আমনের ভরা মৌসুমে কুড়িগ্রামে সারের সংকট, বিপাকে কৃষক

আমনের ভরা মৌসুমে কুড়িগ্রামে ইউরিয়া, টিএসপি ও ডিএপি সারের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। এতে জেলার কৃষকরা চরম বিপাকে পড়েছেন। চাহিদা অনুযায়ী সার না পেয়ে অনেকেই ডিলারের কাছে ধর্ণা দিচ্ছেন, এমনকি কৃষি কর্মকর্তাদের অবরুদ্ধ করে রাখার ঘটনাও ঘটছে। চলতি মৌসুমে বন্যা ও অতিবৃষ্টি না হওয়ায় চরাঞ্চলসহ সর্বত্র আবাদ বেড়েছে। রোপা আমনের পাশাপাশি শীতকালীন সবজির আগাম চাষ শুরু হওয়ায় সারের চাহিদা আরও বেড়ে গেছে। কৃষকদের অভিযোগ, ডিলাররা কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে চড়া দামে সার বিক্রি করছেন। বর্তমানে বাজারে টিএসপি ৪২ টাকা, ডিএপি ৩৫ টাকা এবং ইউরিয়া ৩৪ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে আগস্ট মাসে কুড়িগ্রামে বরাদ্দ আসে ইউরিয়া ৬ হাজার ২৫৩ মেট্রিক টন, টিএসপি ৮০৯ মেট্রিক টন, ডিএপি ১ হাজার ৭০ মেট্রিক টন ও এমওপি ১ হাজার ৫৭০ মেট্রিক টন। সেপ্টেম্বরে বরাদ্দ পাওয়া গেছে ইউরিয়া ৩ হাজার ৮৯৪ মেট্রিক টন, টিএসপি ৪৫২ মেট্রিক টন, ডিএপি ১ হাজার ২০১ মেট্রিক টন ও এমওপি ১ হাজার ১১০ মেট্রিক টন। যা জেলার চাহিদার তুলনায় অনেক কম। সন্যাসী গ্রামের কৃষক মর্তুজা, আতা ও লিটন বলেন, “ইউরিয়া, পটাশ, ডিএপি বাজারে দুষ্প্রাপ্য হয়ে পড়েছে। দামও বেড়ে গেছে। পর্যাপ্ত সরবরাহ না হলে আমরা মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়ব।” মণ্ডলপাড়ার কৃষক জয়নাল ও রহমান আলীর অভিযোগ, “চাহিদা অনুযায়ী সার পাওয়া যাচ্ছে না। ডিলাররা যতটুকু দিচ্ছে, তার দাম আগের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ।” তবে কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আবদুল্লাহ আল মামুন দাবি করেন, “এ বছর আমনের আবাদ বেড়েছে বলে চাহিদা বেশি। কিন্তু জেলায় সারের কোনো ঘাটতি নেই। প্রতিটি বিক্রয়কেন্দ্রে কর্মকর্তাদের মাধ্যমে সুষ্ঠুভাবে সার বিতরণ করা হচ্ছে।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

সাঘাটায় অবৈধ বালু উত্তোলনবিরোধী অভিযান, ড্রেজার মেশিন ও সরঞ্জাম জব্দ

Verified by MonsterInsights

আমনের ভরা মৌসুমে কুড়িগ্রামে সারের সংকট, বিপাকে কৃষক

আপলোডের সময় : 12:18:48 am, Monday, 15 September 2025

আমনের ভরা মৌসুমে কুড়িগ্রামে ইউরিয়া, টিএসপি ও ডিএপি সারের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। এতে জেলার কৃষকরা চরম বিপাকে পড়েছেন। চাহিদা অনুযায়ী সার না পেয়ে অনেকেই ডিলারের কাছে ধর্ণা দিচ্ছেন, এমনকি কৃষি কর্মকর্তাদের অবরুদ্ধ করে রাখার ঘটনাও ঘটছে। চলতি মৌসুমে বন্যা ও অতিবৃষ্টি না হওয়ায় চরাঞ্চলসহ সর্বত্র আবাদ বেড়েছে। রোপা আমনের পাশাপাশি শীতকালীন সবজির আগাম চাষ শুরু হওয়ায় সারের চাহিদা আরও বেড়ে গেছে। কৃষকদের অভিযোগ, ডিলাররা কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে চড়া দামে সার বিক্রি করছেন। বর্তমানে বাজারে টিএসপি ৪২ টাকা, ডিএপি ৩৫ টাকা এবং ইউরিয়া ৩৪ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে আগস্ট মাসে কুড়িগ্রামে বরাদ্দ আসে ইউরিয়া ৬ হাজার ২৫৩ মেট্রিক টন, টিএসপি ৮০৯ মেট্রিক টন, ডিএপি ১ হাজার ৭০ মেট্রিক টন ও এমওপি ১ হাজার ৫৭০ মেট্রিক টন। সেপ্টেম্বরে বরাদ্দ পাওয়া গেছে ইউরিয়া ৩ হাজার ৮৯৪ মেট্রিক টন, টিএসপি ৪৫২ মেট্রিক টন, ডিএপি ১ হাজার ২০১ মেট্রিক টন ও এমওপি ১ হাজার ১১০ মেট্রিক টন। যা জেলার চাহিদার তুলনায় অনেক কম। সন্যাসী গ্রামের কৃষক মর্তুজা, আতা ও লিটন বলেন, “ইউরিয়া, পটাশ, ডিএপি বাজারে দুষ্প্রাপ্য হয়ে পড়েছে। দামও বেড়ে গেছে। পর্যাপ্ত সরবরাহ না হলে আমরা মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়ব।” মণ্ডলপাড়ার কৃষক জয়নাল ও রহমান আলীর অভিযোগ, “চাহিদা অনুযায়ী সার পাওয়া যাচ্ছে না। ডিলাররা যতটুকু দিচ্ছে, তার দাম আগের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ।” তবে কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আবদুল্লাহ আল মামুন দাবি করেন, “এ বছর আমনের আবাদ বেড়েছে বলে চাহিদা বেশি। কিন্তু জেলায় সারের কোনো ঘাটতি নেই। প্রতিটি বিক্রয়কেন্দ্রে কর্মকর্তাদের মাধ্যমে সুষ্ঠুভাবে সার বিতরণ করা হচ্ছে।