পলাশবাড়ীতে ইএনওর গাড়ীর ধাক্কায় শিশু সন্তান রাইআন গুরুতর আহত

গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসার শেখ জাবের আহমেদ এর গাড়ীর ধাক্কায় রায়আন (৩) নামে এক শিশু গুরুতর আহত হয়েছে।

এলাকাবাসী ও তার পিতা মাতা আহত শিশু রায়আনকে উদ্ধার করে পলাশবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করান।

আহত শিশু রায়আন (৩)পলাশবাড়ী উপজেলার বরিশাল ইউনিয়নের দুবলাগাড়ী গ্রামের রিক্সাচালক জাহাঙ্গীর আলমের ছেলে।

ঘটনাটির ঘটেছে ২৩ শে মার্চ সোমবার বেলা আনুমানিক আড়াইটার দিকে রংপুর – ঢাকা জাতীয় মহাসড়কের পলাশবাড়ী পৌরসভা এলাকার সরকার ফিলিং ষ্টেশনের সামনে।

আহত শিশুর বাবা মা জানান তারা বাড়ী থেকে অটোতে চড়ে ফোরলেন মহাসড়কে রিক্সা ভ্যান এর জন্য নির্ধারিত ধীরগতির লেন ব্যাবহার করে পলাশবাড়ী শহরে আসার পথিমধ্যে সরকার ফিলিং স্টেশনের সামনে পৌছিলে পলাশবাড়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসার শেখ জাবের আহমেদ এর ব্লু কালারের সরকারি গাড়ী পেট্রোল পাম্পে দ্রুত প্রবেশ করার সময় উল্টো পথে
ডানবাম না তাকিয়ে পাম্পে প্রবেশ করার সময় অটোরিকশার মাঝামাঝি স্থানে ধাক্কা দেয়।

এসময় ওই অটোতে থাকা শিশুর বাবা মা সামান্য আঘাত প্রাপ্ত হলে ও শিশু রায়হান মাটিতে পরে রক্তাক্ত আহত হয়।

এলাকাবাসী রক্তাক্ত আহত অবস্থায় শিশু রায়আন কে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য পলাশবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।বর্তমানে শিশুটি হাসপাতালের চিকিৎসাধীন রয়েছে।শিশু মাথায় প্রচন্ড আঘাত রয়েছে এ ছাড়াও ঠোট থুতনি ফেটে যাওয়ায় বেশ কয়েকটি স্থানে সেলাই দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তার পরিবার।

তারা আরো জানান দুর্ঘটনায় সময় ইউএনও শেখ জাবের আহম্মদ গাড়ীতে বসা ছিলেন। ঘটনার ৫ ঘন্টা পেরিয়ে গেলেও ওই শিশুকে হাসপাতালে দেখতে যাননি ইউএনও শেখ জাবের আহম্মেদ।তবে তার ড্রাইভার আশরাফুল ইসলামের মাধ্যমে ১ হাজার টাকা পাঠিয়েছেন বলে শিশুটির পরিবার সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেছেন।

পলাশবাড়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসার সচারাচর নিজের সরকারী গাড়ী নিজেই ড্রাইভ করতেন। তবে এই দুর্ঘটনায় সময় গাড়ী কে ড্রাইভার করছিলেন তা নিশ্চিত করতে সরকার ফিলিং স্টেশনে সিসি টিভি ফুটেজ সংরক্ষণের জন্য সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানো হয়েছে এবং প্রতিষ্ঠান থেকে সিসি টিভি ফুটেজ সংরক্ষণ করার জন্য সাংবাদিকদের প্রতিশ্রুতি প্রদান করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে ইউএনওর ড্রাইভার আশরাফুল ইসলামের সাথে কথা হলে তিনি প্রথমে পলাশবাড়ী উপজেলায় কর্মরত সকল সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে বিরুপ প্রতিক্রিয়া ব্যাক্ত করার পাশাপাশি কঠোর সমালোচনা করেন।

পরে দুর্ঘটনায় বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন অটো তার নির্ধারিত লেন দিয়ে স্বাভাবিক ভাবে পলাশবাড়ীর দিকে আসছিলো।ইউএনও মহোদরের গাড়ীটি ফায়ার সার্ভিস এর সামনের মোড় নিয়ে লেন পরিবর্তন করে পলাশবাড়ী দিকে আসার পথিমধ্যে সরকার ফিলিং ষ্টেশন পরিদর্শ করার জন্য গাড়ী ফিলিং ষ্টেশনে থামাতে বলে।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রত্যাক্ষদর্শীরা জানান রাস্তার দক্ষিন পাশ্বে প্রথম কাটা স্থান দিয়ে ফিলিং ষ্টেশনে ঢোকার নিয়ম থাকলে ও চালক তা না করে ১০ গজ সামনে সম্পুর্ন বে আইনি ভাবে উত্তরপার্শ্বে দ্বিতিয় ফাকা স্থান দিয়ে দ্রুতগতিতে ডানবাম না তাকিয়ে ফিলিং স্টেশনে আকর্ষিক দ্রুতগামী গাড়ীটি প্রবেশ করলে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

