চলমান তদন্তকে ঘিরে অপপ্রচার: ওসির বিরুদ্ধে অসদাচরণের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত—গাইবান্ধা সদর থানার অফিসার ইনচার্জের কড়া প্রতিবাদ

গাইবান্ধায় আইনজীবী সহকারী অমিতাভ চন্দ্র রায় সুজন হত্যাকাণ্ডকে ঘিরে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুনের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অসদাচরণের অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, মিথ্যা ও পরিকল্পিত অপপ্রচার হিসেবে আখ্যা দিয়েছে গাইবান্ধা সদর থানা।

থানার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত সংবাদে যে অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে, তা একপাক্ষিক বক্তব্যের ওপর ভিত্তি করে প্রচারিত হয়েছে এবং প্রকৃত ঘটনার সঙ্গে এর কোনো বাস্তব সংযোগ নেই।
অফিসার ইনচার্জ আব্দুল্লাহ আল মামুন কঠোর ভাষায় বলেন, একটি সংবেদনশীল হত্যা মামলার তদন্ত চলমান থাকা অবস্থায় দায়িত্বশীল পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মনগড়া অভিযোগ ছড়িয়ে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করার অপচেষ্টা দুঃখজনক ও নিন্দনীয়। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, নিহতের পরিবারকে সর্বোচ্চ সহানুভূতি, আইনগত সহযোগিতা ও নিরাপত্তা প্রদান করা হচ্ছে এবং তদন্তে কোনো ধরনের শৈথিল্য দেখানো হয়নি।
তিনি আরও বলেন, লাথি মারার চেষ্টা, ভয়ভীতি প্রদর্শন বা অপমানজনক আচরণের যে অভিযোগ আনা হয়েছে তা সম্পূর্ণ অসত্য, কল্পিত ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তদন্ত প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে এবং পুলিশের পেশাগত ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে একটি মহল ইচ্ছাকৃতভাবে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
থানা সূত্রে জানানো হয়, মামলাটি আইনানুগ প্রক্রিয়ায় রেকর্ড করা হয়েছে এবং তদন্তের স্বার্থে সন্দেহভাজনদের বিষয়ে তথ্য যাচাই-বাছাই অব্যাহত রয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য কাউকে থানায় আনা হলে তা সম্পূর্ণ আইনসম্মত পদ্ধতিতে এবং তদন্তের প্রয়োজনে করা হয়েছে; কাউকে হয়রানি বা হেনস্তা করার প্রশ্নই ওঠে না। বরং তদন্তে সহযোগিতা নিশ্চিত করতেই সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।
পুলিশ আরও জানায়, হত্যাকাণ্ডের পেছনে সম্ভাব্য জমি সংক্রান্ত বিরোধসহ বিভিন্ন দিক গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে জোরদার অভিযান চালানো হচ্ছে। কোনো ব্যক্তিকে অবৈধভাবে ছাড় দেওয়া হয়েছে—এমন অভিযোগও বাস্তবতা বিবর্জিত বলে দাবি করা হয়েছে।
থানা কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, একটি চলমান তদন্তকে ঘিরে যাচাই-বাছাই ছাড়া আবেগনির্ভর ও একতরফা অভিযোগ প্রচার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে অস্থিতিশীল করতে পারে এবং ন্যায়বিচারের প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করতে পারে। তাই দায়িত্বশীল মহল ও গণমাধ্যমকে তথ্য যাচাই করে সংবাদ প্রকাশের আহ্বান জানানো হয়েছে।
সবশেষে ওসি বলেন, পুলিশ সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ও পেশাদার মনোভাব নিয়ে কাজ করছে এবং প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা না পর্যন্ত তদন্ত কার্যক্রম সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে তিনি গুজব, অপপ্রচার ও বিভ্রান্তিকর বক্তব্য থেকে বিরত থাকার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি কঠোর আহ্বান জানান।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

ঠাকুরগাঁওয়ে উপনির্বাচন উপলক্ষে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালকের নির্দেশনা

Verified by MonsterInsights

চলমান তদন্তকে ঘিরে অপপ্রচার: ওসির বিরুদ্ধে অসদাচরণের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত—গাইবান্ধা সদর থানার অফিসার ইনচার্জের কড়া প্রতিবাদ

আপলোডের সময় : 09:54:49 pm, Friday, 20 February 2026

গাইবান্ধায় আইনজীবী সহকারী অমিতাভ চন্দ্র রায় সুজন হত্যাকাণ্ডকে ঘিরে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুনের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অসদাচরণের অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, মিথ্যা ও পরিকল্পিত অপপ্রচার হিসেবে আখ্যা দিয়েছে গাইবান্ধা সদর থানা।

থানার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত সংবাদে যে অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে, তা একপাক্ষিক বক্তব্যের ওপর ভিত্তি করে প্রচারিত হয়েছে এবং প্রকৃত ঘটনার সঙ্গে এর কোনো বাস্তব সংযোগ নেই।
অফিসার ইনচার্জ আব্দুল্লাহ আল মামুন কঠোর ভাষায় বলেন, একটি সংবেদনশীল হত্যা মামলার তদন্ত চলমান থাকা অবস্থায় দায়িত্বশীল পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মনগড়া অভিযোগ ছড়িয়ে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করার অপচেষ্টা দুঃখজনক ও নিন্দনীয়। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, নিহতের পরিবারকে সর্বোচ্চ সহানুভূতি, আইনগত সহযোগিতা ও নিরাপত্তা প্রদান করা হচ্ছে এবং তদন্তে কোনো ধরনের শৈথিল্য দেখানো হয়নি।
তিনি আরও বলেন, লাথি মারার চেষ্টা, ভয়ভীতি প্রদর্শন বা অপমানজনক আচরণের যে অভিযোগ আনা হয়েছে তা সম্পূর্ণ অসত্য, কল্পিত ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তদন্ত প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে এবং পুলিশের পেশাগত ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে একটি মহল ইচ্ছাকৃতভাবে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
থানা সূত্রে জানানো হয়, মামলাটি আইনানুগ প্রক্রিয়ায় রেকর্ড করা হয়েছে এবং তদন্তের স্বার্থে সন্দেহভাজনদের বিষয়ে তথ্য যাচাই-বাছাই অব্যাহত রয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য কাউকে থানায় আনা হলে তা সম্পূর্ণ আইনসম্মত পদ্ধতিতে এবং তদন্তের প্রয়োজনে করা হয়েছে; কাউকে হয়রানি বা হেনস্তা করার প্রশ্নই ওঠে না। বরং তদন্তে সহযোগিতা নিশ্চিত করতেই সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।
পুলিশ আরও জানায়, হত্যাকাণ্ডের পেছনে সম্ভাব্য জমি সংক্রান্ত বিরোধসহ বিভিন্ন দিক গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে জোরদার অভিযান চালানো হচ্ছে। কোনো ব্যক্তিকে অবৈধভাবে ছাড় দেওয়া হয়েছে—এমন অভিযোগও বাস্তবতা বিবর্জিত বলে দাবি করা হয়েছে।
থানা কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, একটি চলমান তদন্তকে ঘিরে যাচাই-বাছাই ছাড়া আবেগনির্ভর ও একতরফা অভিযোগ প্রচার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে অস্থিতিশীল করতে পারে এবং ন্যায়বিচারের প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করতে পারে। তাই দায়িত্বশীল মহল ও গণমাধ্যমকে তথ্য যাচাই করে সংবাদ প্রকাশের আহ্বান জানানো হয়েছে।
সবশেষে ওসি বলেন, পুলিশ সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ও পেশাদার মনোভাব নিয়ে কাজ করছে এবং প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা না পর্যন্ত তদন্ত কার্যক্রম সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে তিনি গুজব, অপপ্রচার ও বিভ্রান্তিকর বক্তব্য থেকে বিরত থাকার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি কঠোর আহ্বান জানান।