
পশ্চিমবঙ্গে আকাশপথের যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে বড় উদ্যোগ নিয়েছে কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকার। আগামী দুই বছরের মধ্যে রাজ্যের আরও চারটি বিমানবন্দর থেকে বাণিজ্যিক যাত্রীবাহী ফ্লাইট পরিচালনার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। সোমবার কলকাতার নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর উপস্থিতিতে কেন্দ্রীয় বিমানমন্ত্রী কিনজারাপ্পু রামমোহন নায়ডু এই ঘোষণা দেন। এ লক্ষ্যে উভয় পক্ষের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, পুরুলিয়ার ছড়রা, বালুরঘাট এবং ভারতীয় বিমানবাহিনীর অধীনে থাকা পশ্চিম মেদিনীপুরের কলাইকুন্ডা ও আলিপুরদুয়ারের হাসিমারা বিমানবন্দর থেকে ফ্লাইট চালুর প্রক্রিয়া শুরু হবে।
কেন্দ্রীয় বিমানমন্ত্রী জানান, গত কয়েক বছরে রাজ্যে বিমানবন্দরের সংখ্যা আশানুরূপ বাড়েনি, তবে বর্তমানে সরকার যোগাযোগ পরিকাঠামো উন্নয়নে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, হাসিমারা ও কলাইকুন্ডায় বর্তমানে বিমানবাহিনীর উড়োজাহাজ নিয়মিত চলাচল করে। এসব ঘাঁটির রানওয়েতে বোয়িং ও এয়ারবাসের মতো বড় আকারের উড়োজাহাজ ওঠানামার সক্ষমতা রয়েছে। যাত্রীবাহী ফ্লাইট পরিচালনার সুবিধার জন্য হাসিমারায় ২৫ একর এবং কলাইকুন্ডায় ৩৭ একর জমি রাজ্য সরকার হস্তান্তর করেছে। সেখানে টার্মিনাল ভবনসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তোলা হবে। এছাড়া বালুরঘাটের সক্ষমতা বাড়ানো এবং পুরুলিয়ার ছড়রায় নতুন বিমানবন্দর নির্মাণের কাজ হাতে নেওয়া হয়েছে। তবে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর বিমান যোগাযোগ সম্প্রসারণের কাজ দ্রুত এগোচ্ছে।
রাজ্যের আকাশপথে যাত্রীসেবা বাড়াতে ‘উড়ান ২.০’ প্রকল্পে পশ্চিমবঙ্গকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই প্রকল্পের আওতায় বালুরঘাট ও হাসিমারাসহ ছোট বিমানবন্দরগুলো থেকে ফ্লাইট পরিচালনায় কেন্দ্রীয় সরকার ভর্তুকি দেবে, যা নতুন রুটে ফ্লাইট চালনায় বিমান সংস্থাগুলোকে উৎসাহিত করবে। একই সঙ্গে কলকাতার বিমানবন্দরের ওপর ক্রমবর্ধমান চাপ কমাতে দ্বিতীয় বিমানবন্দর তৈরির পরিকল্পনাও এগিয়ে চলেছে। কল্যাণীতে এর জন্য জমি চিহ্নিত করা হয়েছে এবং বর্তমানে সেখানে মাটি পরীক্ষাসহ প্রাথমিক কার্যক্রম চলছে। এ ছাড়া ‘উড়ান ২.০’ প্রকল্পেও পশ্চিমবঙ্গকে যুক্ত করা হয়েছে।
অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ করতে কলকাতা থেকে লন্ডনসহ ইউরোপের বিভিন্ন শহরে সরাসরি ফ্লাইট চালুর বিষয়ে কেন্দ্রের কাছে আবেদন জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। এর আগে কলকাতা থেকে লন্ডনের ফ্লাইট চললেও যাত্রী সংকটে তা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। মুখ্যমন্ত্রীর এই দাবির পরিপ্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় বিমানমন্ত্রী জানিয়েছেন, ইউরোপের বিভিন্ন গন্তব্যে সরাসরি ফ্লাইট চালুর বিষয়টি নিয়ে তিনি সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থাগুলোর সাথে আলোচনার উদ্যোগ নেবেন। এর ফলে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষের বিমান যোগাযোগ আরও সহজ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রতিনিধির নাম 
























