গঙ্গাচড়ায় গুদামে পর্যাপ্ত মজুত সত্ত্বেও সার না পেয়ে বিপাকে

রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলায় সরকারি গুদামে পর্যাপ্ত সার মজুত থাকলেও স্থানীয় কৃষকেরা তা পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ উঠেছে। ফলে জমি প্রস্তুত করেও প্রয়োজনীয় সারের অভাবে তারা আগাম আলু, বাদাম, ভুট্টা ও অন্যান্য সবজির বীজ রোপণ করতে পারছেন না। নির্ধারিত সময়ে চাষাবাদ শুরু করতে না পারায় ফসলের ফলন পিছিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখোমুখি হওয়ার আশঙ্কায় ভুগছেন স্থানীয় কৃষকেরা। উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্যানুযায়ী, বর্তমানে উপজেলায় মোট ৮৩৬.২০ টন সার মজুত রয়েছে, অথচ কৃষকেরা প্রয়োজনের সময় সার না পাওয়ায় সার বণ্টন ও সরবরাহ ব্যবস্থার অসংগতি নিয়ে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

প্রতিবেদন ও পরিচিতি সংক্রান্ত তথ্য

  • সম্পাদনা: মাসুম বিল্লাহ
  • প্রতিবেদক: গঙ্গাচড়া (রংপুর) প্রতিনিধি
  • যোগাযোগ নম্বর: ০১৭০৪২৪৬৪৮৪
  • চিত্র পরিস্থিতি: গঙ্গাচড়ার মিনার বাজারে জমি প্রস্তুত থাকলেও সার না পেয়ে কৃষক বীজ বপন করতে পারছেন না

উপজেলার নোহালী ইউনিয়নের মিনার বাজারসহ সংলগ্ন এলাকার ভুক্তভোগী কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সারের চরম সংকটের কারণে তাদের নিয়মিত কৃষি কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। আগাম চাষাবাদ করে বাজারে ভালো দাম পাওয়ার যে সুযোগ ছিল, সারের অভাবে সময়মতো বীজ রোপণ করতে না পেরে সেই আর্থিক সুযোগ কৃষকেরা হারাতে বসেছেন।

মিনার বাজার এলাকার কৃষক মোশারফ হোসেন জানান, তিনি ৫৪ শতক জমিতে আলু চাষের জন্য জমি সম্পূর্ণ প্রস্তুত করে রেখেছেন। তবে সময়মতো সার না মেলায় তিনি এখনো আলু রোপণ করতে পারেননি। আক্ষেপ প্রকাশ করে তিনি বলেন, আগে সার পাওয়া গেলে এতদিনে আলুগাছ দুই থেকে তিন ইঞ্চি বড় হয়ে যেত। এতে সময়মতো আলু তুলে বাজারে আগাম বিক্রি করে ভালো দাম পাওয়ার সম্ভাবনা ছিল। কিন্তু সারের অভাবে এখনো আলু লাগাতে পারিনি।

একই এলাকার অপর কৃষক মহুবার রহমান ৯৫ শতক জমিতে বাদাম চাষ করার পরিকল্পনা করেছেন। কিন্তু সার না পাওয়ায় তার রোপণ কাজ আটকে আছে। সার সংগ্রহের জন্য একাধিকবার ডিলারের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও খালি হাতে ফিরতে হয়েছে বলে তিনি জানান। মহুবার রহমান বলেন, সারের জন্য কয়েকবার ডিলারের কাছে গিয়েছি; কিন্তু পাইনি। এ কারণে এখন পর্যন্ত বাদাম লাগাতে পারিনি। সরকারের কাছে আমার আবেদন, দ্রুত সারের সরবরাহ বাড়ানো হোক, যাতে আমরা সময়মতো চাষাবাদ করতে পারি।

একইভাবে বিপাকে পড়েছেন লক্ষ্মীটারী ইউনিয়নের ভুট্টাচাষি ছবুর আলী। তিনি ভুট্টা আবাদের উদ্দেশ্যে জমি প্রস্তুত করলেও চাহিদা অনুযায়ী সার কিনতে পারছেন না। ছবুর আলী ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, ডিলারের কাছে গিয়ে সার না পেয়ে বিপাকে পড়েছি। ফসল বোনার উপযুক্ত সময়ে জমিতে সার প্রয়োগ করতে না পারলে চূড়ান্ত ফলন আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

উপজেলায় সার মজুতের বর্তমান চিত্র

  • মোট সারের মজুত: ৮৩৬.২০ টন
  • ইউরিয়া সার: ২৩২.৪৫ টন
  • টিএসপি সার: ২৬.৫০ টন
  • ডিএপি ও এমওপি সার: ডিএপি ২৫৭.৮০ টন এবং এমওপি ৩১৯.৪৫ টন

