গাইবান্ধায় দীর্ঘদিনের জমি বিরোধের অবসান, শান্তি ফিরেছে এলাকায়

 

গাইবান্ধার বল্লমঝাড় ইউনিয়নের মধ্যপাড়া মৌজায় (জেল নং ২৭) দীর্ঘদিন ধরে চলমান একটি জটিল জমি সংক্রান্ত বিরোধ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও এলাকাবাসীর উদ্যোগে শান্তিপূর্ণভাবে মীমাংসা করা হয়েছে। এতে করে এলাকায় স্বস্তি ফিরে এসেছে এবং পারিবারিক দ্বন্দ্বের অবসান ঘটেছে।

জানা যায়, মৃত হাসেন আলীর মৃত্যুর পর তাঁর রেখে যাওয়া সম্পত্তি নিয়ে সৎ মা ও সৎ সন্তানদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। বিষয়টি নিয়ে পরিবারে অসন্তোষ ও উত্তেজনা বিরাজ করছিল। অবশেষে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও এলাকাবাসীর উপস্থিতিতে উভয় পক্ষের মধ্যে আলোচনা করে সমঝোতার ভিত্তিতে বিরোধ নিষ্পত্তি করা হয়।

মীমাংসার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, মৃত হাসেন আলীর বিআরএস খতিয়ান নং ৩৬১ এবং ৪৪২ নম্বর হোল্ডিংয়ের সম্পত্তি সুষ্ঠুভাবে বণ্টন করা হয়েছে। এর মধ্যে সৎ মা বুলবুলির খারিজ খতিয়ান নং ৪৩৬ এবং প্রথম সন্তান মো. আল আমিনের খতিয়ান নং ৪৩৯ অনুসারে জমি ভাগাভাগি সম্পন্ন হয়।

চুক্তি অনুযায়ী, মৃত হাসেন আলীর দ্বিতীয় স্ত্রী ও তাঁর সন্তানদের—হাজেরা বেগম, হাজেরা খাতুন, বুলবুলি বেগম ও বুলবুল মিয়ার নামে খারিজকৃত মোট ৬৪ শতক জমি বুঝিয়ে দেওয়া হয়। অন্যদিকে প্রথম সন্তান মো. আলামিন মিয়াকে ওয়ারিশ ও ক্রয় সূত্রে মোট ২৮ শতক জমি প্রদান করা হয়, যার মধ্যে ২১ শতক ওয়ারিশ সূত্রে এবং ৭ শতক ক্রয় সূত্রে অন্তর্ভুক্ত। অবশিষ্ট সম্পত্তি অন্যান্য শরিকদের মধ্যে আইনগত বিধান ও স্থানীয় সমঝোতার ভিত্তিতে বণ্টন করা হয়েছে।

এলাকাবাসীর মধ্যস্থতায় দীর্ঘদিনের এই বিরোধের অবসান হওয়ায় এলাকায় শান্তি ও সৌহার্দ্য বজায় থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।

মীমাংসার সময় এলাকাবাসীর পক্ষে উপস্থিত ছিলেন—মো. বেলাল হোসেন, আয়নাল হক, শাহ আলম, সাইফুল ইসলাম, মমিন মিয়া, আমিনুল ইসলাম, হারুন মিয়া, আংগুর মিয়া, সাইদুল ইসলাম ও শামীম মিয়াসহ আরও অনেকে।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

ঠাকুরগাঁওয়ে উপনির্বাচন উপলক্ষে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালকের নির্দেশনা

Verified by MonsterInsights

গাইবান্ধায় দীর্ঘদিনের জমি বিরোধের অবসান, শান্তি ফিরেছে এলাকায়

আপলোডের সময় : 10:30:37 pm, Wednesday, 29 July 2026

 

গাইবান্ধার বল্লমঝাড় ইউনিয়নের মধ্যপাড়া মৌজায় (জেল নং ২৭) দীর্ঘদিন ধরে চলমান একটি জটিল জমি সংক্রান্ত বিরোধ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও এলাকাবাসীর উদ্যোগে শান্তিপূর্ণভাবে মীমাংসা করা হয়েছে। এতে করে এলাকায় স্বস্তি ফিরে এসেছে এবং পারিবারিক দ্বন্দ্বের অবসান ঘটেছে।

জানা যায়, মৃত হাসেন আলীর মৃত্যুর পর তাঁর রেখে যাওয়া সম্পত্তি নিয়ে সৎ মা ও সৎ সন্তানদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। বিষয়টি নিয়ে পরিবারে অসন্তোষ ও উত্তেজনা বিরাজ করছিল। অবশেষে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও এলাকাবাসীর উপস্থিতিতে উভয় পক্ষের মধ্যে আলোচনা করে সমঝোতার ভিত্তিতে বিরোধ নিষ্পত্তি করা হয়।

মীমাংসার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, মৃত হাসেন আলীর বিআরএস খতিয়ান নং ৩৬১ এবং ৪৪২ নম্বর হোল্ডিংয়ের সম্পত্তি সুষ্ঠুভাবে বণ্টন করা হয়েছে। এর মধ্যে সৎ মা বুলবুলির খারিজ খতিয়ান নং ৪৩৬ এবং প্রথম সন্তান মো. আল আমিনের খতিয়ান নং ৪৩৯ অনুসারে জমি ভাগাভাগি সম্পন্ন হয়।

চুক্তি অনুযায়ী, মৃত হাসেন আলীর দ্বিতীয় স্ত্রী ও তাঁর সন্তানদের—হাজেরা বেগম, হাজেরা খাতুন, বুলবুলি বেগম ও বুলবুল মিয়ার নামে খারিজকৃত মোট ৬৪ শতক জমি বুঝিয়ে দেওয়া হয়। অন্যদিকে প্রথম সন্তান মো. আলামিন মিয়াকে ওয়ারিশ ও ক্রয় সূত্রে মোট ২৮ শতক জমি প্রদান করা হয়, যার মধ্যে ২১ শতক ওয়ারিশ সূত্রে এবং ৭ শতক ক্রয় সূত্রে অন্তর্ভুক্ত। অবশিষ্ট সম্পত্তি অন্যান্য শরিকদের মধ্যে আইনগত বিধান ও স্থানীয় সমঝোতার ভিত্তিতে বণ্টন করা হয়েছে।

এলাকাবাসীর মধ্যস্থতায় দীর্ঘদিনের এই বিরোধের অবসান হওয়ায় এলাকায় শান্তি ও সৌহার্দ্য বজায় থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।

মীমাংসার সময় এলাকাবাসীর পক্ষে উপস্থিত ছিলেন—মো. বেলাল হোসেন, আয়নাল হক, শাহ আলম, সাইফুল ইসলাম, মমিন মিয়া, আমিনুল ইসলাম, হারুন মিয়া, আংগুর মিয়া, সাইদুল ইসলাম ও শামীম মিয়াসহ আরও অনেকে।