সচেতন পলাশবাড়ীবাসী মনে করেন ঘটনার পর মানবিক দিক নিবেচনা করে ইউএনওর উচিত ছিলো সরেজমিন হাসপাতালে গিয়ে শিশুটির চিকিৎসার খোজ খবর নেয়া,সমবেদনা জ্ঞাপন করার পাশাপাশি চিকিৎসার জন্য সরকারি তহবিল থেকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা। পাশাপাশি প্রয়োজনে উন্নত চিকিৎসার জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল অথবা রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করানো।যেহেতু শিশুটির
মাথায় যতেষ্ঠ আঘাত রয়েছে বলে লক্ষ করা গেছে।

এ ব্যাপারে পলাশবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত মেডিকেল অফিসার ডা:মানিছা বলেন বর্তমানে শিশুটি কিছুটা শংঙ্কা মুক্ত রয়েছে।মাথার আঘাতে বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোন মন্তব্য করে নি।তিনি আরো জানান শিশুটি ভয় ও আতংকে কথাবার্তা বলছেন না।স্বাভাবিক হতে সময় লাগবে।

তবে শিশুটিকে হাসপাতাল ত্যাগ করার জন্য বিভিন্ন চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ব্যাক্তিরা জানান।

এ ব্যাপারে পলাশবাড়ী থানার ইন্সপেক্টর তদন্ত প্রশান্ত প্রমানিক বলেন বিষয়টি আমাকে অবগত করা প্রয়োজন ছিলো। কিন্ত আমাকে জানানো হয় নি। আমি শিশুটির খোঁজ খবর ও তথ্য উদঘাটনের চেষ্টা করছি।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত পলাশবাড়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসার শেখ জাবের আহমেদ এর সাথে মুঠোফোনে হোয়াটসঅ্যাপ একাধীকবার যোগাযোগের চেষ্টা করে ও মোবাইল ফোন রিসিভ না করায় মতামত গ্রহন করা সম্ভব হয় নি।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

পাঠ্য বইয়ে বিতর্ক: এনসিটিবির ৯ কর্মকর্তাকে বদলি, গচ্চা ১৭ কোটি টাকা

Verified by MonsterInsights

পলাশবাড়ীতে ইএনওর গাড়ীর ধাক্কায় শিশু সন্তান রাইআন গুরুতর আহত

আপলোডের সময় : 10:48:56 pm, Tuesday, 24 March 2026

গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসার শেখ জাবের আহমেদ এর গাড়ীর ধাক্কায় রায়আন (৩) নামে এক শিশু গুরুতর আহত হয়েছে।

এলাকাবাসী ও তার পিতা মাতা আহত শিশু রায়আনকে উদ্ধার করে পলাশবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করান।

আহত শিশু রায়আন (৩)পলাশবাড়ী উপজেলার বরিশাল ইউনিয়নের দুবলাগাড়ী গ্রামের রিক্সাচালক জাহাঙ্গীর আলমের ছেলে।

ঘটনাটির ঘটেছে ২৩ শে মার্চ সোমবার বেলা আনুমানিক আড়াইটার দিকে রংপুর – ঢাকা জাতীয় মহাসড়কের পলাশবাড়ী পৌরসভা এলাকার সরকার ফিলিং ষ্টেশনের সামনে।

আহত শিশুর বাবা মা জানান তারা বাড়ী থেকে অটোতে চড়ে ফোরলেন মহাসড়কে রিক্সা ভ্যান এর জন্য নির্ধারিত ধীরগতির লেন ব্যাবহার করে পলাশবাড়ী শহরে আসার পথিমধ্যে সরকার ফিলিং স্টেশনের সামনে পৌছিলে পলাশবাড়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসার শেখ জাবের আহমেদ এর ব্লু কালারের সরকারি গাড়ী পেট্রোল পাম্পে দ্রুত প্রবেশ করার সময় উল্টো পথে
ডানবাম না তাকিয়ে পাম্পে প্রবেশ করার সময় অটোরিকশার মাঝামাঝি স্থানে ধাক্কা দেয়।

এসময় ওই অটোতে থাকা শিশুর বাবা মা সামান্য আঘাত প্রাপ্ত হলে ও শিশু রায়হান মাটিতে পরে রক্তাক্ত আহত হয়।

