ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের মাঝপথে পাকিস্তান দলে বড় রদবদল, বাদ পড়লেন রিজওয়ান-ইমামসহ ৭ জন

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে চলমান তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজে ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে থাকা পাকিস্তান দল পুনর্গঠনে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে। হেডিংলি ও লর্ডস টেস্টে শোচনীয় হারের পর টিম ম্যানেজমেন্ট দলের প্রায় অর্ধেক খেলোয়াড়কে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। একই সঙ্গে প্রধান কোচ সরফরাজ আহমেদ এবং বোলিং কোচ উমর গুলকে তাদের পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

কোচিং প্যানেলে বড় পরিবর্তনের অংশ হিসেবে সীমিত ওভারের দলের প্রধান কোচ মাইক হেসন এবং বোলিং কোচ অ্যাশলে নফকে টেস্ট দলের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে হেসন টেস্ট দলের প্রধান কোচের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। গত এপ্রিলে বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজের আগে সরফরাজ ও উমর গুলের নিয়োগ হয়েছিল, যা ছিল তাদের তৃতীয় সিরিজ।

দলে বড় রদবদলের শিকার হওয়া সাত খেলোয়াড় হলেন মোহাম্মদ রিজওয়ান, ইমাম-উল-হক, সালমান আগা, আলী উসমান, আমের জামাল, আওয়াইস জাফর ও খুররম শাহজাদ। এর মধ্যে আলী উসমানকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তটি বেশ চমকপ্রদ, কারণ হেডিংলিতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দ্বিতীয় ইনিংসে তিনি ৫ উইকেট নিয়েছিলেন এবং ১৯৭২ সালের পর ওই ভেন্যুতে প্রথম অতিথি স্পিনার হিসেবে এই নজির গড়েছিলেন।

ব্যাটিং ব্যর্থতার কারণে রিজওয়ানকে বাদ দেওয়া হয়েছে। লর্ডসে তার স্কোর ছিল ৭ ও ১, আর হেডিংলিতে ১২ ও ৪১। এর আগে ওয়েস্ট ইন্ডিজে তিন ইনিংসে তিনি করেছিলেন মাত্র ৪১ রান। অন্যদিকে, লর্ডস টেস্টে চোটের কারণে দুই ইনিংসে ব্যাট করতে না পারা ইমাম-উল-হক তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েন। টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক সালমান আগা ব্যাটিং ফর্মের কারণে দল থেকে বাদ পড়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আগামী ৯ সেপ্টেম্বর এজবাস্টনে শুরু হতে যাওয়া তৃতীয় টেস্টের জন্য দলে পাঁচ নতুন মুখকে ডাকা হয়েছে। তারা হলেন আরাফাত মিনহাজ, মোহাম্মদ ইমরান জুনিয়র, সাদ বেগ, মোহাম্মদ ইমরান রান্ধাওয়া ও রাজউল্লাহ। এই পাঁচজনের পাশাপাশি সাইম আইয়ুব ও আবদুল্লাহ ফজলকেও দলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যাদের সম্মিলিত অভিজ্ঞতা মাত্র ১০ ম্যাচের। নতুনদের মধ্যে বাঁহাতি স্পিনার মিনহাজ চলতি বছরের মে মাসে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডেতে ম্যাচসেরা হয়ে নজর কেড়েছিলেন।

সিরিজের মাঝপথে এবং সিরিজ হার নিশ্চিত হওয়ার পর এমন বড় পরিসরে দল পুনর্গঠন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বিরল। এর আগে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে সর্বশেষ টেস্ট খেলা সাইম আইয়ুব ফিটনেস সমস্যার কারণে দীর্ঘ সময় দলের বাইরে ছিলেন। এছাড়া টেস্ট ক্রিকেটে ৭ ম্যাচে ৯ বার এলবিডব্লিউ হওয়ার ঘটনা ব্যাটারদের টেকনিক্যাল সীমাবদ্ধতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: পরিস্থিতি এতটাই বদলে গেছে যে পাকিস্তানের টেস্ট দলে পাঁচজন নতুন মুখের পাশাপাশি সাইম আইয়ুব ও আবদুল্লাহ ফজলকে ডাকা হয়েছে, যাঁদের সম্মিলিত অভিজ্ঞতা মাত্র ১০ ম্যাচের। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ৭ টেস্টে ৯ বার এলবিডব্লু—সমস্যা রুটের না বলের। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: চলতি সফরে মিডিয়াম পেসার মোহাম্মদ আব্বাসের বোলিংয়ে স্টাম্পের কাছে দাঁড়িয়ে অসাধারণ কিপিং করলেও ব্যাট হাতে রান পাচ্ছিলেন না রিজওয়ান। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: পাকিস্তানের এখন জয়ের চেয়ে হার বেশি, অন্য দেশগুলোর হিসাব কী। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ধারণা করা হচ্ছে, ব্যাটিং ফর্ম পড়ে যাওয়ার কারণে হেডিংলিতে ভারপ্রাপ্ত অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করার পরও তাঁকে দল থেকে বাদ দেওয়া হয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: চলতি বছরের শুরুতে টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের পর থেকে পাকিস্তানের জার্সিতে আর খেলেননি আইয়ুব। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ফিটনেস সমস্যায় কোনো সংস্করণেই তাঁকে বিবেচনা করা হয়নি।

জনপ্রিয় সংবাদ

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন ৩ নভেম্বর: ট্রাম্পের ক্ষমতা নির্ধারণে বড় পরীক্ষা

