দুর্নীতি বিরোধী লড়াইয়ে নতুন দিগন্ত: গাজীপুরে কেন্দ্রীয় কমিটির পরিচিতি ও শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত

“দুর্নীতি সংহার, প্রতিবাদে প্রতিরোধ”—এই দৃপ্ত শ্লোগানকে সামনে রেখে আজ গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের ২৪ নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থিত জনতা সুপার মার্কেটের প্রধান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হলো দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলন কেন্দ্রীয় কমিটি ২০২৫–এর পরিচিতি ও শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান।

অনুষ্ঠানটি শুরু হয় সকাল ১০টায়। এতে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি, সহযোগী অধ্যাপক রফিক আলম (এম আই এস টি লিমিটেড)। উপস্থিত ছিলেন সাধারণ সম্পাদক কফিল মাহমুদ, সাংগঠনিক সম্পাদক গাজী আবু বকর ছিদ্দিক, এবং দপ্তর সম্পাদক মো. মহব্বত আলী।

সভাপতি রফিক আলম বলেন,“ভূমি অফিস, আদালত ও স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার বিভিন্ন স্তরে দুর্নীতি এখন নিত্যদিনের ঘটনা। রেজিস্ট্রি অফিস ঘুষ ছাড়া ফাইল নড়ে না, আদালতে মামলা চলমান রাখতেও ‘ব্যবস্থা’ লাগে। সরকারি প্রকল্পে অতিরিক্ত বিল, নিম্নমানের সরবরাহ ও ঠিকাদার সিন্ডিকেটের কারণে রাষ্ট্রীয় অর্থ লুটপাট হচ্ছে পরিকল্পিতভাবে। এই শোষণ রোধে জনতার শক্তিকে জাগাতে হবে।”

সাধারণ সম্পাদক কফিল মাহমুদ বলেন, “স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাত আজ দুর্নীতির দুষ্টচক্রে বন্দী। হাসপাতালে ঔষধ কেনা থেকে শুরু করে চিকিৎসা সেবা পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে অনিয়ম। শিক্ষাখাতে শিক্ষক নিয়োগ, প্রশ্নপত্র ফাঁস ও ম্যানেজিং কমিটির স্বজনপ্রীতি—সবই দুর্নীতির বহিঃপ্রকাশ। আমরা দলনিরপেক্ষ, নির্ভীক। দুর্নীতির বিরুদ্ধে তথ্যভিত্তিক ও সচেতন নাগরিক আন্দোলন গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য।”

সাংগঠনিক সম্পাদক গাজী আবু বকর ছিদ্দিক বলেন, “যাদের দায়িত্ব পরিবেশ রক্ষা, তারাই আজ শিল্পকারখানার মালিকদের স্বার্থরক্ষায় লিপ্ত। পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমোদন টাকার বিনিময়ে বেচা-কেনা হয়। নদী দখল, শিল্পবর্জ্য ব্যবস্থাপনায় অবহেলা এবং বায়ুদূষণ—এসব দুর্নীতিরই ফল। পরিবেশ বিপর্যয়ের জন্য কেউই জবাবদিহির আওতায় আসে না। এই চক্র ভাঙতে হবে।”

দপ্তর সম্পাদক মো. মোহাব্বত আলী বলেন, “পুলিশ, টেক্সটাইল, গার্মেন্টস ও শ্রমিক অধিকার রক্ষার ক্ষেত্রে দুর্নীতির দৌরাত্ম্য ভয়াবহ। থানায় বা ফায়ার সার্ভিসে সাধারণ সেবা পেতেও তদবির লাগে। গার্মেন্টস খাতে শ্রমিকদের বেতন কর্তন, অতিরিক্ত কাজ করিয়ে প্রাপ্য না দেওয়া—সবই দুর্নীতির বৈধ রূপে প্রচলিত। এসবের বিরুদ্ধে জনমত তৈরি করতেই আমাদের এই প্রয়াস।”

অনুষ্ঠানের শেষে নবগঠিত কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্যরা একযোগে দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের শপথ পাঠ করেন। শপথে ছিল দৃঢ় প্রত্যয়—
“প্রতিরোধ হবে, পরিবর্তন হবে—নবযাত্রার সূচনা আজ।”

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

সিডনির নতুন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রথম যাত্রীবাহী ফ্লাইটের যাত্রা শুরু

