গাইবান্ধায় ৩৭৯ ভোটকেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ, অতিঝুঁকিতে বহু কেন্দ্র; নিরাপত্তায় কঠোর প্রশাসন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে গাইবান্ধা জেলায় নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশাসনের উদ্বেগ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। জেলার সাত উপজেলার পাঁচটি সংসদীয় আসনের মোট ৬৭৫টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৩৭৯টিকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক কেন্দ্রকে অতিঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।
জেলা নির্বাচন অফিস সূত্র জানায়, গাইবান্ধা জেলায় মোট ভোটার সংখ্যা ২১ লাখ ৯০ হাজার ৪০০ জন। আসন্ন নির্বাচনে পাঁচটি আসনে মোট ৪০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে ৩২ জন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মনোনীত প্রার্থী এবং ৮ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী।
আসনভিত্তিক ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের চিত্র
গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ):
একটি পৌরসভা ও ১৫টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত এই আসনে মোট ১২৩টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে। এর মধ্যে ৪১টি ঝুঁকিপূর্ণ এবং ১১টি অতিঝুঁকিপূর্ণ। মোট ভোটার ৪ লাখ ১৯ হাজার ১১২ জন। এখানে ৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
গাইবান্ধা-২ (গাইবান্ধা সদর):
একটি পৌরসভা ও ১৩টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত এ আসনে ১১৮টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে। এর মধ্যে ৫১টি ঝুঁকিপূর্ণ ও ১১টি অতিঝুঁকিপূর্ণ। মোট ভোটার ৪ লাখ ১১ হাজার ৪৬০ জন। এ আসনে প্রার্থী রয়েছেন ৭ জন।
গাইবান্ধা-৩ (সাদুল্লাপুর-পলাশবাড়ী):
একটি পৌরসভা ও ১৯টি ইউনিয়নে মোট ১৪৬টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে। এর মধ্যে ৮৭টি ঝুঁকিপূর্ণ এবং ১৭টি অতিঝুঁকিপূর্ণ। মোট ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ৬ হাজার ১৮৫ জন। এই আসনে ১০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
গাইবান্ধা-৪ (গোবিন্দগঞ্জ):
একটি পৌরসভা ও ১৭টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত এই আসনে মোট ১৪২টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে। এর মধ্যে ১০৫টি ঝুঁকিপূর্ণ ও ৫টি অতিঝুঁকিপূর্ণ। মোট ভোটার ৪ লাখ ৬৮ হাজার ৩৮৪ জন। এখানে প্রার্থী রয়েছেন ৬ জন।
গাইবান্ধা-৫ (সাঘাটা-ফুলছড়ি):
১৭টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত এই আসনে মোট ১৪৬টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে। এর মধ্যে ৯০টি ঝুঁকিপূর্ণ এবং ৩৫টি অতিঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত। মোট ভোটার ৩ লাখ ৮৫ হাজার ২৬১ জন। এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৯ জন প্রার্থী।
নিরাপত্তায় সর্বোচ্চ প্রস্তুতি
জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. শহিদুল ইসলাম জানান, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
জেলা প্রশাসক মাসুদুর রহমান মোল্লা বলেন, নির্বাচন নিরাপদ করতে মাঠে থাকবে ১ হাজার ১০০ জন সেনা সদস্য, ৪০ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ১৫ জন বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট। পাশাপাশি দায়িত্ব পালন করবেন প্রায় আড়াই হাজার পুলিশ সদস্য এবং ১৪টি র‍্যাব টহল দল।
তিনি আরও জানান, সাধারণ ভোটকেন্দ্রে ২ জন পুলিশ সদস্য দায়িত্বে থাকবেন। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে ৩ জন পুলিশ সদস্যের সঙ্গে ৬ জন পুরুষ ও ৪ জন নারী আনসার এবং ৩ জন অস্ত্রধারী আনসার সদস্য মোতায়েন থাকবে।
প্রশাসনের এই কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মাধ্যমে গাইবান্ধায় একটি সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

ঠাকুরগাঁওয়ে উপনির্বাচন উপলক্ষে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালকের নির্দেশনা

