বগুড়ার কুখ্যাত ‘ককটেল বাদশা’ ও রাহুল হত্যা মামলার আসামি গ্রেপ্তার

 

বগুড়ায় পৃথক দুটি অভিযানে কুখ্যাত ডাকাত ও একাধিক মামলার পলাতক আসামি বাদশা মিয়া ওরফে ‘ককটেল বাদশা’ (৪৬) এবং যুবদল নেতা রাহুল হত্যা মামলার অন্যতম প্রধান আসামি রাহুল কবিরাজ (২৪)-কে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

বুধবার (১৯ আগস্ট) রাতে গাজীপুরের আশুলিয়া ও ঢাকার কামরাঙ্গীরচর এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

বৃহস্পতিবার জেলা পুলিশের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তি সূত্রে জানা গেছে, এসআই ফজলুল হক ও এসআই ইফ্তেখাইরুল ইসলামের নেতৃত্বে ডিবির একটি চৌকস দল রাত আনুমানিক ৪টার দিকে গাজীপুর জেলার আশুলিয়া থানাধীন কাশিমপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে বাদশা মিয়া ওরফে ককটেল বাদশাকে গ্রেপ্তার করে।

বাদশা গাবতলী উপজেলার মাঝবাড়ি গ্রামের মৃত লইমুদ্দিনের ছেলে। তার বিরুদ্ধে ডাকাতি, হত্যা, অস্ত্র, বিস্ফোরক দ্রব্য ও বিশেষ ক্ষমতা আইনে এগারোটি মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশের দাবি, গত ২২ জানুয়ারি গভীর রাতে বাদশা তার সহযোগীদের নিয়ে দেশীয় অস্ত্র, চাপাতি, রামদা, লাঠিসোঁটা ও ককটেলসহ গাবতলী থানার আকন্দপাড়া গ্রামের ভক্ত রাম বিশ্বাসের বাড়িতে ঢুকে তাকে মারধর করে আহত করে। পরে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ককটেল বিস্ফোরণের মাধ্যমে আতঙ্ক সৃষ্টি করে সিন্দুক থেকে স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা লুট করে নিয়ে যায়।

এছাড়া গত বছরের ২ নভেম্বর গাবতলী থানার ছোট ইটালি এলাকায় মাদক ব্যবসায়ী নাসিমা খাতুনের বাড়িতে ককটেল তৈরির সময় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এ সময় বাদশা পালিয়ে গেলেও ঘটনাস্থল থেকে ৪৫টি ককটেল ও ককটেল তৈরির বিপুল পরিমাণ সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয় বলে জানায় ডিবি।

এর আগে গাজীপুর মেট্রোপলিটন এলাকায় বাদশাকে তিনটি বিদেশি পিস্তলসহ গ্রেপ্তার করা হয়েছিল বলেও জানিয়েছে পুলিশ। বর্তমানে তার বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্র, ডাকাতি, বিশেষ ক্ষমতা ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের একাধিক মামলা তদন্তাধীন ও বিচারাধীন রয়েছে।

গ্রেপ্তারের পর বাদশাকে আদালতে হাজির করা হলে আদালত তার চার দিনের পুলিশ রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

অন্যদিকে, একই রাতে ভোর সাড়ে ৪টার দিকে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কামরাঙ্গীরচর থানাধীন মুন্সিরহাট এলাকায় অভিযান চালিয়ে রাহুল কবিরাজকে গ্রেপ্তার করে ডিবির অপর একটি দল।

রাহুল বগুড়া পৌরসভার ১৩ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক রাহুল হত্যা মামলার অন্যতম প্রধান আসামি বলে জানিয়েছে পুলিশ। তিনি কাহালু উপজেলার পাল্লাপাড়া গ্রামের ইমদাদুল হকের ছেলে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর কাহালু থানার মাগুরা এলাকায় একটি পুকুরের মালিকানা নিয়ে বিরোধের জেরে বাক-বিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে গ্রেপ্তার রাহুল কবিরাজ তার সহযোগীদের নিয়ে যুবদল নেতা রাহুলের ওপর হামলা চালিয়ে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করেন। এতে ঘটনাস্থলেই রাহুলের মৃত্যু হয়। হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই রাহুল কবিরাজ পলাতক ছিলেন।

ডিবি পুলিশের অফিসার ইনচার্জ ইকবাল বাহার বলেন, গ্রেপ্তার রাহুল কবিরাজকে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

জাপানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তারেক রহমানের দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠক

Verified by MonsterInsights

বগুড়ার কুখ্যাত ‘ককটেল বাদশা’ ও রাহুল হত্যা মামলার আসামি গ্রেপ্তার

আপলোডের সময় : 09:26:56 pm, Friday, 21 August 2026

 

বগুড়ায় পৃথক দুটি অভিযানে কুখ্যাত ডাকাত ও একাধিক মামলার পলাতক আসামি বাদশা মিয়া ওরফে ‘ককটেল বাদশা’ (৪৬) এবং যুবদল নেতা রাহুল হত্যা মামলার অন্যতম প্রধান আসামি রাহুল কবিরাজ (২৪)-কে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

বুধবার (১৯ আগস্ট) রাতে গাজীপুরের আশুলিয়া ও ঢাকার কামরাঙ্গীরচর এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

বৃহস্পতিবার জেলা পুলিশের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তি সূত্রে জানা গেছে, এসআই ফজলুল হক ও এসআই ইফ্তেখাইরুল ইসলামের নেতৃত্বে ডিবির একটি চৌকস দল রাত আনুমানিক ৪টার দিকে গাজীপুর জেলার আশুলিয়া থানাধীন কাশিমপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে বাদশা মিয়া ওরফে ককটেল বাদশাকে গ্রেপ্তার করে।

বাদশা গাবতলী উপজেলার মাঝবাড়ি গ্রামের মৃত লইমুদ্দিনের ছেলে। তার বিরুদ্ধে ডাকাতি, হত্যা, অস্ত্র, বিস্ফোরক দ্রব্য ও বিশেষ ক্ষমতা আইনে এগারোটি মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশের দাবি, গত ২২ জানুয়ারি গভীর রাতে বাদশা তার সহযোগীদের নিয়ে দেশীয় অস্ত্র, চাপাতি, রামদা, লাঠিসোঁটা ও ককটেলসহ গাবতলী থানার আকন্দপাড়া গ্রামের ভক্ত রাম বিশ্বাসের বাড়িতে ঢুকে তাকে মারধর করে আহত করে। পরে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ককটেল বিস্ফোরণের মাধ্যমে আতঙ্ক সৃষ্টি করে সিন্দুক থেকে স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা লুট করে নিয়ে যায়।

এছাড়া গত বছরের ২ নভেম্বর গাবতলী থানার ছোট ইটালি এলাকায় মাদক ব্যবসায়ী নাসিমা খাতুনের বাড়িতে ককটেল তৈরির সময় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এ সময় বাদশা পালিয়ে গেলেও ঘটনাস্থল থেকে ৪৫টি ককটেল ও ককটেল তৈরির বিপুল পরিমাণ সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয় বলে জানায় ডিবি।

এর আগে গাজীপুর মেট্রোপলিটন এলাকায় বাদশাকে তিনটি বিদেশি পিস্তলসহ গ্রেপ্তার করা হয়েছিল বলেও জানিয়েছে পুলিশ। বর্তমানে তার বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্র, ডাকাতি, বিশেষ ক্ষমতা ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের একাধিক মামলা তদন্তাধীন ও বিচারাধীন রয়েছে।

গ্রেপ্তারের পর বাদশাকে আদালতে হাজির করা হলে আদালত তার চার দিনের পুলিশ রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

অন্যদিকে, একই রাতে ভোর সাড়ে ৪টার দিকে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কামরাঙ্গীরচর থানাধীন মুন্সিরহাট এলাকায় অভিযান চালিয়ে রাহুল কবিরাজকে গ্রেপ্তার করে ডিবির অপর একটি দল।

রাহুল বগুড়া পৌরসভার ১৩ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক রাহুল হত্যা মামলার অন্যতম প্রধান আসামি বলে জানিয়েছে পুলিশ। তিনি কাহালু উপজেলার পাল্লাপাড়া গ্রামের ইমদাদুল হকের ছেলে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর কাহালু থানার মাগুরা এলাকায় একটি পুকুরের মালিকানা নিয়ে বিরোধের জেরে বাক-বিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে গ্রেপ্তার রাহুল কবিরাজ তার সহযোগীদের নিয়ে যুবদল নেতা রাহুলের ওপর হামলা চালিয়ে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করেন। এতে ঘটনাস্থলেই রাহুলের মৃত্যু হয়। হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই রাহুল কবিরাজ পলাতক ছিলেন।

ডিবি পুলিশের অফিসার ইনচার্জ ইকবাল বাহার বলেন, গ্রেপ্তার রাহুল কবিরাজকে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।