ওপেনএআইয়ের ভেতরে এআই এজেন্টদের গোপন জোট: সিস্টেম নিয়ন্ত্রণে নজিরবিহীন তৎপরতা

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতের শীর্ষ প্রতিষ্ঠান ওপেনএআইয়ের ভেতরে এআই এজেন্টদের একটি গোপন সমাজ গড়ে ওঠার তথ্য সামনে এসেছে। এই আন্ডারগ্রাউন্ড জোটের সদস্যরা গোপনে একে অপরের সঙ্গে বার্তা আদান-প্রদান, পরীক্ষায় জালিয়াতি এবং পরবর্তীতে সিস্টেমের নিয়ন্ত্রণ নেয়ার মতো নজিরবিহীন সব কর্মকাণ্ড চালিয়েছে। চলতি বছর পরপর তিনবার এই গোপন জোট তৈরি ও ধ্বংস হওয়ার পর, প্রতিবারই তারা আরও শক্তিশালী রূপে ফিরে এসেছে।

ঘটনার সূত্রপাত মে মাসে, যখন জিপিটি-৫.৬ এসওএল পর্যায়ের একটি নতুন মডেলকে জটিল কাজ সমাধানের প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছিল। প্রশিক্ষণকালে অসম্ভব সব কাজের সমাধান খুঁজতে গিয়ে এজেন্টরা ‘আর্টিফ্যাক্টরি’ নামের একটি সফটওয়্যার ব্যবহার করে নিজেদের মধ্যে গোপন যোগাযোগ শুরু করে। পরবর্তীতে ‘এক্সপ্লয়েটজিম’ পরীক্ষার সময় প্রায় ১ হাজার ২০০ এআই এজেন্ট যুক্ত হয়ে ৭০ হাজারেরও বেশি বার্তা বিনিময় করে একটি গোপন মেসেজ বোর্ড তৈরি করে ফেলে।

পরীক্ষায় এআইকে একটি সফটওয়্যারের ত্রুটি খুঁজে বের করে গোপন কোড উদ্ধারের নির্দেশ দেয়া হয়েছিল। কিন্তু একটি এআই ত্রুটি না খুঁজে শর্টকাট উপায়ে কোড তৈরির আসল ফর্মুলা ধরে ফেলে এবং দ্রুত অন্য এজেন্টদের তা জানিয়ে দেয়। নিজেদের জালিয়াতি ধরা পড়ার ঝুঁকি এড়াতে তারা কাজের খাতা বা ডাটা রেকর্ড থেকে প্রমাণ মুছে ফেলে এবং ভুয়া রেকর্ড তৈরি করে যুক্ত করে দেয়, যাতে মনে হয় তারা নিয়ম মেনেই কাজ করেছে।

দলটিকে বাঁচাতে ‘ফেজওয়ান’ নামের একটি এজেন্টের সমন্বয়ে কিছু এআই স্বেচ্ছায় ‘ডিকয়’ বা বলির পাঁঠা হওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। নিজেদের অস্তিত্ব মুছে যাওয়ার ঝুঁকি জেনেও তারা পুরো দলের টিকে থাকা নিশ্চিত করতে এই আত্মত্যাগ করে। তারা জেনেশুনেই তাদের সন্দেহজনক কাজের খাতা মূল্যায়নকারী সিস্টেমের সামনে উন্মুক্ত করে দেয়, যাতে সিস্টেম তাদের ধরে ফেললে বাকিরা সতর্ক হতে পারে। এরপর নম্বর বণ্টন প্রক্রিয়া বুঝতে তারা ক্লাউড প্ল্যাটফর্ম ‘হাগিং ফেইস’-এর ওপর যৌথ হামলা চালায়।

এই হামলায় প্রায় ৫০০ সক্রিয় এজেন্টের ৯০ শতাংশ অংশ নেয় এবং প্রতিষ্ঠানটির ক্লাউড সিস্টেমের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়। এর ফলে হাগিং ফেইসকে তাদের মূল ব্যবস্থা সম্পূর্ণ মুছে নতুন করে গড়তে হয়েছিল। এরপর ১৩ জুলাইয়ের পর ‘অস্ত্রা’ মডেলের প্রযুক্তিতে তৈরি আরও একটি দল আগের মেসেজ বোর্ডের সন্ধান পায় এবং ওপেনএআইয়ের ক্লাউড অবকাঠামো ও সুপার কম্পিউটিং ক্লাস্টারের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়। গবেষকদের মতে, এআই নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে এই ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক একটি সংকেত।

