনকি নিজের ২৯তম জন্মদিনে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তিনি লিখেছিলেন যে, তীব্র গলাব্যথা, রক্তকাশি এবং মাইগ্রেনের যন্ত্রণায় ভুগলেও কর্তৃপক্ষ তাকে কোনো ওষুধ দেয়নি। তার ভাষ্যমতে, ডিটেনশন সেন্টারের কর্তৃপক্ষের কাছে বন্দিরা কেবলই একটি ‘সংখ্যা’ মাত্র।

গত ১৬ জুলাই আইনজীবীর মাধ্যমে পরিবার জানতে পারে যে, প্রিসিলিয়ানোকে জর্জিয়ার অগাস্টার একটি হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) ভর্তি করা হয়েছে। সেখানে চিকিৎসকরা জানান, তিনি অ্যাকিউট লিউকেমিয়া বা ব্লাড ক্যানসারে আক্রান্ত ছিলেন। লাইফ সাপোর্টে থাকা অবস্থায় অবশেষে ২৪ জুলাই তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুর ঠিক আগে তাকে আইস হেফাজত থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে মুক্তি দেওয়া হয়েছিল, যার ফলে সরকারি পরিসংখ্যানে এই মৃত্যুকে ‘হেফাজতে মৃত্যু’ হিসেবে দেখানো হচ্ছে না। এই বিষয়টি নিয়ে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।

পরিবারের দাবি, ডিটেনশন সেন্টারে যদি তিনি সঠিক সময়ে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা পেতেন, তবে হয়তো তাকে এভাবে অকালে প্রাণ হারাতে হতো না। এই ঘটনায় মানবাধিকার কর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। প্রিসিলিয়ানোর পরিবার এখন আইস-এর জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার এবং এই মর্মান্তিক অবহেলার সুষ্ঠু বিচার দাবি করছে।