
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, তার সরাসরি সমর্থনের কারণেই ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবারের নির্বাচনে নিশ্চিত পরাজয় এড়াতে সক্ষম হয়েছেন। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লিখেছেন, তিনি মধ্যপ্রাচ্য, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মঙ্গল কামনা করেন এবং সেই লক্ষ্যেই নেতানিয়াহুকে সমর্থন জুগিয়েছেন।
ইসরায়েলি পার্লামেন্ট নেসেটের ১২০টি আসনের নির্বাচনে মঙ্গলবারের ফলাফলে কোনো দলই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে সমর্থ হয়নি। ইসরায়েলে ভোটের ফলাফলে সম্ভাব্য ৪ পরিস্থিতি কী।
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল টুয়েলভের তথ্য অনুযায়ী, বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন ডানপন্থী জোট ৫৬টি আসনে জয় পেয়েছে। অপরদিকে সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট জিতেছে ৪৮টি আসনে। এছাড়া আরব লিস্টের প্রার্থীরা পেয়েছে ১৬টি আসন। সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১টি আসন কোনো পক্ষই না পাওয়ায় দেশটিতে দীর্ঘ রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। এ অবস্থায় ১২০ আসনের নেসেটে কোনো পক্ষই সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা (৬১ আসন) নিশ্চিত করতে পারছে না।
ফলাফল প্রকাশের পর জেরুজালেমে নিজ দলের প্রধান কার্যালয়ে সমর্থকদের সামনে হাজির হন নেতানিয়াহু। তবে এখনই নতুন সরকার গঠনের বিষয়ে কোনো কথা বলাকে তিনি আগাম বলে মন্তব্য করেন। চূড়ান্ত ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করার কথা জানিয়ে তিনি সাফ জানিয়ে দেন যে, কোনোভাবেই আরবদের সমর্থন নিয়ে সরকার পরিচালনা করবেন না। ইরানে ধাক্কা খেল যুক্তরাষ্ট্র, যুদ্ধের নাটকীয় মোড়। সরকার গড়ার মতো আসন না পেয়েও কি ক্ষমতায় থাকছেন নেতানিয়াহু।
নেসেটের এই নির্বাচনে ইসরায়েলি আরবদের অভাবনীয় সাফল্য লক্ষ্য করা গেছে। বড় দুটি রাজনৈতিক জোট সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় পরবর্তী সরকার গঠনের ক্ষেত্রে আরবদের ভূমিকা এখন বেশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। লিকুদ পার্টি একক দল হিসেবে এগিয়ে থাকলেও সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় ‘ভোট চুরি’র অভিযোগ তোলার প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে বলে খবর পাওয়া গেছে।
এবারের নির্বাচন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চপর্যায়ে ভিন্ন মতও দেখা গেছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রকাশ্যে নেতানিয়াহুকে সমর্থন দিলেও, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স অন্য কোনো দেশের জাতীয় নির্বাচনে সরাসরি কাউকে সমর্থন জানাতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন। সরকার গঠনের জন্য এখন ইসরায়েলের বিভিন্ন দলের মধ্যে আগামী কয়েক সপ্তাহ কিংবা কয়েক মাস ধরে রাজনৈতিক দর-কষাকষির প্রক্রিয়া চলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
প্রতিনিধির নাম 
