বিপুল পরিমাণ সার গুদামে থাকা সত্ত্বেও কৃষকদের ভোগান্তি নিয়ে ব্যবসায়ী ও ডিলাররা কৃত্রিম সংকটের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। নোহালী ইউনিয়নের সার ডিলার লেবু মিয়া জানান, উপজেলায় সারের কোনো সংকট নেই এবং পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। বর্তমানে পুরোদমে আবাদ মৌসুম শুরু না হওয়ায় সার গুদামে রাখা হয়েছে। উপযুক্ত সময় এলেই তা বিতরণ করা হবে। তিনি আরও দাবি করেন, এখনই ঢালাওভাবে সার সরবরাহ করা হলে অসৎ উদ্দেশ্যে অনেকে তা মজুত করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করতে পারে। অন্যান্য সার ব্যবসায়ীরাও একই সুর মিলিয়েছেন। কৃষকদের স্বার্থে দ্রুত এ সমস্যার সমাধান চান তিনি।

তবে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও কৃষি কর্মকর্তা বিষয়টি নিয়ে তদারকির আশ্বাস দিয়েছেন। লক্ষ্মীটারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল হাদী বলেন, পর্যাপ্ত মজুত থাকা সত্ত্বেও কৃষকেরা কেন সার পাচ্ছেন না, তা গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা জরুরি। কৃষকদের সার না পাওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। গুদামে সার রেখে কৃষকদের বঞ্চিত করা বা কোনো অনিয়ম ও কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

অন্যদিকে গঙ্গাচড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রুবেল হুসেন জানান, উপজেলায় সারের কোনো ঘাটতি নেই এবং পর্যাপ্ত পরিমাণ মজুত রয়েছে। কৃষকদের চাহিদা অনুযায়ী সুষম সরবরাহ নিশ্চিত করতে কৃষি বিভাগ কাজ করছে। একইসঙ্গে ডিলারদের বিতরণ কার্যক্রম নিয়মিত নজরদারিতে রাখা হচ্ছে, যাতে কৃষকেরা সরকার নির্ধারিত সঠিক মূল্যে প্রয়োজনীয় সার পেতে পারেন।

গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

  • মোবাইল নাম্বার:01704246484।
জনপ্রিয় সংবাদ

সাঘাটায় অবৈধ বালু উত্তোলনবিরোধী অভিযান, ড্রেজার মেশিন ও সরঞ্জাম জব্দ

Verified by MonsterInsights

গঙ্গাচড়ায় গুদামে পর্যাপ্ত মজুত সত্ত্বেও সার না পেয়ে বিপাকে

আপলোডের সময় : 08:59:21 am, Sunday, 18 October 2026

রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলায় সরকারি গুদামে পর্যাপ্ত সার মজুত থাকলেও স্থানীয় কৃষকেরা তা পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ উঠেছে। ফলে জমি প্রস্তুত করেও প্রয়োজনীয় সারের অভাবে তারা আগাম আলু, বাদাম, ভুট্টা ও অন্যান্য সবজির বীজ রোপণ করতে পারছেন না। নির্ধারিত সময়ে চাষাবাদ শুরু করতে না পারায় ফসলের ফলন পিছিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখোমুখি হওয়ার আশঙ্কায় ভুগছেন স্থানীয় কৃষকেরা। উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্যানুযায়ী, বর্তমানে উপজেলায় মোট ৮৩৬.২০ টন সার মজুত রয়েছে, অথচ কৃষকেরা প্রয়োজনের সময় সার না পাওয়ায় সার বণ্টন ও সরবরাহ ব্যবস্থার অসংগতি নিয়ে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

প্রতিবেদন ও পরিচিতি সংক্রান্ত তথ্য

  • সম্পাদনা: মাসুম বিল্লাহ
  • প্রতিবেদক: গঙ্গাচড়া (রংপুর) প্রতিনিধি
  • যোগাযোগ নম্বর: ০১৭০৪২৪৬৪৮৪
  • চিত্র পরিস্থিতি: গঙ্গাচড়ার মিনার বাজারে জমি প্রস্তুত থাকলেও সার না পেয়ে কৃষক বীজ বপন করতে পারছেন না

উপজেলার নোহালী ইউনিয়নের মিনার বাজারসহ সংলগ্ন এলাকার ভুক্তভোগী কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সারের চরম সংকটের কারণে তাদের নিয়মিত কৃষি কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। আগাম চাষাবাদ করে বাজারে ভালো দাম পাওয়ার যে সুযোগ ছিল, সারের অভাবে সময়মতো বীজ রোপণ করতে না পেরে সেই আর্থিক সুযোগ কৃষকেরা হারাতে বসেছেন।

