
সাংবাদিক মুহাম্মদ মতিন খন্দকার টিটু, যিনি যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক—বাংলাদেশ সেন্ট্রাল প্রেস ক্লাব (বি.সি.পি.সি) কেন্দ্রীয় কমিটির আজ তাঁর জীবন কেবল সংবাদ নয়,ভেতরে চাপা পড়ে থাকা হাজারো কান্নার নদী।
২০২৩ সালের ২৩ জানুয়ারি, বগুড়ার মালেকা ক্লিনিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় চলে গেলেন প্রিয় মা মুন্নু বেগম, নেমে এলো বিষাদের অন্ধকার ছায়া— মায়ের দোয়া ছিল মাথার ওপর এক আশীর্বাদের ঘর, হঠাৎ করেই সে ছায়া হলো শূন্য, নির্বাক হয়ে গেল জীবনের প্রতিটি প্রহর।
তারপর এলো ২০২৫ সালের ২০ এপ্রিল,
টিএমএসএস মেডিকেলে চিকিৎসাধীন বাবাও পাড়ি দিলেন চিরঘুমে— অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষা অফিসার আব্দুল আজীজ খন্দকার।
যিনি ছিলেন সাহসের বাতিঘর, ছায়ার মত অবলম্বন,
তিনিও আজ ঘুমিয়ে আছেন,আর ছুঁয়ে দেখা যায় না সেই ভালোবাসার আলো, সেই চিরচেনা সম্মান।
গ্রামের বাড়ি বগুড়ার কাহালু উপজেলার কালাই ঘোনপাড়া,
সেই মাটিতেই পাশাপাশি শুয়ে আছেন বাবা-মা—
স্মৃতির প্রদীপ জ্বলে প্রতিটি সন্ধ্যায়, কিন্তু ছুঁতে গেলে নিঃশব্দে কেঁপে ওঠে বুকের হাহাকার।
আপন বলতে কেউ নেই- নেই কোনো ভাইয়ের ডাক,
আছে শুধু এক বোন, সেও প্রবাসে, সংসারের জালে বাঁধা,
দূরে থাকে, দূরেই থাকে যন্ত্রণার পাশে এখন কেউই নেই হাত বাড়াতে।
একাকী জীবন বয়ে চলেন সাংবাদিক টিটু,
বুকের গভীরে জমে থাকা কান্না, চোখে চেপে রাখা জল না আছে নির্ভরতা, না আছে কোনো মধুর মিতু।
দিনে যিনি শব্দে বলেন সাহসের কথা, রাত্রি নামলেই ভেঙে পড়েন চুপিচুপি,নিজের নিঃসঙ্গতা ঢেকে রাখেন নীরবতার চাদরে ঢেকে দেন সমস্ত হৃদয়ের রক্তক্ষরণ।
প্রতিদিন রাত নামে নিঃসঙ্গতার বিষণ্ন ছায়া নিয়ে,
চার দেয়ালের মাঝে বাজে শুধু একটানা বেদনার বাঁশি।
যার বাবা নেই, মা নেই—তার কাছে পৃথিবী এক অচেনা দ্বীপ, ভালোবাসাহীন, আশ্রয়হীন শুধু স্নেহহীনতা ও শূন্যতার স্নিপ।
আলোর খোঁজে যিনি অন্যের কষ্ট প্রকাশ করেন সংবাদে,
নিজের অন্ধকার চাপা রাখেন চোখের কোণে জমা থেকে যায় অশ্রু,তবুও প্রতিটি নিঃশব্দ রাত ফিরে আসে অশ্রুভেজা চিঠির মতো,বুকের গহীনে বাজে—
“মা-বাবা তোমরা কোথায়?
এই শহরের ভিড়ে আজ আর কেউই তো ডাকেও না আমায়…!”