
রাওয়ালপিন্ডিতে ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজে দুর্দান্ত জয় তুলে নিয়েছে পাকিস্তান। আরাফাত মিনহাসের ক্যারিয়ার সেরা অলরাউন্ড নৈপুণ্যে ভর করে ইংল্যান্ডকে ৮৭ রানে হারিয়েছে স্বাগতিকরা। ম্যাচে ব্যাট হাতে অর্ধশতকের পর বল হাতে বিধ্বংসী স্পিনে ৬ উইকেট শিকার করেছেন এই বাঁহাতি স্পিনার।
প্রথমে ব্যাটিং করতে নেমে শুরুটা ভালো হয়নি পাকিস্তানের। ৩১ রানেই দুই উইকেট হারানোর পর বাবর আজমও সুবিধা করতে পারেননি, উইল জ্যাকসের বলে বোল্ড হওয়ার আগে তিনি করেন ৩৪ রান। ১৯তম ওভার শেষে পাকিস্তানের সংগ্রহ যখন ৮১ রানে ৪ উইকেট, তখন ম্যাচ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিতে জুটি বাঁধেন মিনহাস ও নওয়াজ। তাদের ৭৮ রানের কার্যকরী জুটি ম্যাচে গতি ফেরায়। নওয়াজ ৪৬ বলে অর্ধশতক হাঁকিয়ে শেষ পর্যন্ত ৭৪ বলে ৭৯ রান সংগ্রহ করেন। এরপর ফাহিম আশরাফের সাথে মিলে মিনহাস আরও ৪৯ বলে ৭২ রান যোগ করলে পাকিস্তানের দলীয় সংগ্রহ ৯ উইকেটে ৩০২ রানে পৌঁছায়। মিনহাস নিজের ইনিংসটি সাজান ৫৮ বলে ৫৯ রানে। ইংল্যান্ডের পক্ষে সনি বেকার ৬৫ রানে নেন ৩টি উইকেট। দলের হয়ে ৫৮ বলে ৫৯ রানের কার্যকর ইনিংস খেলেন মিনহাস। ৩১ রানে ২ উইকেট হারানোর পর বাবর আজমও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। ওয়ানডেতে অর্ধশতক ও পাঁচ উইকেট নেওয়ার কীর্তি গড়া তৃতীয় পাকিস্তানি ক্রিকেটার হলেন তিনি। শিশিরের সুবিধা নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ভালো করার আশা ছিল তার। তবে শুরুতে পাকিস্তানকে চাপে ফেললেও সেই সুবিধা কাজে লাগাতে পারেনি ইংলিশরা। সেখান থেকে দলকে লড়াইয়ে ফেরান হাসান নওয়াজ ও মিনহাস। শেষদিকে আশরাফের আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে ৩০০ রানের গণ্ডি পেরিয়ে যায় পাকিস্তান। ইংল্যান্ডের হয়ে সনি বেকার ৬৫ রানে নেন ৩ উইকেট। ব্যান্টনকে ফিরিয়ে শুরু করা আঘাতের পর ব্রুককে বোল্ড করেন তিনি। ব্যাটে-বলে অসাধারণ পারফরম্যান্সে পাকিস্তানকে বড় জয় এনে দেওয়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজের আগমনী বার্তাও জোরালোভাবে জানালেন মিনহাস।
৩০৩ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে উদ্বোধনী জুটিতে বেন ডাকেট ও টম ব্যান্টন ৯১ রান তুলে ইংল্যান্ডকে দারুণ সূচনা এনে দেন। ডাকেট ৮৬ এবং ব্যান্টন ৫৭ রান করে আউট হওয়ার পর ম্যাচের মোড় ঘুরে যায়। এরপর মিনহাসের স্পিন ঘূর্ণিতে দিশেহারা ইংলিশ ব্যাটিং লাইনআপ নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে। নিজের পঞ্চম ওয়ানডে খেলতে নামা মিনহাস ৪০ রানে ৬ উইকেট দখল করেন, যা তার ওয়ানডে ক্যারিয়ারে দ্বিতীয়বারের মতো পাঁচ বা তার বেশি উইকেট শিকার। শেষ পর্যন্ত ৪৩.৪ ওভারে ২১৫ রানেই অলআউট হয়ে যায় ইংল্যান্ড। নিজের পঞ্চম ওয়ানডে খেলতে নেমেই দ্বিতীয়বার পেলেন ৫ বা তার বেশি উইকেটের স্বাদ। টস জিতে আগে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি ব্রুক। এরপর জো রুট ও স্যাম কারানের বিদায়ে চাপে পড়ে ইংল্যান্ড। গাস অ্যাটকিনসনকে রানআউট করে ম্যাচের শেষটাও নিজের করে নেন এই তরুণ অলরাউন্ডার।
প্রতিনিধির নাম 

























