এআই শিল্প নিয়ে ট্রাম্পের ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ চুক্তি ও নতুন

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প প্রযুক্তি খাতের শীর্ষস্থানীয় নির্বাহীদের নিয়ে হোয়াইট হাউসে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেছেন। এই সম্মেলনে তিনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই শিল্পে জড়িত ব্যক্তিদের প্রশংসা করে তাদের ‘আমেরিকার স্বর্ণযুগ’ তৈরির কারিগর হিসেবে অভিহিত করেন। বৈঠকটিতে গুগলের প্রধান সুন্দর পিচাই, মেটার মার্ক জাকারবার্গ, অ্যানথ্রপিকের দারিও আমোদেই, ওপেনএআইয়ের প্রেসিডেন্ট গ্রেগ ব্রকম্যান, স্পেসএক্সের ইলন মাস্ক এবং এনভিডিয়ার প্রধান নির্বাহী জেনসেন হুয়াংয়ের মতো প্রভাবশালী ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। এমন এক সময়ে এই সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হলো, যখন খোদ প্রযুক্তি খাতের অনেক বিশেষজ্ঞ ও নির্বাহী এআইয়ের ওপর কঠোর নজরদারি এবং এর উন্নয়নের গতি ধীর করার দাবি জানিয়ে আসছেন। তাদের মূল উদ্বেগ হলো, এই প্রযুক্তি মানবজাতির জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। অতিথিদের তালিকায় ছিলেন ওপেনএআই, অ্যানথ্রপিক, এনভিডিয়া, মেটা এবং গুগলের শীর্ষ কর্মকর্তারা। তারা সবাই যুক্তরাষ্ট্রের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই শিল্পের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি। তার ভাষায়, এটি এআইয়ের সম্ভাব্য ঝুঁকি থেকে সুরক্ষার একটি ব্যবস্থা হিসেবে কাজ করবে।

রুদ্ধদ্বার বৈঠকের পর প্রায় ৩০ মিনিট ধরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দেন ট্রাম্প। এ সময় প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার মাইক জনসন তার সঙ্গে ছিলেন। বৈঠকের অন্যতম ফলাফল হিসেবে একটি ‘নৈতিকভাবে বাধ্যতামূলক’ চুক্তির কথা জানানো হয়েছে, যেখানে উপস্থিত শীর্ষ নির্বাহীরা স্বাক্ষর করেছেন। ট্রাম্প জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট হিসেবে তিনিও এতে স্বাক্ষর করেছেন এবং একে ‘সংবিধানের মতো’ গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। চুক্তির লক্ষ্য হলো এআই প্রযুক্তির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, যাতে মডেলগুলো প্রত্যাশিতভাবে কাজ করে এবং কোনো ত্রুটি দেখা দিলে তা দ্রুত শনাক্ত ও সমাধান করা সম্ভব হয়। ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে চুক্তিটি প্রকাশ করেছেন, তাতে বলা হয়েছে, নিজেদের প্রযুক্তির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব কোম্পানিগুলোর নিজেদেরই।

বৈঠকে ডাটা সেন্টার সম্প্রসারণের ওপর বিশেষ জোর দিয়েছেন ট্রাম্প। তবে দেশজুড়ে এ ধরনের কেন্দ্র নির্মাণের বিরুদ্ধে ব্যাপক জনমত রয়েছে। মূলত বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ খরচ এবং স্থানীয় পরিবেশে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কায় সাধারণ মানুষ ডাটা সেন্টার নির্মাণের বিরোধিতা করছেন। এনপিআর ও পিবিএস নিউজের সঙ্গে মারিস্ট পোলের সাম্প্রতিক জরিপ অনুযায়ী, নিবন্ধিত ভোটারদের প্রায় ৬৫ শতাংশই তাদের এলাকায় ডাটা সেন্টারের বিরোধিতা করেন। এই রাজনৈতিক ও সামাজিক বাধা অতিক্রম করতে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোকে সাধারণ মানুষের সন্তুষ্টি অর্জনে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে ডাটা সেন্টার নির্মাণ ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টির জন্য একটি সম্ভাব্য রাজনৈতিক বাধা হিসেবেও দেখা দিয়েছে।

বৈঠকের আরেকটি বড় চমক ছিল এআই সম্পর্কিত নতুন প্রশাসনিক নির্দেশ। ট্রাম্প একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন, যার মাধ্যমে সরকারি সব দাপ্তরিক যোগাযোগ, ওয়েবসাইট, প্রতিবেদন এবং নথিপত্রে ‘আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স’ বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা শব্দটির ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এর পরিবর্তে এখন থেকে ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ বা এসআই শব্দটি ব্যবহার করতে হবে। সরকারি নথিতে এই নতুন পরিভাষা ব্যবহারের নির্দেশনা দিয়ে ট্রাম্প জানান, বর্তমান সক্ষমতাগুলো শুধু কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নয়, বরং একটি নতুন সুপার ইন্টেলিজেন্স যুগের প্রতিনিধিত্ব করছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