Verified by MonsterInsights

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের মাঝপথে পাকিস্তান দলে বড় রদবদল, বাদ পড়লেন রিজওয়ান-ইমামসহ ৭ জন

আপলোডের সময় : 11:13:33 am, Tuesday, 1 September 2026

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে চলমান তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজে ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে থাকা পাকিস্তান দল পুনর্গঠনে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে। হেডিংলি ও লর্ডস টেস্টে শোচনীয় হারের পর টিম ম্যানেজমেন্ট দলের প্রায় অর্ধেক খেলোয়াড়কে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। একই সঙ্গে প্রধান কোচ সরফরাজ আহমেদ এবং বোলিং কোচ উমর গুলকে তাদের পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

কোচিং প্যানেলে বড় পরিবর্তনের অংশ হিসেবে সীমিত ওভারের দলের প্রধান কোচ মাইক হেসন এবং বোলিং কোচ অ্যাশলে নফকে টেস্ট দলের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে হেসন টেস্ট দলের প্রধান কোচের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। গত এপ্রিলে বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজের আগে সরফরাজ ও উমর গুলের নিয়োগ হয়েছিল, যা ছিল তাদের তৃতীয় সিরিজ।

দলে বড় রদবদলের শিকার হওয়া সাত খেলোয়াড় হলেন মোহাম্মদ রিজওয়ান, ইমাম-উল-হক, সালমান আগা, আলী উসমান, আমের জামাল, আওয়াইস জাফর ও খুররম শাহজাদ। এর মধ্যে আলী উসমানকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তটি বেশ চমকপ্রদ, কারণ হেডিংলিতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দ্বিতীয় ইনিংসে তিনি ৫ উইকেট নিয়েছিলেন এবং ১৯৭২ সালের পর ওই ভেন্যুতে প্রথম অতিথি স্পিনার হিসেবে এই নজির গড়েছিলেন।

ব্যাটিং ব্যর্থতার কারণে রিজওয়ানকে বাদ দেওয়া হয়েছে। লর্ডসে তার স্কোর ছিল ৭ ও ১, আর হেডিংলিতে ১২ ও ৪১। এর আগে ওয়েস্ট ইন্ডিজে তিন ইনিংসে তিনি করেছিলেন মাত্র ৪১ রান। অন্যদিকে, লর্ডস টেস্টে চোটের কারণে দুই ইনিংসে ব্যাট করতে না পারা ইমাম-উল-হক তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েন। টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক সালমান আগা ব্যাটিং ফর্মের কারণে দল থেকে বাদ পড়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আগামী ৯ সেপ্টেম্বর এজবাস্টনে শুরু হতে যাওয়া তৃতীয় টেস্টের জন্য দলে পাঁচ নতুন মুখকে ডাকা হয়েছে। তারা হলেন আরাফাত মিনহাজ, মোহাম্মদ ইমরান জুনিয়র, সাদ বেগ, মোহাম্মদ ইমরান রান্ধাওয়া ও রাজউল্লাহ। এই পাঁচজনের পাশাপাশি সাইম আইয়ুব ও আবদুল্লাহ ফজলকেও দলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যাদের সম্মিলিত অভিজ্ঞতা মাত্র ১০ ম্যাচের। নতুনদের মধ্যে বাঁহাতি স্পিনার মিনহাজ চলতি বছরের মে মাসে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডেতে ম্যাচসেরা হয়ে নজর কেড়েছিলেন।

সিরিজের মাঝপথে এবং সিরিজ হার নিশ্চিত হওয়ার পর এমন বড় পরিসরে দল পুনর্গঠন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বিরল। এর আগে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে সর্বশেষ টেস্ট খেলা সাইম আইয়ুব ফিটনেস সমস্যার কারণে দীর্ঘ সময় দলের বাইরে ছিলেন। এছাড়া টেস্ট ক্রিকেটে ৭ ম্যাচে ৯ বার এলবিডব্লিউ হওয়ার ঘটনা ব্যাটারদের টেকনিক্যাল সীমাবদ্ধতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: পরিস্থিতি এতটাই বদলে গেছে যে পাকিস্তানের টেস্ট দলে পাঁচজন নতুন মুখের পাশাপাশি সাইম আইয়ুব ও আবদুল্লাহ ফজলকে ডাকা হয়েছে, যাঁদের সম্মিলিত অভিজ্ঞতা মাত্র ১০ ম্যাচের। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ৭ টেস্টে ৯ বার এলবিডব্লু—সমস্যা রুটের না বলের। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: চলতি সফরে মিডিয়াম পেসার মোহাম্মদ আব্বাসের বোলিংয়ে স্টাম্পের কাছে দাঁড়িয়ে অসাধারণ কিপিং করলেও ব্যাট হাতে রান পাচ্ছিলেন না রিজওয়ান। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: পাকিস্তানের এখন জয়ের চেয়ে হার বেশি, অন্য দেশগুলোর হিসাব কী। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ধারণা করা হচ্ছে, ব্যাটিং ফর্ম পড়ে যাওয়ার কারণে হেডিংলিতে ভারপ্রাপ্ত অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করার পরও তাঁকে দল থেকে বাদ দেওয়া হয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: চলতি বছরের শুরুতে টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের পর থেকে পাকিস্তানের জার্সিতে আর খেলেননি আইয়ুব। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ফিটনেস সমস্যায় কোনো সংস্করণেই তাঁকে বিবেচনা করা হয়নি।