Verified by MonsterInsights

দুর্নীতি বিরোধী লড়াইয়ে নতুন দিগন্ত: গাজীপুরে কেন্দ্রীয় কমিটির পরিচিতি ও শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত

আপলোডের সময় : 09:05:35 pm, Tuesday, 5 August 2025

“দুর্নীতি সংহার, প্রতিবাদে প্রতিরোধ”—এই দৃপ্ত শ্লোগানকে সামনে রেখে আজ গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের ২৪ নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থিত জনতা সুপার মার্কেটের প্রধান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হলো দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলন কেন্দ্রীয় কমিটি ২০২৫–এর পরিচিতি ও শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান।

অনুষ্ঠানটি শুরু হয় সকাল ১০টায়। এতে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি, সহযোগী অধ্যাপক রফিক আলম (এম আই এস টি লিমিটেড)। উপস্থিত ছিলেন সাধারণ সম্পাদক কফিল মাহমুদ, সাংগঠনিক সম্পাদক গাজী আবু বকর ছিদ্দিক, এবং দপ্তর সম্পাদক মো. মহব্বত আলী।

সভাপতি রফিক আলম বলেন,“ভূমি অফিস, আদালত ও স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার বিভিন্ন স্তরে দুর্নীতি এখন নিত্যদিনের ঘটনা। রেজিস্ট্রি অফিস ঘুষ ছাড়া ফাইল নড়ে না, আদালতে মামলা চলমান রাখতেও ‘ব্যবস্থা’ লাগে। সরকারি প্রকল্পে অতিরিক্ত বিল, নিম্নমানের সরবরাহ ও ঠিকাদার সিন্ডিকেটের কারণে রাষ্ট্রীয় অর্থ লুটপাট হচ্ছে পরিকল্পিতভাবে। এই শোষণ রোধে জনতার শক্তিকে জাগাতে হবে।”

সাধারণ সম্পাদক কফিল মাহমুদ বলেন, “স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাত আজ দুর্নীতির দুষ্টচক্রে বন্দী। হাসপাতালে ঔষধ কেনা থেকে শুরু করে চিকিৎসা সেবা পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে অনিয়ম। শিক্ষাখাতে শিক্ষক নিয়োগ, প্রশ্নপত্র ফাঁস ও ম্যানেজিং কমিটির স্বজনপ্রীতি—সবই দুর্নীতির বহিঃপ্রকাশ। আমরা দলনিরপেক্ষ, নির্ভীক। দুর্নীতির বিরুদ্ধে তথ্যভিত্তিক ও সচেতন নাগরিক আন্দোলন গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য।”

সাংগঠনিক সম্পাদক গাজী আবু বকর ছিদ্দিক বলেন, “যাদের দায়িত্ব পরিবেশ রক্ষা, তারাই আজ শিল্পকারখানার মালিকদের স্বার্থরক্ষায় লিপ্ত। পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমোদন টাকার বিনিময়ে বেচা-কেনা হয়। নদী দখল, শিল্পবর্জ্য ব্যবস্থাপনায় অবহেলা এবং বায়ুদূষণ—এসব দুর্নীতিরই ফল। পরিবেশ বিপর্যয়ের জন্য কেউই জবাবদিহির আওতায় আসে না। এই চক্র ভাঙতে হবে।”

দপ্তর সম্পাদক মো. মোহাব্বত আলী বলেন, “পুলিশ, টেক্সটাইল, গার্মেন্টস ও শ্রমিক অধিকার রক্ষার ক্ষেত্রে দুর্নীতির দৌরাত্ম্য ভয়াবহ। থানায় বা ফায়ার সার্ভিসে সাধারণ সেবা পেতেও তদবির লাগে। গার্মেন্টস খাতে শ্রমিকদের বেতন কর্তন, অতিরিক্ত কাজ করিয়ে প্রাপ্য না দেওয়া—সবই দুর্নীতির বৈধ রূপে প্রচলিত। এসবের বিরুদ্ধে জনমত তৈরি করতেই আমাদের এই প্রয়াস।”

অনুষ্ঠানের শেষে নবগঠিত কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্যরা একযোগে দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের শপথ পাঠ করেন। শপথে ছিল দৃঢ় প্রত্যয়—
“প্রতিরোধ হবে, পরিবর্তন হবে—নবযাত্রার সূচনা আজ।”