Verified by MonsterInsights

গাইবান্ধায় ৩৭৯ ভোটকেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ, অতিঝুঁকিতে বহু কেন্দ্র; নিরাপত্তায় কঠোর প্রশাসন

আপলোডের সময় : 09:51:05 pm, Tuesday, 10 February 2026

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে গাইবান্ধা জেলায় নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশাসনের উদ্বেগ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। জেলার সাত উপজেলার পাঁচটি সংসদীয় আসনের মোট ৬৭৫টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৩৭৯টিকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক কেন্দ্রকে অতিঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।
জেলা নির্বাচন অফিস সূত্র জানায়, গাইবান্ধা জেলায় মোট ভোটার সংখ্যা ২১ লাখ ৯০ হাজার ৪০০ জন। আসন্ন নির্বাচনে পাঁচটি আসনে মোট ৪০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে ৩২ জন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মনোনীত প্রার্থী এবং ৮ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী।
আসনভিত্তিক ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের চিত্র
গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ):
একটি পৌরসভা ও ১৫টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত এই আসনে মোট ১২৩টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে। এর মধ্যে ৪১টি ঝুঁকিপূর্ণ এবং ১১টি অতিঝুঁকিপূর্ণ। মোট ভোটার ৪ লাখ ১৯ হাজার ১১২ জন। এখানে ৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
গাইবান্ধা-২ (গাইবান্ধা সদর):
একটি পৌরসভা ও ১৩টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত এ আসনে ১১৮টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে। এর মধ্যে ৫১টি ঝুঁকিপূর্ণ ও ১১টি অতিঝুঁকিপূর্ণ। মোট ভোটার ৪ লাখ ১১ হাজার ৪৬০ জন। এ আসনে প্রার্থী রয়েছেন ৭ জন।
গাইবান্ধা-৩ (সাদুল্লাপুর-পলাশবাড়ী):
একটি পৌরসভা ও ১৯টি ইউনিয়নে মোট ১৪৬টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে। এর মধ্যে ৮৭টি ঝুঁকিপূর্ণ এবং ১৭টি অতিঝুঁকিপূর্ণ। মোট ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ৬ হাজার ১৮৫ জন। এই আসনে ১০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
গাইবান্ধা-৪ (গোবিন্দগঞ্জ):
একটি পৌরসভা ও ১৭টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত এই আসনে মোট ১৪২টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে। এর মধ্যে ১০৫টি ঝুঁকিপূর্ণ ও ৫টি অতিঝুঁকিপূর্ণ। মোট ভোটার ৪ লাখ ৬৮ হাজার ৩৮৪ জন। এখানে প্রার্থী রয়েছেন ৬ জন।
গাইবান্ধা-৫ (সাঘাটা-ফুলছড়ি):
১৭টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত এই আসনে মোট ১৪৬টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে। এর মধ্যে ৯০টি ঝুঁকিপূর্ণ এবং ৩৫টি অতিঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত। মোট ভোটার ৩ লাখ ৮৫ হাজার ২৬১ জন। এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৯ জন প্রার্থী।
নিরাপত্তায় সর্বোচ্চ প্রস্তুতি
জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. শহিদুল ইসলাম জানান, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
জেলা প্রশাসক মাসুদুর রহমান মোল্লা বলেন, নির্বাচন নিরাপদ করতে মাঠে থাকবে ১ হাজার ১০০ জন সেনা সদস্য, ৪০ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ১৫ জন বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট। পাশাপাশি দায়িত্ব পালন করবেন প্রায় আড়াই হাজার পুলিশ সদস্য এবং ১৪টি র‍্যাব টহল দল।
তিনি আরও জানান, সাধারণ ভোটকেন্দ্রে ২ জন পুলিশ সদস্য দায়িত্বে থাকবেন। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে ৩ জন পুলিশ সদস্যের সঙ্গে ৬ জন পুরুষ ও ৪ জন নারী আনসার এবং ৩ জন অস্ত্রধারী আনসার সদস্য মোতায়েন থাকবে।
প্রশাসনের এই কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মাধ্যমে গাইবান্ধায় একটি সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে।