
গণশুনানিতে জেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের সেবার মান, অনিয়ম, দুর্নীতি ও জনভোগান্তি নিয়ে সাধারণ মানুষ সরাসরি তাদের বক্তব্য তুলে ধরেন। এতে অংশ নেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, সেবাগ্রহীতা, সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি ও সচেতন নাগরিকরা।
১১ ই মে রোজ সোমবার সকাল ৯ ঘটিকায় ইনডেড জেলা স্টেডিয়ামে, অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দুদকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, জেলা প্রশাসনের প্রতিনিধি, বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি এবং গণমাধ্যমকর্মীরা।
গণশুনানির পুরো পরিবেশ ছিল অত্যন্ত উন্মুক্ত ও অংশগ্রহণমূলক, যেখানে সাধারণ মানুষ নির্ভয়ে তাদের অভিযোগ, অভিজ্ঞতা ও প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেন। গণশুনানিতে বক্তারা অভিযোগ করেন, সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে সেবা নিতে গিয়ে সাধারণ মানুষকে নানা ধরনের ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। বিশেষ করে দালালচক্রের দৌরাত্ম্য, অতিরিক্ত হয়রানি, ঘুষ বাণিজ্য, দীর্ঘসূত্রতা এবং প্রশাসনিক জটিলতার কারণে সাধারণ মানুষ কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। অনেকেই অভিযোগ করেন, কিছু অসাধু কর্মকর্তা ও মধ্যস্বত্বভোগীদের কারণে সাধারণ জনগণের আস্থা ক্ষুণ্ন হচ্ছে এবং সেবার মান ব্যাহত হচ্ছে।
এ সময় দুদকের কর্মকর্তারা জনগণের অভিযোগ মনোযোগ সহকারে শুনে দ্রুত তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন। একই সঙ্গে সরকারি সেবায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও ন্যায়ভিত্তিক প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে আরও আন্তরিক ও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান। দুদকের কর্মকর্তারা বলেন, দুর্নীতি প্রতিরোধে শুধু আইন প্রয়োগ করলেই হবে না, এর পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছাড়া দুর্নীতির বিরুদ্ধে কার্যকর অবস্থান গ্রহণ সম্ভব নয় বলেও তারা উল্লেখ করেন।
গণশুনানিতে অংশগ্রহণকারী অনেকেই এ ধরনের উদ্যোগকে সময়োপযোগী ও জনকল্যাণমূলক হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তারা বলেন, সাধারণ মানুষের সমস্যা ও অভিযোগ সরাসরি তুলে ধরার জন্য এ ধরনের উন্মুক্ত গণশুনানি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এর মাধ্যমে জনগণ যেমন তাদের কথা বলার সুযোগ পাচ্ছেন, তেমনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষও বাস্তব পরিস্থিতি সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা লাভ করছেন। অনুষ্ঠান শেষে দুর্নীতিবিরোধী সচেতনতামূলক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয় এবং জনসাধারণের মাঝে বিভিন্ন তথ্যপত্র, লিফলেট ও সচেতনতামূলক প্রচারসামগ্রী বিতরণ করা হয়।
বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, দুদকের এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকলে সরকারি সেবায় স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পাবে এবং দুর্নীতি প্রতিরোধে ইতিবাচক পরিবর্তন দৃশ্যমান হবে।