ডিমেনশিয়া বা আলঝেইমারের যে ৪ লক্ষণ এড়িয়ে যাওয়া ঝুঁকিপূর্ণ

দৈনন্দিন জীবনে চাবি হারিয়ে ফেলা, পরিচিত কারো নাম ভুলে যাওয়া বা কোনো কাজে কেন এসেছেন তা হঠাৎ মনে করতে না পারা খুব একটা অস্বাভাবিক নয়। বয়সের সঙ্গে স্মৃতিশক্তি কিছুটা হ্রাস পাওয়া স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার অংশ। তবে ভুলে যাওয়ার এই প্রবণতা যখন ঘন ঘন হতে শুরু করে এবং তা আপনার দৈনন্দিন কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে, তখন একে কেবল বয়সের স্বাভাবিক পরিবর্তন ভেবে এড়িয়ে যাওয়া ঠিক হবে না। যুক্তরাষ্ট্রের ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিকের প্রতিরোধমূলক চিকিৎসাবিষয়ক বিশেষজ্ঞ স্যান্ড্রা ডার্লিংয়ের মতে, ডিমেনশিয়া বা আলঝেইমারের প্রাথমিক লক্ষণ হিসেবে চারটি বিষয়ের ওপর বিশেষভাবে নজর দেওয়া প্রয়োজন। কিংবা ঘরে ঢুকে কেন এসেছিলেন, সেটিই মনে করতে পারছেন না—এমন ঘটনা জীবনে কমবেশি সবারই ঘটে এবং এসব অস্বাভাবিকও নয়। বিশেষ করে এমন ঘটনা যদি আগের তুলনায় ক্রমশ বাড়তে থাকে। আর বলতেন, আমার ড্রাইভারের তো মনে আছে। অথবা রাতে যদি মনে করতে না পারেন, সকালে কী খেয়েছেন বা আগের দিন কী কী ঘটেছে, সেটিও একটি সতর্কবার্তা।

প্রথমত, নিয়মিত অ্যাপয়েন্টমেন্ট বা গুরুত্বপূর্ণ কাজের সময়সূচি ভুলে যাওয়া একটি বড় সতর্কসংকেত। মাঝেমধ্যে এমনটা হওয়া স্বাভাবিক হলেও, যদি নিয়মিত চিকিৎসকের পরামর্শের সময় বা গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো ক্রমাগত ভুলে যেতে থাকেন, তবে তা উদ্বেগের কারণ। দ্বিতীয়ত, দীর্ঘদিনের পরিচিত মানুষের নাম বা পরিচয় মনে করতে না পারা এবং এই সমস্যাটি যদি বারবার ঘটতে থাকে, তবে বুঝতে হবে স্মৃতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসছে।

তৃতীয়ত, নিজের পরিচিত রাস্তা বা নিয়মিত যাতায়াতের জায়গায় পথ হারিয়ে ফেলা সাধারণ ভুলে যাওয়ার চেয়ে বেশি গুরুতর। বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিচিত পরিবেশের সঙ্গে পরিচয় হারিয়ে ফেলা জ্ঞানীয় সক্ষমতা কমে যাওয়ার অন্যতম প্রধান লক্ষণ। যদিও বিজ্ঞানী আলবার্ট আইনস্টাইন প্রায়ই নিজের বাসার ঠিকানা ভুলে যেতেন এবং এ নিয়ে রসিকতা করতেন, তবে সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রে এমনটি ঘটলে তা এড়িয়ে যাওয়া উচিত নয়। চতুর্থত, একই প্রশ্ন বারবার করা বা একই ঘটনা বারবার বলার মতো প্রবণতা দেখা দেওয়া। কাছের মানুষ যদি আপনার কথাবার্তায় এই পুনরাবৃত্তি লক্ষ করেন বা আপনি যদি বিগত দিনের ঘটনা বা সদ্য সমাপ্ত কথোপকথন মনে রাখতে না পারেন, তবে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। বিজ্ঞানী আলবার্ট আইনস্টাইনের ব্যাপারটা এ ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম ধরতেই হবে।

স্মরণ রাখা জরুরি যে, এই লক্ষণগুলো দেখা দিলেই যে ডিমেনশিয়া বা আলঝেইমার হয়েছে—এমনটি নিশ্চিত নয়। অনেক সময় ঘুমের ঘাটতি, তীব্র বিষণ্নতা, থাইরয়েডজনিত জটিলতা, শরীরে ভিটামিনের অভাব কিংবা কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ফলেও স্মৃতিশক্তির এমন সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই ভয় না পেয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। দ্রুত কারণ শনাক্ত করা গেলে অনেক ক্ষেত্রে সমস্যার সমাধান বা উন্নতির সুযোগ থাকে। এ ছাড়া প্রযুক্তির ব্যবহার ডিমেনশিয়া বাড়িয়ে দিচ্ছে কি না, তা নিয়ে ৫৭টি ভিন্ন গবেষণায় বিভিন্ন বিস্ময়কর তথ্য উঠে এসেছে, যা বিষয়টি নিয়ে আরও সতর্ক হওয়ার ইঙ্গিত দেয়।

জনপ্রিয় সংবাদ

সাঘাটায় অবৈধ বালু উত্তোলনবিরোধী অভিযান, ড্রেজার মেশিন ও সরঞ্জাম জব্দ

Verified by MonsterInsights

ডিমেনশিয়া বা আলঝেইমারের যে ৪ লক্ষণ এড়িয়ে যাওয়া ঝুঁকিপূর্ণ

আপলোডের সময় : 11:08:52 am, Tuesday, 6 October 2026

দৈনন্দিন জীবনে চাবি হারিয়ে ফেলা, পরিচিত কারো নাম ভুলে যাওয়া বা কোনো কাজে কেন এসেছেন তা হঠাৎ মনে করতে না পারা খুব একটা অস্বাভাবিক নয়। বয়সের সঙ্গে স্মৃতিশক্তি কিছুটা হ্রাস পাওয়া স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার অংশ। তবে ভুলে যাওয়ার এই প্রবণতা যখন ঘন ঘন হতে শুরু করে এবং তা আপনার দৈনন্দিন কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে, তখন একে কেবল বয়সের স্বাভাবিক পরিবর্তন ভেবে এড়িয়ে যাওয়া ঠিক হবে না। যুক্তরাষ্ট্রের ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিকের প্রতিরোধমূলক চিকিৎসাবিষয়ক বিশেষজ্ঞ স্যান্ড্রা ডার্লিংয়ের মতে, ডিমেনশিয়া বা আলঝেইমারের প্রাথমিক লক্ষণ হিসেবে চারটি বিষয়ের ওপর বিশেষভাবে নজর দেওয়া প্রয়োজন। কিংবা ঘরে ঢুকে কেন এসেছিলেন, সেটিই মনে করতে পারছেন না—এমন ঘটনা জীবনে কমবেশি সবারই ঘটে এবং এসব অস্বাভাবিকও নয়। বিশেষ করে এমন ঘটনা যদি আগের তুলনায় ক্রমশ বাড়তে থাকে। আর বলতেন, আমার ড্রাইভারের তো মনে আছে। অথবা রাতে যদি মনে করতে না পারেন, সকালে কী খেয়েছেন বা আগের দিন কী কী ঘটেছে, সেটিও একটি সতর্কবার্তা।

প্রথমত, নিয়মিত অ্যাপয়েন্টমেন্ট বা গুরুত্বপূর্ণ কাজের সময়সূচি ভুলে যাওয়া একটি বড় সতর্কসংকেত। মাঝেমধ্যে এমনটা হওয়া স্বাভাবিক হলেও, যদি নিয়মিত চিকিৎসকের পরামর্শের সময় বা গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো ক্রমাগত ভুলে যেতে থাকেন, তবে তা উদ্বেগের কারণ। দ্বিতীয়ত, দীর্ঘদিনের পরিচিত মানুষের নাম বা পরিচয় মনে করতে না পারা এবং এই সমস্যাটি যদি বারবার ঘটতে থাকে, তবে বুঝতে হবে স্মৃতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসছে।

তৃতীয়ত, নিজের পরিচিত রাস্তা বা নিয়মিত যাতায়াতের জায়গায় পথ হারিয়ে ফেলা সাধারণ ভুলে যাওয়ার চেয়ে বেশি গুরুতর। বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিচিত পরিবেশের সঙ্গে পরিচয় হারিয়ে ফেলা জ্ঞানীয় সক্ষমতা কমে যাওয়ার অন্যতম প্রধান লক্ষণ। যদিও বিজ্ঞানী আলবার্ট আইনস্টাইন প্রায়ই নিজের বাসার ঠিকানা ভুলে যেতেন এবং এ নিয়ে রসিকতা করতেন, তবে সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রে এমনটি ঘটলে তা এড়িয়ে যাওয়া উচিত নয়। চতুর্থত, একই প্রশ্ন বারবার করা বা একই ঘটনা বারবার বলার মতো প্রবণতা দেখা দেওয়া। কাছের মানুষ যদি আপনার কথাবার্তায় এই পুনরাবৃত্তি লক্ষ করেন বা আপনি যদি বিগত দিনের ঘটনা বা সদ্য সমাপ্ত কথোপকথন মনে রাখতে না পারেন, তবে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। বিজ্ঞানী আলবার্ট আইনস্টাইনের ব্যাপারটা এ ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম ধরতেই হবে।

স্মরণ রাখা জরুরি যে, এই লক্ষণগুলো দেখা দিলেই যে ডিমেনশিয়া বা আলঝেইমার হয়েছে—এমনটি নিশ্চিত নয়। অনেক সময় ঘুমের ঘাটতি, তীব্র বিষণ্নতা, থাইরয়েডজনিত জটিলতা, শরীরে ভিটামিনের অভাব কিংবা কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ফলেও স্মৃতিশক্তির এমন সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই ভয় না পেয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। দ্রুত কারণ শনাক্ত করা গেলে অনেক ক্ষেত্রে সমস্যার সমাধান বা উন্নতির সুযোগ থাকে। এ ছাড়া প্রযুক্তির ব্যবহার ডিমেনশিয়া বাড়িয়ে দিচ্ছে কি না, তা নিয়ে ৫৭টি ভিন্ন গবেষণায় বিভিন্ন বিস্ময়কর তথ্য উঠে এসেছে, যা বিষয়টি নিয়ে আরও সতর্ক হওয়ার ইঙ্গিত দেয়।