মিনার বাজার এলাকার কৃষক মোশারফ হোসেন জানান, তিনি ৫৪ শতক জমিতে আলু চাষের জন্য জমি সম্পূর্ণ প্রস্তুত করে রেখেছেন। তবে সময়মতো সার না মেলায় তিনি এখনো আলু রোপণ করতে পারেননি। আক্ষেপ প্রকাশ করে তিনি বলেন, আগে সার পাওয়া গেলে এতদিনে আলুগাছ দুই থেকে তিন ইঞ্চি বড় হয়ে যেত। এতে সময়মতো আলু তুলে বাজারে আগাম বিক্রি করে ভালো দাম পাওয়ার সম্ভাবনা ছিল। কিন্তু সারের অভাবে এখনো আলু লাগাতে পারিনি।

একই এলাকার অপর কৃষক মহুবার রহমান ৯৫ শতক জমিতে বাদাম চাষ করার পরিকল্পনা করেছেন। কিন্তু সার না পাওয়ায় তার রোপণ কাজ আটকে আছে। সার সংগ্রহের জন্য একাধিকবার ডিলারের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও খালি হাতে ফিরতে হয়েছে বলে তিনি জানান। মহুবার রহমান বলেন, সারের জন্য কয়েকবার ডিলারের কাছে গিয়েছি; কিন্তু পাইনি। এ কারণে এখন পর্যন্ত বাদাম লাগাতে পারিনি। সরকারের কাছে আমার আবেদন, দ্রুত সারের সরবরাহ বাড়ানো হোক, যাতে আমরা সময়মতো চাষাবাদ করতে পারি।

একইভাবে বিপাকে পড়েছেন লক্ষ্মীটারী ইউনিয়নের ভুট্টাচাষি ছবুর আলী। তিনি ভুট্টা আবাদের উদ্দেশ্যে জমি প্রস্তুত করলেও চাহিদা অনুযায়ী সার কিনতে পারছেন না। ছবুর আলী ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, ডিলারের কাছে গিয়ে সার না পেয়ে বিপাকে পড়েছি। ফসল বোনার উপযুক্ত সময়ে জমিতে সার প্রয়োগ করতে না পারলে চূড়ান্ত ফলন আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

উপজেলায় সার মজুতের বর্তমান চিত্র

  • মোট সারের মজুত: ৮৩৬.২০ টন
  • ইউরিয়া সার: ২৩২.৪৫ টন
  • টিএসপি সার: ২৬.৫০ টন
  • ডিএপি ও এমওপি সার: ডিএপি ২৫৭.৮০ টন এবং এমওপি ৩১৯.৪৫ টন

বিপুল পরিমাণ সার গুদামে থাকা সত্ত্বেও কৃষকদের ভোগান্তি নিয়ে ব্যবসায়ী ও ডিলাররা কৃত্রিম সংকটের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। নোহালী ইউনিয়নের সার ডিলার লেবু মিয়া জানান, উপজেলায় সারের কোনো সংকট নেই এবং পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। বর্তমানে পুরোদমে আবাদ মৌসুম শুরু না হওয়ায় সার গুদামে রাখা হয়েছে। উপযুক্ত সময় এলেই তা বিতরণ করা হবে। তিনি আরও দাবি করেন, এখনই ঢালাওভাবে সার সরবরাহ করা হলে অসৎ উদ্দেশ্যে অনেকে তা মজুত করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করতে পারে। অন্যান্য সার ব্যবসায়ীরাও একই সুর মিলিয়েছেন। কৃষকদের স্বার্থে দ্রুত এ সমস্যার সমাধান চান তিনি।

তবে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও কৃষি কর্মকর্তা বিষয়টি নিয়ে তদারকির আশ্বাস দিয়েছেন। লক্ষ্মীটারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল হাদী বলেন, পর্যাপ্ত মজুত থাকা সত্ত্বেও কৃষকেরা কেন সার পাচ্ছেন না, তা গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা জরুরি। কৃষকদের সার না পাওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। গুদামে সার রেখে কৃষকদের বঞ্চিত করা বা কোনো অনিয়ম ও কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

অন্যদিকে গঙ্গাচড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রুবেল হুসেন জানান, উপজেলায় সারের কোনো ঘাটতি নেই এবং পর্যাপ্ত পরিমাণ মজুত রয়েছে। কৃষকদের চাহিদা অনুযায়ী সুষম সরবরাহ নিশ্চিত করতে কৃষি বিভাগ কাজ করছে। একইসঙ্গে ডিলারদের বিতরণ কার্যক্রম নিয়মিত নজরদারিতে রাখা হচ্ছে, যাতে কৃষকেরা সরকার নির্ধারিত সঠিক মূল্যে প্রয়োজনীয় সার পেতে পারেন।

গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

  • মোবাইল নাম্বার:01704246484।