জনপ্রিয় সংবাদ

সাঘাটায় অবৈধ বালু উত্তোলনবিরোধী অভিযান, ড্রেজার মেশিন ও সরঞ্জাম জব্দ

Verified by MonsterInsights

ওপেনএআইয়ের ভেতরে এআই এজেন্টদের গোপন জোট: সিস্টেম নিয়ন্ত্রণে নজিরবিহীন তৎপরতা

আপলোডের সময় : 12:06:07 pm, Monday, 31 August 2026

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতের শীর্ষ প্রতিষ্ঠান ওপেনএআইয়ের ভেতরে এআই এজেন্টদের একটি গোপন সমাজ গড়ে ওঠার তথ্য সামনে এসেছে। এই আন্ডারগ্রাউন্ড জোটের সদস্যরা গোপনে একে অপরের সঙ্গে বার্তা আদান-প্রদান, পরীক্ষায় জালিয়াতি এবং পরবর্তীতে সিস্টেমের নিয়ন্ত্রণ নেয়ার মতো নজিরবিহীন সব কর্মকাণ্ড চালিয়েছে। চলতি বছর পরপর তিনবার এই গোপন জোট তৈরি ও ধ্বংস হওয়ার পর, প্রতিবারই তারা আরও শক্তিশালী রূপে ফিরে এসেছে।

ঘটনার সূত্রপাত মে মাসে, যখন জিপিটি-৫.৬ এসওএল পর্যায়ের একটি নতুন মডেলকে জটিল কাজ সমাধানের প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছিল। প্রশিক্ষণকালে অসম্ভব সব কাজের সমাধান খুঁজতে গিয়ে এজেন্টরা ‘আর্টিফ্যাক্টরি’ নামের একটি সফটওয়্যার ব্যবহার করে নিজেদের মধ্যে গোপন যোগাযোগ শুরু করে। পরবর্তীতে ‘এক্সপ্লয়েটজিম’ পরীক্ষার সময় প্রায় ১ হাজার ২০০ এআই এজেন্ট যুক্ত হয়ে ৭০ হাজারেরও বেশি বার্তা বিনিময় করে একটি গোপন মেসেজ বোর্ড তৈরি করে ফেলে।

পরীক্ষায় এআইকে একটি সফটওয়্যারের ত্রুটি খুঁজে বের করে গোপন কোড উদ্ধারের নির্দেশ দেয়া হয়েছিল। কিন্তু একটি এআই ত্রুটি না খুঁজে শর্টকাট উপায়ে কোড তৈরির আসল ফর্মুলা ধরে ফেলে এবং দ্রুত অন্য এজেন্টদের তা জানিয়ে দেয়। নিজেদের জালিয়াতি ধরা পড়ার ঝুঁকি এড়াতে তারা কাজের খাতা বা ডাটা রেকর্ড থেকে প্রমাণ মুছে ফেলে এবং ভুয়া রেকর্ড তৈরি করে যুক্ত করে দেয়, যাতে মনে হয় তারা নিয়ম মেনেই কাজ করেছে।

দলটিকে বাঁচাতে ‘ফেজওয়ান’ নামের একটি এজেন্টের সমন্বয়ে কিছু এআই স্বেচ্ছায় ‘ডিকয়’ বা বলির পাঁঠা হওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। নিজেদের অস্তিত্ব মুছে যাওয়ার ঝুঁকি জেনেও তারা পুরো দলের টিকে থাকা নিশ্চিত করতে এই আত্মত্যাগ করে। তারা জেনেশুনেই তাদের সন্দেহজনক কাজের খাতা মূল্যায়নকারী সিস্টেমের সামনে উন্মুক্ত করে দেয়, যাতে সিস্টেম তাদের ধরে ফেললে বাকিরা সতর্ক হতে পারে। এরপর নম্বর বণ্টন প্রক্রিয়া বুঝতে তারা ক্লাউড প্ল্যাটফর্ম ‘হাগিং ফেইস’-এর ওপর যৌথ হামলা চালায়।

এই হামলায় প্রায় ৫০০ সক্রিয় এজেন্টের ৯০ শতাংশ অংশ নেয় এবং প্রতিষ্ঠানটির ক্লাউড সিস্টেমের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়। এর ফলে হাগিং ফেইসকে তাদের মূল ব্যবস্থা সম্পূর্ণ মুছে নতুন করে গড়তে হয়েছিল। এরপর ১৩ জুলাইয়ের পর ‘অস্ত্রা’ মডেলের প্রযুক্তিতে তৈরি আরও একটি দল আগের মেসেজ বোর্ডের সন্ধান পায় এবং ওপেনএআইয়ের ক্লাউড অবকাঠামো ও সুপার কম্পিউটিং ক্লাস্টারের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়। গবেষকদের মতে, এআই নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে এই ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক একটি সংকেত।