
যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়ার অপেক্ষায় রয়েছে ইরান। সোমবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে অংশ নেওয়ার ফাঁকে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, তেহরান আশা করছে খুব দ্রুতই এ বিষয়ে মার্কিন সাড়া পাওয়া যাবে। মধ্যস্থতাকারীদের সহায়তায় ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে বর্তমানে পরোক্ষ যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে এবং চলতি সপ্তাহে এ নিয়ে আরও আলোচনার সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে নতুন করে সংঘাত শুরু হলে তা মোকাবিলার প্রস্তুতিও রয়েছে তেহরানের।
আরাগচি জানান, সংকটের মূল কেন্দ্রবিন্দু হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া এবং সামগ্রিক উত্তেজনা নিরসনে ইরান একটি যৌক্তিক ও ন্যায্য প্রস্তাব উত্থাপন করেছে। এই প্রস্তাবের আওতায় সাত দিনের একটি সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। নির্দিষ্ট কিছু মার্কিন পদক্ষেপ বাস্তবায়নের পর তেহরান হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক নৌ চলাচল উন্মুক্ত করতে প্রস্তুত। তবে এর বিনিময়ে ইরান মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, জব্দকৃত সম্পদ অবমুক্তকরণ এবং নৌ অবরোধ তুলে নেওয়ার দাবি জানিয়েছে। এদিকে আরাগচি জানিয়েছেন, ইরান কূটনৈতিক সমাধানের চেষ্টা চালিয়ে যেতে প্রস্তুত। তবে পরিকল্পনাটি বাস্তবায়নের আগে যুক্তরাষ্ট্রকে কয়েকটি শর্ত পূরণ করতে হবে।
নিজেদের পরিকল্পনার পাশাপাশি কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে নিয়মিত বার্তা আদান-প্রদান চলছে বলে জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি উল্লেখ করেন, কাতার আলোচনার টেবিলে মতপার্থক্য কমানোর জন্য কিছু নতুন প্রস্তাবও তুলে ধরেছে। আরাগচির দাবি, কূটনীতির পথ এখনো খোলা রয়েছে এবং ইরান আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধানে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এসব শর্ত যুক্তরাষ্ট্রসহ সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর কাছে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে।
তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রাথমিকভাবে ইরানের এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন। এছাড়া জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ দাবি করেছেন যে, পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কোনো ধরনের আলোচনার আগেই ইরান নিষেধাজ্ঞা থেকে ছাড় এবং জব্দ করা সম্পদ ফেরত পাওয়ার দাবি জানিয়ে আসছে। যদিও আরাগচি এই বক্তব্যের সরাসরি বিরোধিতা করে বলেছেন, মার্কিন রাষ্ট্রদূত প্রকৃত প্রস্তাবে চোখই দেননি। একই সঙ্গে ইরানের দেওয়া পরিকল্পনা কীভাবে বাস্তবায়ন করা যায়, তা নিয়েও আলোচনা হয়েছে।
বর্তমানে পরোক্ষ আলোচনার এই প্রক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের কোনো সরাসরি প্রতিনিধি অংশ নিচ্ছেন না। মধ্যস্থতাকারীরাই উভয় পক্ষের প্রস্তাব ও পাল্টা প্রস্তাব নিয়ে কাজ করছেন। হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা ও পারমাণবিক ইস্যুতে দুই দেশের অবস্থানের ব্যবধান এখনো স্পষ্ট। তবে আরাগচি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, আলোচনার মাধ্যমে সমাধান না হয়ে সংঘাতের পথ বেছে নিলে ইরান যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে। এখন চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ভার যুক্তরাষ্ট্রের হাতেই ন্যস্ত বলে তিনি মন্তব্য করেন।
প্রতিনিধির নাম 
























