তিন ম্যাচে দুই ভাইয়ের ৪ সেঞ্চুরি  

 

বিশ্ব ক্রিকেটে একই দলে দুই ভাইয়ের খেলার ঘটনা নতুন কিছু নয়। ঘরোয়া ক্রিকেটে তো বটেই, জাতীয় দলের হয়েও দুই ভাইয়ের একসাথে খেলার অহরহ ঘটনা রয়েছে। সবশেষ এই আলোচনায় এসেছেন দক্ষিণ আফ্রিকার দুই ভাই- রুবিন হারমান ও জর্ডান হারমান। এই প্রোটিয়া দুই ভাই নজর কেড়েছেন নিজেদের ব্যাটিং পারফরম্যান্স দিয়ে। 

সম্প্রতি ঘরের মাঠে নিউজিল্যান্ড ‘এ’ দলের বিপক্ষে তিন ম্যাচের আনঅফিসিয়াল ওয়ানডে সিরিজ খেলেছে দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দল। এই সিরিজেই রুবিন হারমান ও জর্ডান হারমান দুই ভাই মিলে খেলতে নেমে করেছেন ৪টি সেঞ্চুরি। দক্ষিণ আফ্রিকার সিরিজ জয়ে ব্যাট হাতে সবচেয়ে সফল প্রিটোরিয়ার হারমান পরিবারের এই দুই ভাই।

সিরিজে দুজনই করেন দুইটি করে সেঞ্চুরি। অপরাজিত দুই সেঞ্চুরিতে জর্ডান করেন ১০১* ও ১৮৬* রান। আর রুবিনের ব্যাট থেকে আসে ১৫৮* ও ১০৯ রানের দুটি ইনিংস। সিরিজের রান সংগ্রাহকদের তালিকায়ও সবার ওপরে তারা দুই ভাই। ২৮৭ রান করে জর্ডানই সিরিজের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক। আর ২৮০ রান নিয়ে দুই নম্বরে তার বড় ভাই রুবিন।

বেনোনিতে গত ৩০ আগস্ট শুরু হয় নিউজিল্যান্ড ‘এ’ ও দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দলের এই সিরিজ। প্রথম ম্যাচে কিছুই করতে পারেননি ছোট ভাই জর্ডান। তবে সেই ম্যাচে দায়িত্ব নেন বড় ভাই রুবিন। মাত্র ৯৩ বলে ১৮ ও ৭ ছক্কায় ১৫৮ রানের ইনিংস খেলে দলকে জিতিয়ে মাঠ ছাড়েন। লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে এটিই রুবিনের সর্বোচ্চ রানের ইনিংস।

পরের ম্যাচে একসঙ্গে জ্বলে ওঠেন দুই ভাই। ২৪৯ রানের লক্ষ্যে দ্বিতীয় উইকেটে তারা দুজন গড়েন ১৫৪ রানের জুটি। মাত্র ৯৮ বলে ১০৯ রানের ইনিংস খেলে আউট হন রুবিন। তবে ১০৫ বলে ১০১ রান করে দলের জয় নিশ্চিত করেন জর্ডান।

একই মাঠে বুধবার হওয়া সিরিজের শেষ ম্যাচে শুরুতেই বিদায় নেন রুবিন। বড় ভাই আউট হওয়ার পর উইকেটে যান জর্ডান। শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থেকে ২৬ চার ও ৩ ছক্কায় তিনি খেলেন ক্যারিয়ার সেরা ১৮৬ রানের ইনিংস।

লিস্ট ‘এ’ ক্যারিয়ারে এখন পর্যন্ত ২৬ ম্যাচ খেলে জর্ডানের সেঞ্চুরি ৪টি। এছাড়া ২৮ প্রথম শ্রেণির ম্যাচে তার সেঞ্চুরি আছে চারটি, আর ৫৫টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচেও সেঞ্চুরি দুটি। জাতীয় দলের হয়ে এখনও তার অভিষেক হয়নি।

বড় ভাই রুবিন এরই মধ্যে দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে খেলে ফেলেছেন পাঁচটি টি-টোয়েন্টি। গত জুলাইয়ে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে চার নম্বরে নেমে ৪ ছক্কা ও ৩ চারে ৩৬ বলে অপরাজিত ৬৩ রানের ইনিংসে দলকে জিতিয়ে ম্যাচ-সেরার স্বীকৃতি পান তিনি।

দুই ভাই-ই বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। খবরের শিরোনাম হয়েছিলেন তারা গত ফেব্রুয়ারিতেও। দক্ষিণ আফ্রিকার ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ এসএ টোয়েন্টিতে একই ম্যাচে দুজন ফিফটি করেছিলেন ভিন্ন দুই দলের হয়ে। সেঞ্চুরিয়নে পার্ল রয়্যালসের হয়ে ৫৩ বলে অপরাজিত ৮১ রানের ইনিংস খেলেছিলেন রুবিন। রান তাড়ায় সানরাইজার্স ইস্টার্ন কেপের হয়ে ৪৮ বলে অপরাজিত ৬৯ রানের ইনিংসে দলের জয় নিয়ে ফিরেছিলেন জর্ডান।

২০২৪ সালের আসরে একই দলের হয়ে একটি সেঞ্চুরিও করেছিলেন তিনি (৬২ বলে ১০৬*)। আসন্ন আসরের জন্য রুবিনকে আগেই চুক্তিবদ্ধ করেছে পার্ল রয়্যালস। ৯ সেপ্টেম্বরের নিলামে উঠবে জর্ডানের নাম।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

রেলওয়ের ৯৬ লাখ টাকা আত্মসাৎ: ১৪ জনের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

