ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে পরিচালিত একটি সরকারি বিদ্যালয়ের সাফল্য গাঁথা

ঢাকার প্রাণকেন্দ্রে, তেজগাঁও এলাকায় অবস্থিত এই বিদ্যাপীঠটি ১৯৫৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রাথমিকভাবে এটি “তেজগাঁও পলিটেকনিক হাই স্কুল” নামে পরিচিত ছিল, যা স্থানীয় শিল্পাঞ্চলের শিক্ষার্থীদের কারিগরি ও সাধারণ শিক্ষা প্রদানের উদ্দেশ্যে গড়ে উঠেছিল। সেই সময়ে, ভাওয়াল রাজার দান করা ২২ বিঘা জমি সরকার কর্তৃক অধিগ্রহণ করে স্কুলের জন্য বরাদ্দ করা হয়, যা পরবর্তীতে বিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাসে পরিণত হয়।

প্রতিষ্ঠার প্রথম দিনগুলিতে, নূর মোহাম্মদ নামে একজন দৃঢ়চেতা শিক্ষাবিদ প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তাঁর নেতৃত্বে স্কুলটি দ্রুত জনপ্রিয়তা অর্জন করে এবং ১৯৬৯ সালে স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রথম শহীদ লুৎফর রহমান এই বিদ্যালয় থেকেই এসএসসি পাস করেন, যা তার ইতিহাসে এক গৌরবময় অধ্যায় যোগ করে।

স্কুলের উন্নয়নে যাঁরা অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন, তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন তৎকালীন স্থানীয় নেতা তমিজ উদ্দিন খান, যিনি স্কুলের জন্য জমি সংগ্রহে অগ্রণী ছিলেন, এবং ডাঃ টি. আহম্মদ ও মরহুম দোহা, যাঁরা বিভিন্ন সময়ে আর্থিক ও প্রশাসনিক সহায়তা প্রদান করেছেন। এছাড়াও, প্রথম প্রধান শিক্ষক নূর মোহাম্মদের পরে যাঁরা দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন—যেমন শাহ্‌রীন খান রূপা—তাঁদের সকলের প্রচেষ্টায় বিদ্যালয়টি আজকের আধুনিক, সুসজ্জিত ক্যাম্পাসে পরিণত হয়েছে।

নামকরণের স্বার্থকতা বিবেচনা করলে, “তেজগাঁও” শব্দটি এই এলাকার শিল্প ও বাণিজ্যিক গুরুত্বকে প্রতিফলিত করে, আর “সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়” নির্দেশ করে যে এটি সরকারি তত্ত্বাবধানে পরিচালিত, বিশেষত মেয়েদের শিক্ষার জন্য নিবেদিত একটি প্রতিষ্ঠান। এই নামটি শুধু ভৌগোলিক পরিচয়ই বহন করে না, বরং মেয়েদের শিক্ষা ও সমাজে তাদের ভূমিকার প্রতি সরকারের অঙ্গীকারকেও তুলে ধরে।

বর্তমানে বিদ্যালয়টি প্রথম শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের পাঠদান করছে এবং ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে পরিচালিত হচ্ছে। আধুনিক শ্রেণীকক্ষ, বিজ্ঞানাগার, কম্পিউটার ল্যাব এবং বিশাল লাইব্রেরি নিয়ে সজ্জিত এই প্রতিষ্ঠানটি শিক্ষার্থীদের একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তুত করছে।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

পাঠ্য বইয়ে বিতর্ক: এনসিটিবির ৯ কর্মকর্তাকে বদলি, গচ্চা ১৭ কোটি টাকা

Verified by MonsterInsights

ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে পরিচালিত একটি সরকারি বিদ্যালয়ের সাফল্য গাঁথা

আপলোডের সময় : 09:08:46 pm, Sunday, 21 December 2025

ঢাকার প্রাণকেন্দ্রে, তেজগাঁও এলাকায় অবস্থিত এই বিদ্যাপীঠটি ১৯৫৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রাথমিকভাবে এটি “তেজগাঁও পলিটেকনিক হাই স্কুল” নামে পরিচিত ছিল, যা স্থানীয় শিল্পাঞ্চলের শিক্ষার্থীদের কারিগরি ও সাধারণ শিক্ষা প্রদানের উদ্দেশ্যে গড়ে উঠেছিল। সেই সময়ে, ভাওয়াল রাজার দান করা ২২ বিঘা জমি সরকার কর্তৃক অধিগ্রহণ করে স্কুলের জন্য বরাদ্দ করা হয়, যা পরবর্তীতে বিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাসে পরিণত হয়।

প্রতিষ্ঠার প্রথম দিনগুলিতে, নূর মোহাম্মদ নামে একজন দৃঢ়চেতা শিক্ষাবিদ প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তাঁর নেতৃত্বে স্কুলটি দ্রুত জনপ্রিয়তা অর্জন করে এবং ১৯৬৯ সালে স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রথম শহীদ লুৎফর রহমান এই বিদ্যালয় থেকেই এসএসসি পাস করেন, যা তার ইতিহাসে এক গৌরবময় অধ্যায় যোগ করে।

স্কুলের উন্নয়নে যাঁরা অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন, তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন তৎকালীন স্থানীয় নেতা তমিজ উদ্দিন খান, যিনি স্কুলের জন্য জমি সংগ্রহে অগ্রণী ছিলেন, এবং ডাঃ টি. আহম্মদ ও মরহুম দোহা, যাঁরা বিভিন্ন সময়ে আর্থিক ও প্রশাসনিক সহায়তা প্রদান করেছেন। এছাড়াও, প্রথম প্রধান শিক্ষক নূর মোহাম্মদের পরে যাঁরা দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন—যেমন শাহ্‌রীন খান রূপা—তাঁদের সকলের প্রচেষ্টায় বিদ্যালয়টি আজকের আধুনিক, সুসজ্জিত ক্যাম্পাসে পরিণত হয়েছে।

নামকরণের স্বার্থকতা বিবেচনা করলে, “তেজগাঁও” শব্দটি এই এলাকার শিল্প ও বাণিজ্যিক গুরুত্বকে প্রতিফলিত করে, আর “সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়” নির্দেশ করে যে এটি সরকারি তত্ত্বাবধানে পরিচালিত, বিশেষত মেয়েদের শিক্ষার জন্য নিবেদিত একটি প্রতিষ্ঠান। এই নামটি শুধু ভৌগোলিক পরিচয়ই বহন করে না, বরং মেয়েদের শিক্ষা ও সমাজে তাদের ভূমিকার প্রতি সরকারের অঙ্গীকারকেও তুলে ধরে।

বর্তমানে বিদ্যালয়টি প্রথম শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের পাঠদান করছে এবং ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে পরিচালিত হচ্ছে। আধুনিক শ্রেণীকক্ষ, বিজ্ঞানাগার, কম্পিউটার ল্যাব এবং বিশাল লাইব্রেরি নিয়ে সজ্জিত এই প্রতিষ্ঠানটি শিক্ষার্থীদের একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তুত করছে।