
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) প্যারিসের পার্ক দে প্রিন্সেসে অনুষ্ঠিত উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের হাইভোল্টেজ ম্যাচে বর্তমান ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়ন পিএসজির কাছে ৪-২ ব্যবধানে পরাজিত হয়েছে বার্সেলোনা। এই পরাজয়ের ফলে চলতি মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা ১১ ম্যাচ জয়ের অসাধারণ দৌড় থামল হান্সি ফ্লিকের দলের। লুইস এনরিকের শিষ্যদের বিপক্ষে লড়াকু মেজাজে থাকলেও শেষ রক্ষা হয়নি কাতালানদের।
ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দলই ছিল আক্রমণাত্মক। পিএসজির খিচা কাভারাস্কেইয়ার একটি শক্তিশালী শট বার্সেলোনার গোলরক্ষক হোয়ান গার্সিয়া রুখে দেওয়ার পর বল পোস্টে লেগে ফিরে আসে। অন্যদিকে চোটের কারণে প্রথমার্ধেই দুই দল তাদের গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় হারায়; মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন পিএসজির উসমান দেম্বেলে এবং বার্সেলোনার দানি ওলমো। অন্যদিকে ম্যাচের গতি বদলাতে একসঙ্গে তিন খেলোয়াড় পরিবর্তন করেন বার্সেলোনা কোচ ফ্লিক।
ম্যাচের ৩৮তম মিনিটে ডেডলক ভাঙেন পিএসজির দেজিরে দুয়ে।
লামিন ইয়ামালের পাস মাঝপথে লুফে নিয়ে বক্সের বাইরে থেকে নিচু শটে গোল করেন তিনি।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ পেয়েছিলেন আশরাফ হাকিমি, কিন্তু ৫০ মিনিটে গোলরক্ষককে একা পেয়েও তিনি লক্ষ্যভেদ করতে ব্যর্থ হন। এর কিছুক্ষণ পরেই ফেরমিন লোপেজের সঙ্গে বোঝাপড়া করে তরুণ জাভি এসপার্ট পিএসজির জালে বল জড়িয়ে বার্সেলোনাকে ১-১ সমতায় ফেরান। চ্যাম্পিয়নস লিগে এটি তাঁর প্রথম গোল ছিল। পাল্টা আক্রমণে বার্সেলোনাও সুযোগ তৈরি করে। তাঁদের বদলি হিসেবে নামা ফেরান তোরেস ও ফেরমিন লোপেজও গোলের সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি।
ম্যাচের ৭০তম মিনিটে ফেরান তোরেসের শট পোস্টে লেগে ফিরে এলে দুর্ভাগ্য সঙ্গী হয় বার্সেলোনার। এর খানিক পরেই কর্নার থেকে পাওয়া বলে দুর্দান্ত হেডে লক্ষ্যভেদ করেন লুকাস এরনান্দেস, যা স্বাগতিকদের ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেয়। তবে ৭৯ মিনিটে লামিন ইয়ামাল বুটের বাইরের অংশ ব্যবহার করে অসাধারণ গোল করলে ফের ২-২ সমতায় ফিরে আসে ম্যাচ। ম্যাচের ৩৮ মিনিটে এগিয়ে যায় পিএসজি। তবে গাভির একটি শট আটকে যায় প্রতিপক্ষের রক্ষণে। ৭০ মিনিটে ফেরান তোরেসের শট পোস্টে লেগে ফিরে এলে আবারও গোলবঞ্চিত হয় বার্সেলোনা।
পিএসজির জয় নিশ্চিত হয় শেষ মুহূর্তের দারুণ নৈপুণ্যে। সমতায় ফেরার কিছুক্ষণের মধ্যেই ভিতিনিয়া বুক দিয়ে বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে জোরালো শটে গোল করে পিএসজিকে ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে দেন। ম্যাচের একদম শেষ দিকে আশরাফ হাকিমির ক্রস থেকে ফাঁকা জায়গায় বল পেয়ে ফাবিয়ান রুইস গোল করলে পিএসজির ৪-২ ব্যবধানের জয় নিশ্চিত হয়। দুইবার সমতায় ফিরেও শেষ পর্যন্ত পিএসজির আক্রমণভাগ সামলাতে না পেরে হারের তেতো স্বাদ নিতে হয়েছে বার্সেলোনাকে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত প্যারিস সেন্ট জার্মেইর (পিএসজি) আক্রমণ সামলাতে পারেনি কাতালানরা। কিন্তু এবারও বেশিক্ষণ সমতা ধরে রাখতে পারেনি বার্সেলোনা।
প্রতিনিধির নাম 

