Verified by MonsterInsights

তিন ম্যাচে দুই ভাইয়ের ৪ সেঞ্চুরি  

আপলোডের সময় : 07:40:18 pm, Thursday, 4 September 2025

 

বিশ্ব ক্রিকেটে একই দলে দুই ভাইয়ের খেলার ঘটনা নতুন কিছু নয়। ঘরোয়া ক্রিকেটে তো বটেই, জাতীয় দলের হয়েও দুই ভাইয়ের একসাথে খেলার অহরহ ঘটনা রয়েছে। সবশেষ এই আলোচনায় এসেছেন দক্ষিণ আফ্রিকার দুই ভাই- রুবিন হারমান ও জর্ডান হারমান। এই প্রোটিয়া দুই ভাই নজর কেড়েছেন নিজেদের ব্যাটিং পারফরম্যান্স দিয়ে। 

সম্প্রতি ঘরের মাঠে নিউজিল্যান্ড ‘এ’ দলের বিপক্ষে তিন ম্যাচের আনঅফিসিয়াল ওয়ানডে সিরিজ খেলেছে দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দল। এই সিরিজেই রুবিন হারমান ও জর্ডান হারমান দুই ভাই মিলে খেলতে নেমে করেছেন ৪টি সেঞ্চুরি। দক্ষিণ আফ্রিকার সিরিজ জয়ে ব্যাট হাতে সবচেয়ে সফল প্রিটোরিয়ার হারমান পরিবারের এই দুই ভাই।

সিরিজে দুজনই করেন দুইটি করে সেঞ্চুরি। অপরাজিত দুই সেঞ্চুরিতে জর্ডান করেন ১০১* ও ১৮৬* রান। আর রুবিনের ব্যাট থেকে আসে ১৫৮* ও ১০৯ রানের দুটি ইনিংস। সিরিজের রান সংগ্রাহকদের তালিকায়ও সবার ওপরে তারা দুই ভাই। ২৮৭ রান করে জর্ডানই সিরিজের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক। আর ২৮০ রান নিয়ে দুই নম্বরে তার বড় ভাই রুবিন।

বেনোনিতে গত ৩০ আগস্ট শুরু হয় নিউজিল্যান্ড ‘এ’ ও দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দলের এই সিরিজ। প্রথম ম্যাচে কিছুই করতে পারেননি ছোট ভাই জর্ডান। তবে সেই ম্যাচে দায়িত্ব নেন বড় ভাই রুবিন। মাত্র ৯৩ বলে ১৮ ও ৭ ছক্কায় ১৫৮ রানের ইনিংস খেলে দলকে জিতিয়ে মাঠ ছাড়েন। লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে এটিই রুবিনের সর্বোচ্চ রানের ইনিংস।

পরের ম্যাচে একসঙ্গে জ্বলে ওঠেন দুই ভাই। ২৪৯ রানের লক্ষ্যে দ্বিতীয় উইকেটে তারা দুজন গড়েন ১৫৪ রানের জুটি। মাত্র ৯৮ বলে ১০৯ রানের ইনিংস খেলে আউট হন রুবিন। তবে ১০৫ বলে ১০১ রান করে দলের জয় নিশ্চিত করেন জর্ডান।

একই মাঠে বুধবার হওয়া সিরিজের শেষ ম্যাচে শুরুতেই বিদায় নেন রুবিন। বড় ভাই আউট হওয়ার পর উইকেটে যান জর্ডান। শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থেকে ২৬ চার ও ৩ ছক্কায় তিনি খেলেন ক্যারিয়ার সেরা ১৮৬ রানের ইনিংস।

লিস্ট ‘এ’ ক্যারিয়ারে এখন পর্যন্ত ২৬ ম্যাচ খেলে জর্ডানের সেঞ্চুরি ৪টি। এছাড়া ২৮ প্রথম শ্রেণির ম্যাচে তার সেঞ্চুরি আছে চারটি, আর ৫৫টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচেও সেঞ্চুরি দুটি। জাতীয় দলের হয়ে এখনও তার অভিষেক হয়নি।

বড় ভাই রুবিন এরই মধ্যে দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে খেলে ফেলেছেন পাঁচটি টি-টোয়েন্টি। গত জুলাইয়ে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে চার নম্বরে নেমে ৪ ছক্কা ও ৩ চারে ৩৬ বলে অপরাজিত ৬৩ রানের ইনিংসে দলকে জিতিয়ে ম্যাচ-সেরার স্বীকৃতি পান তিনি।

দুই ভাই-ই বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। খবরের শিরোনাম হয়েছিলেন তারা গত ফেব্রুয়ারিতেও। দক্ষিণ আফ্রিকার ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ এসএ টোয়েন্টিতে একই ম্যাচে দুজন ফিফটি করেছিলেন ভিন্ন দুই দলের হয়ে। সেঞ্চুরিয়নে পার্ল রয়্যালসের হয়ে ৫৩ বলে অপরাজিত ৮১ রানের ইনিংস খেলেছিলেন রুবিন। রান তাড়ায় সানরাইজার্স ইস্টার্ন কেপের হয়ে ৪৮ বলে অপরাজিত ৬৯ রানের ইনিংসে দলের জয় নিয়ে ফিরেছিলেন জর্ডান।

২০২৪ সালের আসরে একই দলের হয়ে একটি সেঞ্চুরিও করেছিলেন তিনি (৬২ বলে ১০৬*)। আসন্ন আসরের জন্য রুবিনকে আগেই চুক্তিবদ্ধ করেছে পার্ল রয়্যালস। ৯ সেপ্টেম্বরের নিলামে উঠবে জর্ডানের নাম।