সাঘাটায় অবৈধ বালু উত্তোলনবিরোধী অভিযান, ড্রেজার মেশিন ও সরঞ্জাম জব্দ

Verified by MonsterInsights

এআই শিল্প নিয়ে ট্রাম্পের ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ চুক্তি ও নতুন

আপলোডের সময় : 09:59:06 am, Wednesday, 30 September 2026

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প প্রযুক্তি খাতের শীর্ষস্থানীয় নির্বাহীদের নিয়ে হোয়াইট হাউসে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেছেন। এই সম্মেলনে তিনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই শিল্পে জড়িত ব্যক্তিদের প্রশংসা করে তাদের ‘আমেরিকার স্বর্ণযুগ’ তৈরির কারিগর হিসেবে অভিহিত করেন। বৈঠকটিতে গুগলের প্রধান সুন্দর পিচাই, মেটার মার্ক জাকারবার্গ, অ্যানথ্রপিকের দারিও আমোদেই, ওপেনএআইয়ের প্রেসিডেন্ট গ্রেগ ব্রকম্যান, স্পেসএক্সের ইলন মাস্ক এবং এনভিডিয়ার প্রধান নির্বাহী জেনসেন হুয়াংয়ের মতো প্রভাবশালী ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। এমন এক সময়ে এই সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হলো, যখন খোদ প্রযুক্তি খাতের অনেক বিশেষজ্ঞ ও নির্বাহী এআইয়ের ওপর কঠোর নজরদারি এবং এর উন্নয়নের গতি ধীর করার দাবি জানিয়ে আসছেন। তাদের মূল উদ্বেগ হলো, এই প্রযুক্তি মানবজাতির জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। অতিথিদের তালিকায় ছিলেন ওপেনএআই, অ্যানথ্রপিক, এনভিডিয়া, মেটা এবং গুগলের শীর্ষ কর্মকর্তারা। তারা সবাই যুক্তরাষ্ট্রের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই শিল্পের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি। তার ভাষায়, এটি এআইয়ের সম্ভাব্য ঝুঁকি থেকে সুরক্ষার একটি ব্যবস্থা হিসেবে কাজ করবে।

রুদ্ধদ্বার বৈঠকের পর প্রায় ৩০ মিনিট ধরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দেন ট্রাম্প। এ সময় প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার মাইক জনসন তার সঙ্গে ছিলেন। বৈঠকের অন্যতম ফলাফল হিসেবে একটি ‘নৈতিকভাবে বাধ্যতামূলক’ চুক্তির কথা জানানো হয়েছে, যেখানে উপস্থিত শীর্ষ নির্বাহীরা স্বাক্ষর করেছেন। ট্রাম্প জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট হিসেবে তিনিও এতে স্বাক্ষর করেছেন এবং একে ‘সংবিধানের মতো’ গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। চুক্তির লক্ষ্য হলো এআই প্রযুক্তির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, যাতে মডেলগুলো প্রত্যাশিতভাবে কাজ করে এবং কোনো ত্রুটি দেখা দিলে তা দ্রুত শনাক্ত ও সমাধান করা সম্ভব হয়। ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে চুক্তিটি প্রকাশ করেছেন, তাতে বলা হয়েছে, নিজেদের প্রযুক্তির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব কোম্পানিগুলোর নিজেদেরই।

বৈঠকে ডাটা সেন্টার সম্প্রসারণের ওপর বিশেষ জোর দিয়েছেন ট্রাম্প। তবে দেশজুড়ে এ ধরনের কেন্দ্র নির্মাণের বিরুদ্ধে ব্যাপক জনমত রয়েছে। মূলত বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ খরচ এবং স্থানীয় পরিবেশে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কায় সাধারণ মানুষ ডাটা সেন্টার নির্মাণের বিরোধিতা করছেন। এনপিআর ও পিবিএস নিউজের সঙ্গে মারিস্ট পোলের সাম্প্রতিক জরিপ অনুযায়ী, নিবন্ধিত ভোটারদের প্রায় ৬৫ শতাংশই তাদের এলাকায় ডাটা সেন্টারের বিরোধিতা করেন। এই রাজনৈতিক ও সামাজিক বাধা অতিক্রম করতে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোকে সাধারণ মানুষের সন্তুষ্টি অর্জনে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে ডাটা সেন্টার নির্মাণ ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টির জন্য একটি সম্ভাব্য রাজনৈতিক বাধা হিসেবেও দেখা দিয়েছে।

বৈঠকের আরেকটি বড় চমক ছিল এআই সম্পর্কিত নতুন প্রশাসনিক নির্দেশ। ট্রাম্প একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন, যার মাধ্যমে সরকারি সব দাপ্তরিক যোগাযোগ, ওয়েবসাইট, প্রতিবেদন এবং নথিপত্রে ‘আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স’ বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা শব্দটির ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এর পরিবর্তে এখন থেকে ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ বা এসআই শব্দটি ব্যবহার করতে হবে। সরকারি নথিতে এই নতুন পরিভাষা ব্যবহারের নির্দেশনা দিয়ে ট্রাম্প জানান, বর্তমান সক্ষমতাগুলো শুধু কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নয়, বরং একটি নতুন সুপার ইন্টেলিজেন্স যুগের প্রতিনিধিত্ব করছে।