
সংযুক্ত আরব আমিরাতে ফুড ডেলিভারির ফাঁকে সময় পেলেই বাইক থামিয়ে পবিত্র কুরআন তিলাওয়াতে মগ্ন হন উগান্ডার প্রবাসী মনসুর কাতাবালওয়া। সম্প্রতি তার এই অনন্য মুহূর্তের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তিনি নেটিজেনদের প্রশংসায় ভাসছেন। তবে উগান্ডার এই নাগরিকের কাছে এটি কেবলই সাময়িক প্রশংসার বিষয় নয়, বরং যান্ত্রিক প্রবাস জীবনে ধর্ম ও হারিয়ে যাওয়া পরিবারের স্মৃতিকে জীবন্ত রাখার এক ব্যাকুল চেষ্টা।
পরিবার ও প্রবাস জীবনের কঠিন বাস্তবতায় ধর্মের আশ্রয়
স্বদেশ উগান্ডায় থাকা স্ত্রী ও দুই সন্তানের সুন্দর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে এবং তাদের মুখে হাসি ফোটাতে আমিরাতে পাড়ি জমিয়েছিলেন মনসুর। ডেলিভারি রাইডার হিসেবে সারাদিন ব্যস্ত সময় পার করতে হলেও মনসুর সবসময় ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলেন। সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, তিনি অত্যন্ত মনোযোগের সাথে বাইকের পাশে দাঁড়িয়ে কিংবা বসে কুরআন তিলাওয়াত করছেন। মনসুর জানান, ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার বহু আগে থেকেই তিনি নিয়মিত বিরতিতে এভাবে পবিত্র কুরআন পাঠ করে আসছেন।
শোকের মাঝে কুরআন হিফজ করার গল্প
এই প্রশংসনীয় অভ্যাসের পেছনে জড়িয়ে রয়েছে মনসুরের জীবনের এক বেদনাবিধুর ইতিহাস। প্রায় তিন বছর আগে মাত্র কিছুদিনের ব্যবধানে তিনি নিজের বাবা, মা এবং ভাইকে হারান। পর পর পরিবারের তিন প্রিয়জনকে হারানোর এই গভীর মানসিক আঘাত তাকে ধর্মের দিকে আরও ধাবিত করে। এই চরম শোকের সময় থেকেই তিনি পুরো কুরআন হিফজ বা মুখস্থ করা শুরু করেন এবং তা সম্পন্ন করেন।
সবসময় পবিত্র গ্রন্থ চর্চার প্রচেষ্টা
ডেলিভারির কাজে সারাদিন বাইক চালাতে হলেও কুরআন চর্চা থেকে তিনি বিরত থাকেন না। কাজের ফাঁকে রাস্তা দিয়ে যাতায়াতের সময় তিনি মোবাইলে তিলাওয়াত শোনেন যাতে পড়া ভুলে না যান। এরপর রাইডের মাঝে যখনই সামান্য অবসর মেলে, তখনই সাথে থাকা কুরআন শরিফ বের করে পড়তে শুরু করেন। মনসুর বলেন, ‘কাজের বিরতিতে কুরআন পড়লে তা আমাকে গভীরভাবে মনোযোগী হতে সাহায্য করে এবং মানসিকভাবে আল্লাহর কাছাকাছি অনুভব করি। আমি আমার প্রয়াত মা-বাবার আত্মার মাগফিরাত ও জান্নাতুল ফেরদাউস প্রার্থনার নিয়তেই কোরআন পাঠ ও চর্চা করি।’
প্রতিনিধির নাম 
























