বিশ্ববাজারে নতুন রেকর্ডের দ্বারপ্রান্তে স্বর্ণের বাজার, দেশে ভরি কত

 

সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই) আবারও স্বর্ণের দামে চমক। জনপ্রিয় ২২ ক্যারেট স্বর্ণ প্রতি গ্রাম ৩৮২ দশমিক ৭৫ দিরহামে পৌঁছেছে, যা ইতিহাসের সর্বোচ্চ দামের থেকে মাত্র ১ দিরহাম কম। গত জুনেই সর্বোচ্চ দামে উঠেছিল স্বর্ণের বাজার। 

দাম বাড়ায় শুরুতেই দুর্বল চাহিদা নিয়ে চিন্তায় পড়েছেন ইউএই-এর স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা। বিশেষ করে দক্ষিণ ভারতের গুরুত্বপূর্ণ উৎসব ‘ওনাম’ সামনে থাকায় এ সময় বিক্রি বাড়বে বলে আশা করা হয়েছিল। কিন্তু হঠাৎ দাম বাড়ায় ক্রেতারা সরে যেতে পারেন বলে আশঙ্কা।

একজন খুচরা বিক্রেতা জানান, আমরা ভেবেছিলাম সেপ্টেম্বরের শুরুতে দাম নামবে ৩৬৫ থেকে ৩৭০ দিরহামের মধ্যে। একেবারেই আশা করিনি আবার ৩৮০ দিরহামের ওপরে চলে যাবে। শুধু এই সপ্তাহেই প্রতি গ্রামে সোনার দাম বেড়েছে ৬ দিরহামের বেশি।

এখন দেখার বিষয় উৎসব মৌসুমের প্রথম সোনার ও গয়নার প্রমোশনে দুবাইয়ের ক্রেতারা কীভাবে সাড়া দেন। ব্যবসায়ীদের আশা, অন্তত অক্টোবরের শেষে বৈশ্বিক সোনার দাম কিছুটা স্থিতিশীল হবে। কারণ ‘দীপাবলি ও ধনতেরাসের’ সময় বড় অঙ্কের বিক্রির উপরই নির্ভর করছে পুরো বছরের ক্ষতি পুষিয়ে নেয়া।

আন্তর্জাতিক বাজারেও সোনার দাম বেড়েছে। সপ্তাহের শেষে প্রতি আউন্স সোনার দর দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৪৪৭ ডলার, যা এক সপ্তাহে ৩০ ডলার বেড়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সুদের হার কমানো হবে বলে ধারণা, আর সাধারণত সুদ কমলে সোনার দাম বাড়ে।

 

অন্যদিকে, মার্কিন আদালত প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের রেসিপ্রোকাল শুল্কনীতি অবৈধ ঘোষণা করায় বাজারে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এ ধরনের অস্থিরতায় সোনা সবসময়ই নিরাপদ বিনিয়োগে পরিণত হয়।

 

এদিকে দেশের বাজারে সবশেষ গত ২৬ আগস্ট স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ওইদিন ভরিতে এক লাফে ১ হাজার ৫০ টাকা বাড়ানো হয়। বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) সবশেষ সমন্বয় করা দামেই দেশের বাজারে স্বর্ণ ক্রয়-বিক্রয় চলছে।

এর আগে ২ দফায় বাড়ানোর পর গত ২৪ জুলাই ভরিতে ১ হাজার ৫৭৪ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৭১ হাজার ৬০১ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল।

তারও আগে জুলাইতেই টানা ২ দফায় মোট ২ হাজার ৬২৪ টাকা বাড়ানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম। এরমধ্যে গত ২২ জুলাই ভরিতে ১ হাজার ৫০ টাকা ও ২৩ জুলাই ভরিতে ১ হাজার ৫৭৪ টাকা বাড়ানো হয়েছিল।

নতুন দর অনুযায়ী, বর্তমানে ২২ ক্যারেটের এক ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭২ হাজার ৬৫১ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণ ১ লাখ ৬৪ হাজার ৮০১ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ১ লাখ ৪১ হাজার ২৬৩ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির এক ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ১৬ হাজার ৮৫০ টাকা।

সবমিলিয়ে চলতি বছর এখন পর্যন্ত মোট ৪৬ বার দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছে বাজুস। যেখানে ৩০ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১৬ বার। অন্যদিকে গত বছর দেশের বাজারে মোট ৬২ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। এরমধ্যে ৩৫ বার দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া গতবছর ২৭ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

বাংলাদেশ-জাপান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এখন কৌশলগত অংশীদারত্বে

Verified by MonsterInsights

বিশ্ববাজারে নতুন রেকর্ডের দ্বারপ্রান্তে স্বর্ণের বাজার, দেশে ভরি কত

আপলোডের সময় : 08:43:04 pm, Saturday, 30 August 2025

 

সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই) আবারও স্বর্ণের দামে চমক। জনপ্রিয় ২২ ক্যারেট স্বর্ণ প্রতি গ্রাম ৩৮২ দশমিক ৭৫ দিরহামে পৌঁছেছে, যা ইতিহাসের সর্বোচ্চ দামের থেকে মাত্র ১ দিরহাম কম। গত জুনেই সর্বোচ্চ দামে উঠেছিল স্বর্ণের বাজার। 

দাম বাড়ায় শুরুতেই দুর্বল চাহিদা নিয়ে চিন্তায় পড়েছেন ইউএই-এর স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা। বিশেষ করে দক্ষিণ ভারতের গুরুত্বপূর্ণ উৎসব ‘ওনাম’ সামনে থাকায় এ সময় বিক্রি বাড়বে বলে আশা করা হয়েছিল। কিন্তু হঠাৎ দাম বাড়ায় ক্রেতারা সরে যেতে পারেন বলে আশঙ্কা।

একজন খুচরা বিক্রেতা জানান, আমরা ভেবেছিলাম সেপ্টেম্বরের শুরুতে দাম নামবে ৩৬৫ থেকে ৩৭০ দিরহামের মধ্যে। একেবারেই আশা করিনি আবার ৩৮০ দিরহামের ওপরে চলে যাবে। শুধু এই সপ্তাহেই প্রতি গ্রামে সোনার দাম বেড়েছে ৬ দিরহামের বেশি।

এখন দেখার বিষয় উৎসব মৌসুমের প্রথম সোনার ও গয়নার প্রমোশনে দুবাইয়ের ক্রেতারা কীভাবে সাড়া দেন। ব্যবসায়ীদের আশা, অন্তত অক্টোবরের শেষে বৈশ্বিক সোনার দাম কিছুটা স্থিতিশীল হবে। কারণ ‘দীপাবলি ও ধনতেরাসের’ সময় বড় অঙ্কের বিক্রির উপরই নির্ভর করছে পুরো বছরের ক্ষতি পুষিয়ে নেয়া।

আন্তর্জাতিক বাজারেও সোনার দাম বেড়েছে। সপ্তাহের শেষে প্রতি আউন্স সোনার দর দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৪৪৭ ডলার, যা এক সপ্তাহে ৩০ ডলার বেড়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সুদের হার কমানো হবে বলে ধারণা, আর সাধারণত সুদ কমলে সোনার দাম বাড়ে।

 

অন্যদিকে, মার্কিন আদালত প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের রেসিপ্রোকাল শুল্কনীতি অবৈধ ঘোষণা করায় বাজারে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এ ধরনের অস্থিরতায় সোনা সবসময়ই নিরাপদ বিনিয়োগে পরিণত হয়।

 

এদিকে দেশের বাজারে সবশেষ গত ২৬ আগস্ট স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ওইদিন ভরিতে এক লাফে ১ হাজার ৫০ টাকা বাড়ানো হয়। বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) সবশেষ সমন্বয় করা দামেই দেশের বাজারে স্বর্ণ ক্রয়-বিক্রয় চলছে।

এর আগে ২ দফায় বাড়ানোর পর গত ২৪ জুলাই ভরিতে ১ হাজার ৫৭৪ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৭১ হাজার ৬০১ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল।

তারও আগে জুলাইতেই টানা ২ দফায় মোট ২ হাজার ৬২৪ টাকা বাড়ানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম। এরমধ্যে গত ২২ জুলাই ভরিতে ১ হাজার ৫০ টাকা ও ২৩ জুলাই ভরিতে ১ হাজার ৫৭৪ টাকা বাড়ানো হয়েছিল।

নতুন দর অনুযায়ী, বর্তমানে ২২ ক্যারেটের এক ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭২ হাজার ৬৫১ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণ ১ লাখ ৬৪ হাজার ৮০১ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ১ লাখ ৪১ হাজার ২৬৩ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির এক ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ১৬ হাজার ৮৫০ টাকা।

সবমিলিয়ে চলতি বছর এখন পর্যন্ত মোট ৪৬ বার দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছে বাজুস। যেখানে ৩০ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১৬ বার। অন্যদিকে গত বছর দেশের বাজারে মোট ৬২ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। এরমধ্যে ৩৫ বার দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া গতবছর ২৭ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।