
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে খুলনা জেলার রূপসা প্রেসক্লাবের আয়োজনে টিএসবি ইউনিয়ন পরিষদের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী ও ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক বাদশা জমাদ্দারের সঙ্গে চায়ের আড্ডায় নির্বাচনী আলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বিকালে রূপসা প্রেসক্লাবের মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এ আয়োজনে বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় কর্মরত সাংবাদিকরা অংশ নেন। নির্বাচনী আলাপের প্রশ্নোত্তর পর্ব পরিচালনা করেন ক্লাবের সহ-সাধারণ সম্পাদক শাহরিয়ার হোসেন মানিক। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সাংবাদিক খান মিজানুর রহমান, মোস্তাফিজুর রহমান, এম এ আজিম, আখতার খান,আবু হারুন অর রশিদ, রেজাউল ইসলাম তুরান, চিত্তরঞ্জন সেন ও গোলাম মোস্তফা।
নির্বাচনী আলাপে সাংবাদিকরা বাদশা জমাদ্দারকে জনপ্রতিনিধি হওয়ার উদ্দেশ্য, ইউনিয়নের প্রধান সমস্যা, উন্নয়ন পরিকল্পনা, নাগরিক সেবায় হয়রানি বন্ধ, কর্মসংস্থান, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্ন করেন। সাংবাদিকরা জানতে চান, জনপ্রতিনিধি হতে চাওয়ার পেছনে তাঁর মূল উদ্দেশ্য কী, নেতৃত্ব, নাকি মানুষের সেবা? তাঁর ইউনিয়নের সবচেয়ে বড় তিনটি সমস্যা কী? নির্বাচিত না হলেও তিনি এলাকার মানুষের পাশে থাকবেন কি না? ইউনিয়ন পরিষদকে দালালমুক্ত ও জনবান্ধব করতে তাঁর পরিকল্পনা কী? জন্মনিবন্ধন, নাগরিক সনদ ও অন্যান্য সেবা পেতে সাধারণ মানুষের হয়রানি কীভাবে বন্ধ করবেন? এলাকার রাস্তাঘাট, জলাবদ্ধতা ও ড্রেনেজ সমস্যা সমাধানে কী উদ্যোগ নেবেন? যুবসমাজকে মাদক থেকে দূরে রাখতে এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে কী করবেন? ইউনিয়ন পরিষদের উন্নয়ন বরাদ্দ ও ব্যয়ের হিসাব জনগণের সামনে প্রকাশ করবেন কি না? সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি অটুট রাখতে দৃশ্যমান কী কী পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন? দেশের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিবেচনায় খুলনা তথা রূপসার অবস্থা উদ্বেগজনক হলে এ পরিস্থিতিতে কতটা সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন সম্ভব? সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে বাদশা জমাদ্দার বলেন, উন্নয়ন বরাদ্দ জনগণের সম্পদ। তাই জনগণকে সঙ্গে নিয়েই বরাদ্দের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। নির্বাচিত হলে এলাকার যোগ্য ব্যক্তিদের একত্র করে তাঁদের মতামত ও পরামর্শের ভিত্তিতে উন্নয়নমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করবেন। জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে এলাকার সার্বিক উন্নয়ন ও জনকল্যাণে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার বিষয়ে বাদশা জমাদ্দার বলেন, তাঁদের এলাকায় বিভিন্ন ধর্মের মানুষ একটি পরিবারের মতো মিলেমিশে বসবাস করেন। এলাকার দুর্গাপূজার বিসর্জন তাঁদের পুকুরেই অনুষ্ঠিত হয়। সব ধর্মের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির এই বন্ধন ভবিষ্যতেও অটুট রাখতে চান তিনি। খুলনা তথা রূপসার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং আসন্ন নির্বাচন কতটা সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ হতে পারে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হতে কিছুটা সময় লাগবে। তবে আগের তুলনায় প্রশাসন তৎপর হয়েছে বলে তিনি মনে করেন। মাদক ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত জিরো টলারেন্স নীতির কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
যুবসমাজকে মাদক থেকে দূরে রাখা এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর বিষয়ে বাদশা জমাদ্দার কারিগরি প্রশিক্ষণ ও মৎস্য চাষের মতো কর্মমুখী উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। যুবকদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং স্বাবলম্বী করে তোলার মাধ্যমে তাঁদের ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকারের জবাবদিহি, নাগরিক সেবার মানোন্নয়ন, রাস্তাঘাট ও জলাবদ্ধতা সমস্যার সমাধান, যুবসমাজের কর্মসংস্থান, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি এবং সুষ্ঠু নির্বাচনসহ টিএসবি ইউনিয়নের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
স্টাফ রিপোর্টার 



















