রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় চিরনিদ্রায় মাহাথির মোহাম্মদের স্ত্রী সিতি হাসমাহ

মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী তুন ড. মাহাথির মোহাম্মদের সহধর্মিণী এবং আধুনিক মালয়েশিয়ার সামাজিক আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ তুন ড. সিতি হাসমাহ মোহাম্মদ আলীকে পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শেষ বিদায় জানানো হয়েছে। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটে পুত্রাজায়ার পুসারা নেগারা বা জাতীয় কবরস্থানে তাকে সমাহিত করা হয়। এর আগে সকালে কুয়ালালামপুরের ন্যাশনাল হার্ট ইনস্টিটিউটে (আইজেএন) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে এই মহীয়সী নারীর বয়স হয়েছিল ১০০ বছর।

তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী দাতুক সেরি আনোয়ার ইব্রাহিম শোক প্রকাশ করেন এবং অবিলম্বে তাকে পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করার নির্দেশনা দেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে সরকারের প্রধান সচিব এবং প্রতিরক্ষা প্রধান যৌথভাবে শেষকৃত্যের সার্বিক কার্যক্রম তদারকি করেন। জানাজা শেষে মালয়েশিয়ার সশস্ত্র বাহিনী ও রয়্যাল মালয়েশিয়া পুলিশের যৌথ সামরিক প্রটোকলে তার মরদেহ পুসারা নেগারায় নিয়ে যাওয়া হয়।

প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম তার স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বলেন, সিতি হাসমাহর অকৃত্রিম ব্যক্তিত্ব, মাতৃসুলভ আচরণ এবং দেশের জন্য তার দীর্ঘ সেবা মালয়েশিয়ার ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। জনস্বাস্থ্য ও সামাজিক খাতের উন্নয়নে তার অবদান জাতি কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করবে।

১৯৪০-এর দশকের শেষ দিকে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাবিদ্যা পড়ার সময় মাহাথির মোহাম্মদ ও সিতি হাসমাহর পরিচয় হয়। দীর্ঘ ৭০ বছরের দাম্পত্য জীবনে এই দম্পতি সাত সন্তানের অভিভাবক ছিলেন। রাষ্ট্রীয় সম্মাননার মাধ্যমে বীরের মর্যাদায় বিদায় জানানো হলো আধুনিক মালয়েশিয়ার জনস্বাস্থ্য ও সামাজিক আন্দোলনের এক অগ্রদূতকে। তার জীবন ও কর্ম মালয়েশীয় জনগণের হৃদয়ে চিরকাল অমলিন থাকবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

পাঠ্য বইয়ে বিতর্ক: এনসিটিবির ৯ কর্মকর্তাকে বদলি, গচ্চা ১৭ কোটি টাকা

Verified by MonsterInsights

রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় চিরনিদ্রায় মাহাথির মোহাম্মদের স্ত্রী সিতি হাসমাহ

আপলোডের সময় : 10:46:00 am, Tuesday, 29 September 2026

মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী তুন ড. মাহাথির মোহাম্মদের সহধর্মিণী এবং আধুনিক মালয়েশিয়ার সামাজিক আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ তুন ড. সিতি হাসমাহ মোহাম্মদ আলীকে পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শেষ বিদায় জানানো হয়েছে। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটে পুত্রাজায়ার পুসারা নেগারা বা জাতীয় কবরস্থানে তাকে সমাহিত করা হয়। এর আগে সকালে কুয়ালালামপুরের ন্যাশনাল হার্ট ইনস্টিটিউটে (আইজেএন) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে এই মহীয়সী নারীর বয়স হয়েছিল ১০০ বছর।

তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী দাতুক সেরি আনোয়ার ইব্রাহিম শোক প্রকাশ করেন এবং অবিলম্বে তাকে পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করার নির্দেশনা দেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে সরকারের প্রধান সচিব এবং প্রতিরক্ষা প্রধান যৌথভাবে শেষকৃত্যের সার্বিক কার্যক্রম তদারকি করেন। জানাজা শেষে মালয়েশিয়ার সশস্ত্র বাহিনী ও রয়্যাল মালয়েশিয়া পুলিশের যৌথ সামরিক প্রটোকলে তার মরদেহ পুসারা নেগারায় নিয়ে যাওয়া হয়।

প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম তার স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বলেন, সিতি হাসমাহর অকৃত্রিম ব্যক্তিত্ব, মাতৃসুলভ আচরণ এবং দেশের জন্য তার দীর্ঘ সেবা মালয়েশিয়ার ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। জনস্বাস্থ্য ও সামাজিক খাতের উন্নয়নে তার অবদান জাতি কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করবে।

১৯৪০-এর দশকের শেষ দিকে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাবিদ্যা পড়ার সময় মাহাথির মোহাম্মদ ও সিতি হাসমাহর পরিচয় হয়। দীর্ঘ ৭০ বছরের দাম্পত্য জীবনে এই দম্পতি সাত সন্তানের অভিভাবক ছিলেন। রাষ্ট্রীয় সম্মাননার মাধ্যমে বীরের মর্যাদায় বিদায় জানানো হলো আধুনিক মালয়েশিয়ার জনস্বাস্থ্য ও সামাজিক আন্দোলনের এক অগ্রদূতকে। তার জীবন ও কর্ম মালয়েশীয় জনগণের হৃদয়ে চিরকাল অমলিন থাকবে।