
বাগেরহাটের চারটি সংসদীয় আসন কমিয়ে তিনটিতে আনার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে তিন দিনের হরতাল শুরু হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে খুলনাতেও।
সোমবার (৮ আগস্ট) সকাল থেকে খুলনা থেকে ঢাকাগামী কোনো পরিবহন ছাড়েনি। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা। শুধু যাত্রীবাহী বাস নয়, ঢাকা ও উত্তরাঞ্চলমুখী সবজিবাহী ট্রাকও আটকে গেছে।
খুলনা থেকে পদ্মা সেতু হয়ে ঢাকায় যেতে হলে বাগেরহাট হয়ে যেতে হয়। ভোর ৬টা থেকে খুলনা-বাগেরহাট সীমান্তের কুদির বটতলায় সড়কে ব্যারিকেড দিয়ে অবরোধ করে স্থানীয়রা। এতে খুলনা থেকে ঢাকামুখী পরিবহণ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়।
সকালে খুলনার রয়্যাল মোড় ও সোনাডাঙ্গা বাস টার্মিনাল থেকেও কোনো পরিবহন ছেড়ে যায়নি। সোহাগ পরিবহন, গ্রীন লাইন পরিবহন, টুঙ্গিপাড়া এক্সপ্রেস, ফাল্গুনি পরিবহন, ইমাদ পরিবহন, হানিফ পরিবহনসহ ঢাকাগামী বাস কাউন্টারে যাত্রীদের অপেক্ষা করতে দেখা গেছে।
সোহাগ পরিবহনের রয়্যাল মোড় কাউন্টারের ম্যানেজার আব্দুল খালেক বলেন, ‘বাগেরহাটের হরতালের কারণে সকাল থেকে আমাদের কোনো বাস ছাড়েনি। শুধু আমাদের নয়, কোনো পরিবহনই যায়নি। যেসব যাত্রীর অগ্রিম টিকিট কাটা ছিল, তাদের টাকা ফেরত দেয়া হয়েছে। বিকেল থেকে ঢাকাগামী বাস ছাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
অপেক্ষমাণ যাত্রী শামছুল আলম বলেন, ‘ঢাকায় অফিসের জরুরি কাজে সকালে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এসে দেখি বাস ছাড়ছে না। কবে ছাড়বে তাও কেউ বলতে পারছে না। এখন বিপদে পড়ে গেলাম।
আরেক যাত্রী নাজনিন নাহার দুই সন্তানকে নিয়ে কাউন্টারে অপেক্ষা করার পর বাধ্য হয়ে বাড়ি ফিরে যান। তিনি বলেন, ‘জরুরি কাজে ঢাকায় যেতে চাচ্ছিলাম। দুই ঘণ্টারও বেশি সময় অপেক্ষা করেছি। কিন্তু বাস ছাড়বে কিনা কেউ নিশ্চিত করতে পারেনি। তাই বাড়ি ফিরে যাচ্ছি।
যাত্রীবাহী বাসের পাশাপাশি সবজিবাহী ট্রাকও আটকে গেছে। খুলনা অঞ্চল থেকে প্রতিদিন শতাধিক ট্রাক সবজি রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় যায়। এদিন সকাল থেকে কোনো ট্রাক ছাড়েনি।
খুলনার রূপসা সেতু এলাকায় আটকে থাকা কৃষক শফিকুল আলম বলেন, ‘সকালে ক্ষেত থেকে তিন শতাধিক লাউ তুলে ঢাকার উদ্দেশ্যে ট্রাকে রওনা হয়েছিলাম। কিন্তু হরতালের কারণে আটকে আছি। সময়মতো পৌঁছাতে না পারলে সবজি নষ্ট হয়ে যাবে। সঠিক দামও পাব না।