
কাশিমপুর ভূমি অফিসে দালালদের দৌরাত্ম্য চরমে পৌঁছেছে। সাধারণ জনগণ ভূমি সংক্রান্ত সেবা পেতে হিমশিম খেলেও দালাল ও প্রভাবশালীদের জন্য অফিসের দরজা খোলা।
অভিযোগ রয়েছে, রেকর্ড রুমে অবাধে প্রবেশ করছেন স্থানীয় দালাল চক্র । পাশাপাশি, সহকারী ভূমি কর্মকর্তা আব্দুল লতিফ মিয়া ও সোহাগ মৌখিক ভাবে ছুটিতে আছেন তবুও চলছে কাজ।
ভূমি অফিসে আসা বেশ কয়েকজন অভিযোগকারী জানান, দালাল ছাড়া কোনো কাজই এখানে হয় না।
জমির মিউটেশন, নামজারি, খতিয়ান সংগ্রহ—প্রতিটি কাজেই দালালদের মাধ্যমে কাজ সম্পূর্ণ করাতে হয়। কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও দালালদের সঙ্গে যোগসাজশ রেখে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
একজন ভুক্তভোগী বলেন,আমি তিন দিন ধরে অফিসে আসছি কিন্তু কেউ ডকুমেন্ট গ্রহণ করছে না। পরে একজন দালাল ৫ হাজার টাকা দিয়ে কাজ করাতে হচ্ছে।
সূত্রে জানা যায়, কাশিমপুর ভূমি অফিসের রেকর্ড রুমে স্থানীয় আওয়ামী লীগের কিছু দালাল অবাধ প্রবেশ করে নথিপত্র ঘেটে দালালি সম্পূর্ণ করছেন।
শুধু তাই নয় প্রয়োজনীয় ফাইল ও ডকুমেন্ট সরাসরি রেকর্ড রুম থেকে নিয়ে যাচ্ছেন, যা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। এতে সাধারণ মানুষের ফাইল হারানো,ও দেরিতে প্রক্রিয়াকরণসহ নানা সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে।
অভিযোগ রয়েছে যে,তহসিল অফিসের নায়েব আব্দুল লতিফ মিয়া ও সোহাগ প্রায়ই অফিসে অনুপস্থিত থাকেন ।
তারা বাড়িতে গেলেই হর নিমিষেই কাজ হচ্ছে বলে জানান স্থানীয়রা। স্থানীয় এক দালাল স্বীকার করেন, স্যারেরা বাড়িতে গেলেও কাজ হয়।
এ ছাড়াও অফিস ছুটির পর গোপন কক্ষে সন্ধ্যা ছয়টা থেকে রাত ৯ টা পর্যন্ত চলে অফিসিয়াল কাজ। এ বিষয়ে জানেন না নায়েব আব্দুল লতিফ মিয়া, এমনটাই বলেন তিনি।
এ ধরনের অভিযোগ বহুদিনের হলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না। ভূমি মন্ত্রণালয় ও জেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন স্থানীয়রা।
এ বিষয়ে কাশিমপুর তহশীল অফিসের ভূমি কর্মকর্তা আব্দুল লতিফ মিয়ার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি মৌখিক ছুটির কথা স্বীকার করেন। এবং জরুরী একটি কাজ আছে ১০ মিনিটের জন্য অফিসে আসবেন বলে জানান। কিন্তু অফিস সহকারীরা জানান স্যার ট্রেনিংয়ে আছেন।
তবে সাধারণ মানুষ ও সুশীল সমাজের দাবি, কাশিমপুর ভূমি অফিসের দালাল চক্র ও কর্মকর্তাদের এই সিন্ডিকেট ভেঙে দ্রুত স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে।
নতুবা ভূমি সেবা পাওয়ার অধিকার থেকে বঞ্চিত হবে সাধারণ জনগণ।