কাজিপুরে তিনশ বছরের সোনামুখী মেলাকে ঘিরে এলাকায় উৎসবের আমেজ

সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলার সোনামুখীতে বসছে জেলার ঐতিহ্যবাহী সোনামুখী মেলা। শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে প্রায় তিনশ বছর ধরে সোনামুখীতে এ মেলা প্রতিবছর অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। শুরু থেকেই ইছামতি নদীর তীর ঘেঁষে সোনামুখীর এই মেলায় প্রচুর জনসমাবেশ হয়। মেলা উপলক্ষে সোনামুখী ও আশপাশের গ্রামগুলোতে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে।
মেলার বুক চিরে সিরাজগঞ্জ সোনামুখী ভায়া বগুড়ার ধুনট-শেরপুর হয়ে আন্তঃজেলা সড়ক থাকার কারণে এ মেলার গুরুত্ব অনেক বেশি। আশপাশের এলাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ব্যবসায়ীরা তাদের নানা পণ্য-সামগ্রী বেচাকেনার উদ্দেশ্যে মেলাতে নিয়ে আসে। বিশেষ করে এই মেলা এলাকাবাসির নিকটে কাঠের মেলা নামেও পরিচিত। আশপাশের কয়েক গ্রামের কারিগরেরা মেলার দুই-তিন মাস পূর্বে থেকে কাঠের আসবাবপত্র তৈরি করেন। মেলা শুরু হলে জায়গা বরাদ্দ নিয়ে সেগুলো নিয়ে আসেন বিক্রির জন্যে। মেলায় সোফাসেট, আলমিরা, খাট, ওয়ারড্রব, ড্রেসিং টেবিল, মিটসেফ, ডাইনিং টেবিলসহ নানা প্রয়োজনীয় জিনিস পাওয়া যায়। কাঠের পাশাপাশি মেলায় স্টিলের আলমিরা, খাট, মিটসেফসহ নানা আসবাব বিক্রি হয়। এলাকার মানুষজন এসব জিনিসপত্র কেনার জন্যে মেলা শুরুর অপেক্ষায় থাকেন। আশপাশের জেলা থেকেও মানুষজন স্টিল ও কাঠের ফার্নিচার কিনতে এই মেলায় আসেন। মেলায় কয়েক কোটি টাকার আসবাবপত্র বিক্রি হয় বলে জানান আয়োজক কমিটির সদস্য বিএনপি নেতা দোলা সরকার।
এবার স্কুল-কলেজগুলোতে দুর্গা পূজার ছুটি থাকায় ছেলেমেয়েরা এই মেলায় অনেক বেশি আনন্দ উপভোগ করে। মেলার আশপাশের ১০/১২টি গ্রামের জামাই মেয়েদের নাইওর নিয়ে আসে শ্বশুরবাড়ির লোকজন। মেলা উপলক্ষ্যে বৌ-ঝি ও জামাই আদর আপ্যায়নে, ধুতী, শাড়ি, পাঞ্জাবী, জামা-কাপড়, ছাতি, পাটা দেয়া-নেয়া বাঙালীর হারানো ঐতিহ্যকে স্মরণ করিয়ে দেয়।
মেলায় চিত্ত বিনোদনের জন্য পূর্বে একাধিক যাত্রার দল আসতো। কিন্তু এবার তা হচ্ছে না। এবার মেলায় এসেছে নাগর দোলা, নৌকা দোলা, পুতুল নাচ ও মোটরসাইকেল শো।
মেলার শান্তি শৃংঙ্খলা রক্ষার জন্য মেলা কমিটি পুলিশের পাশাপাশি একটি শক্তিশালী পরিচালনা কমিটি গঠন করেছে। মেলার ইজারাদার বিএনপি নেতা ফজলুল হক জানান, এবারে শারদীয় দুর্গাপূজা আমরা শান্তিপূর্নভাবে উদযাপন করেছি। মেলাও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে নানা কমিটি গঠন করে দায়িত্ব ভাগ করে দেয়া হয়েছে। মেলায় আগত ব্যবসায়ীদের মাঝে জায়গা বরাদ্দ চলছে। আগামী ১০ তারিখ থেকে এই মেলা আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

জাতীয় গ্রিডে বিপর্যয়, ঢাকা ও চট্টগ্রামের একাংশে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন

Verified by MonsterInsights

কাজিপুরে তিনশ বছরের সোনামুখী মেলাকে ঘিরে এলাকায় উৎসবের আমেজ

আপলোডের সময় : 06:56:36 pm, Monday, 6 October 2025

সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলার সোনামুখীতে বসছে জেলার ঐতিহ্যবাহী সোনামুখী মেলা। শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে প্রায় তিনশ বছর ধরে সোনামুখীতে এ মেলা প্রতিবছর অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। শুরু থেকেই ইছামতি নদীর তীর ঘেঁষে সোনামুখীর এই মেলায় প্রচুর জনসমাবেশ হয়। মেলা উপলক্ষে সোনামুখী ও আশপাশের গ্রামগুলোতে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে।
মেলার বুক চিরে সিরাজগঞ্জ সোনামুখী ভায়া বগুড়ার ধুনট-শেরপুর হয়ে আন্তঃজেলা সড়ক থাকার কারণে এ মেলার গুরুত্ব অনেক বেশি। আশপাশের এলাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ব্যবসায়ীরা তাদের নানা পণ্য-সামগ্রী বেচাকেনার উদ্দেশ্যে মেলাতে নিয়ে আসে। বিশেষ করে এই মেলা এলাকাবাসির নিকটে কাঠের মেলা নামেও পরিচিত। আশপাশের কয়েক গ্রামের কারিগরেরা মেলার দুই-তিন মাস পূর্বে থেকে কাঠের আসবাবপত্র তৈরি করেন। মেলা শুরু হলে জায়গা বরাদ্দ নিয়ে সেগুলো নিয়ে আসেন বিক্রির জন্যে। মেলায় সোফাসেট, আলমিরা, খাট, ওয়ারড্রব, ড্রেসিং টেবিল, মিটসেফ, ডাইনিং টেবিলসহ নানা প্রয়োজনীয় জিনিস পাওয়া যায়। কাঠের পাশাপাশি মেলায় স্টিলের আলমিরা, খাট, মিটসেফসহ নানা আসবাব বিক্রি হয়। এলাকার মানুষজন এসব জিনিসপত্র কেনার জন্যে মেলা শুরুর অপেক্ষায় থাকেন। আশপাশের জেলা থেকেও মানুষজন স্টিল ও কাঠের ফার্নিচার কিনতে এই মেলায় আসেন। মেলায় কয়েক কোটি টাকার আসবাবপত্র বিক্রি হয় বলে জানান আয়োজক কমিটির সদস্য বিএনপি নেতা দোলা সরকার।
এবার স্কুল-কলেজগুলোতে দুর্গা পূজার ছুটি থাকায় ছেলেমেয়েরা এই মেলায় অনেক বেশি আনন্দ উপভোগ করে। মেলার আশপাশের ১০/১২টি গ্রামের জামাই মেয়েদের নাইওর নিয়ে আসে শ্বশুরবাড়ির লোকজন। মেলা উপলক্ষ্যে বৌ-ঝি ও জামাই আদর আপ্যায়নে, ধুতী, শাড়ি, পাঞ্জাবী, জামা-কাপড়, ছাতি, পাটা দেয়া-নেয়া বাঙালীর হারানো ঐতিহ্যকে স্মরণ করিয়ে দেয়।
মেলায় চিত্ত বিনোদনের জন্য পূর্বে একাধিক যাত্রার দল আসতো। কিন্তু এবার তা হচ্ছে না। এবার মেলায় এসেছে নাগর দোলা, নৌকা দোলা, পুতুল নাচ ও মোটরসাইকেল শো।
মেলার শান্তি শৃংঙ্খলা রক্ষার জন্য মেলা কমিটি পুলিশের পাশাপাশি একটি শক্তিশালী পরিচালনা কমিটি গঠন করেছে। মেলার ইজারাদার বিএনপি নেতা ফজলুল হক জানান, এবারে শারদীয় দুর্গাপূজা আমরা শান্তিপূর্নভাবে উদযাপন করেছি। মেলাও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে নানা কমিটি গঠন করে দায়িত্ব ভাগ করে দেয়া হয়েছে। মেলায় আগত ব্যবসায়ীদের মাঝে জায়গা বরাদ্দ চলছে। আগামী ১০ তারিখ থেকে এই মেলা আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে।