
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজের আইকিউ বা বুদ্ধিমত্তাকে সবার চেয়ে বেশি বলে প্রকাশ্যে দাবি করেছেন। এই দাবির সপক্ষে তিনি ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির (এমআইটি) প্রয়াত পদার্থবিদ ও প্রকৌশলী জন ট্রাম্পের জিন ও বুদ্ধিমত্তার উত্তরাধিকার পাওয়ার বিষয়টি সামনে নিয়ে এসেছেন। ওপেনএআইয়ের প্রধান নির্বাহী স্যাম অল্টম্যানকে বিশ্বাস করার বিষয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে ট্রাম্প জানান, তিনি জেনেটিক্সে বিশ্বাসী এবং তার বুদ্ধিমত্তা মূলত তার চাচার কাছ থেকে পাওয়া। তিনি বলেন, তার চাচা জন ট্রাম্প দীর্ঘ ৪১ বছর এমআইটিতে কর্মরত ছিলেন এবং সেই সুবাদে তিনি বুদ্ধিমত্তার অনন্য গুণাবলী পেয়েছেন। সম্প্রতি ‘টাইম’ সাময়িকীকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ইরানের যুদ্ধ এবং মূলধারার গণমাধ্যমের সঙ্গে বিরোধের পাশাপাশি এই প্রসঙ্গটিও তোলেন ট্রাম্প।
জন ট্রাম্প ও ন্যাশনাল মেডেল অব সায়েন্স
ট্রাম্পের এই দাবির কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা জন ট্রাম্প এমআইটির প্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ছিলেন। তিনি চিকিৎসাক্ষেত্রে রেডিয়েশনের প্রয়োগের মতো গুরুত্বপূর্ণ গবেষণার জন্য ১৯৮৫ সালে মর্যাদাপূর্ণ ‘ন্যাশনাল মেডেল অব সায়েন্স’ পদক পেয়েছিলেন। ট্রাম্পের দাবি, সেই মেধাবী বংশধারার উত্তরাধিকারী হিসেবেই তিনি প্রখর বুদ্ধিমত্তার অধিকারী।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র সমালোচনা ও ট্রল
ট্রাম্পের এই মন্তব্য প্রকাশের পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। নেটিজেনরা জিন বা বংশগতি নিয়ে তার ব্যাখ্যার তীব্র সমালোচনা করেন। তাদের মতে, বংশগতির বিজ্ঞান সম্পর্কে ট্রাম্পের ধারণা ত্রুটিপূর্ণ। সমালোচকদের ভাষ্যমতে
- কারও চাচা বুদ্ধিমান হলেই কেউ তার মতো বুদ্ধিমান হয়ে যায়—এটা একেবারে অবৈজ্ঞানিক।
- চাচা বাবা না হওয়ায় বংশগতির সরাসরি প্রভাবের যে দাবি ট্রাম্প করেছেন, তা বিজ্ঞানসম্মত নয়।
- সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক ব্যবহারকারী বিদ্রূপ করে লিখেছেন, “চাচার বুদ্ধিমত্তা থাকলে ভাতিজার আইকিউ বেশি হয়ে যাবে, এমন অদ্ভুত দাবি কেবল ট্রাম্পেরই মানায়।”
বিজ্ঞানীদের মতে, বুদ্ধিমত্তা ও জিনগত বৈশিষ্ট্যের যে জটিল সমীকরণ ট্রাম্প উপস্থাপন করেছেন, তার কোনো জোরালো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। ট্রাম্পের এমন দাবির পর ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে তাকে নিয়ে হাস্যরস ও ট্রলের ঝড় এখনো অব্যাহত রয়েছে। নিজের বুদ্ধিমত্তা নিয়ে ট্রাম্পের এই আত্মবিশ্বাসী ঘোষণা শেষ পর্যন্ত নেটিজেনদের কাছে উপহাসের পাত্রে পরিণত হয়েছে। তবে ট্রাম্প বরাবরই নিজের সক্ষমতা নিয়ে এমন সাহসী মন্তব্যের জন্য পরিচিত, যদিও এই সাম্প্রতিক দাবিটি তাকে নতুন করে বিতর্কের মুখে ঠেলে দিয়েছে।
প্রতিনিধির নাম 
