এলাকাবাসী রক্তাক্ত আহত অবস্থায় শিশু রায়আন কে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য পলাশবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।বর্তমানে শিশুটি হাসপাতালের চিকিৎসাধীন রয়েছে।শিশু মাথায় প্রচন্ড আঘাত রয়েছে এ ছাড়াও ঠোট থুতনি ফেটে যাওয়ায় বেশ কয়েকটি স্থানে সেলাই দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তার পরিবার।

তারা আরো জানান দুর্ঘটনায় সময় ইউএনও শেখ জাবের আহম্মদ গাড়ীতে বসা ছিলেন। ঘটনার ৫ ঘন্টা পেরিয়ে গেলেও ওই শিশুকে হাসপাতালে দেখতে যাননি ইউএনও শেখ জাবের আহম্মেদ।তবে তার ড্রাইভার আশরাফুল ইসলামের মাধ্যমে ১ হাজার টাকা পাঠিয়েছেন বলে শিশুটির পরিবার সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেছেন।

পলাশবাড়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসার সচারাচর নিজের সরকারী গাড়ী নিজেই ড্রাইভ করতেন। তবে এই দুর্ঘটনায় সময় গাড়ী কে ড্রাইভার করছিলেন তা নিশ্চিত করতে সরকার ফিলিং স্টেশনে সিসি টিভি ফুটেজ সংরক্ষণের জন্য সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানো হয়েছে এবং প্রতিষ্ঠান থেকে সিসি টিভি ফুটেজ সংরক্ষণ করার জন্য সাংবাদিকদের প্রতিশ্রুতি প্রদান করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে ইউএনওর ড্রাইভার আশরাফুল ইসলামের সাথে কথা হলে তিনি প্রথমে পলাশবাড়ী উপজেলায় কর্মরত সকল সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে বিরুপ প্রতিক্রিয়া ব্যাক্ত করার পাশাপাশি কঠোর সমালোচনা করেন।

পরে দুর্ঘটনায় বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন অটো তার নির্ধারিত লেন দিয়ে স্বাভাবিক ভাবে পলাশবাড়ীর দিকে আসছিলো।ইউএনও মহোদরের গাড়ীটি ফায়ার সার্ভিস এর সামনের মোড় নিয়ে লেন পরিবর্তন করে পলাশবাড়ী দিকে আসার পথিমধ্যে সরকার ফিলিং ষ্টেশন পরিদর্শ করার জন্য গাড়ী ফিলিং ষ্টেশনে থামাতে বলে।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রত্যাক্ষদর্শীরা জানান রাস্তার দক্ষিন পাশ্বে প্রথম কাটা স্থান দিয়ে ফিলিং ষ্টেশনে ঢোকার নিয়ম থাকলে ও চালক তা না করে ১০ গজ সামনে সম্পুর্ন বে আইনি ভাবে উত্তরপার্শ্বে দ্বিতিয় ফাকা স্থান দিয়ে দ্রুতগতিতে ডানবাম না তাকিয়ে ফিলিং স্টেশনে আকর্ষিক দ্রুতগামী গাড়ীটি প্রবেশ করলে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

সচেতন পলাশবাড়ীবাসী মনে করেন ঘটনার পর মানবিক দিক নিবেচনা করে ইউএনওর উচিত ছিলো সরেজমিন হাসপাতালে গিয়ে শিশুটির চিকিৎসার খোজ খবর নেয়া,সমবেদনা জ্ঞাপন করার পাশাপাশি চিকিৎসার জন্য সরকারি তহবিল থেকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা। পাশাপাশি প্রয়োজনে উন্নত চিকিৎসার জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল অথবা রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করানো।যেহেতু শিশুটির
মাথায় যতেষ্ঠ আঘাত রয়েছে বলে লক্ষ করা গেছে।

এ ব্যাপারে পলাশবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত মেডিকেল অফিসার ডা:মানিছা বলেন বর্তমানে শিশুটি কিছুটা শংঙ্কা মুক্ত রয়েছে।মাথার আঘাতে বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোন মন্তব্য করে নি।তিনি আরো জানান শিশুটি ভয় ও আতংকে কথাবার্তা বলছেন না।স্বাভাবিক হতে সময় লাগবে।

তবে শিশুটিকে হাসপাতাল ত্যাগ করার জন্য বিভিন্ন চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ব্যাক্তিরা জানান।

এ ব্যাপারে পলাশবাড়ী থানার ইন্সপেক্টর তদন্ত প্রশান্ত প্রমানিক বলেন বিষয়টি আমাকে অবগত করা প্রয়োজন ছিলো। কিন্ত আমাকে জানানো হয় নি। আমি শিশুটির খোঁজ খবর ও তথ্য উদঘাটনের চেষ্টা করছি।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত পলাশবাড়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসার শেখ জাবের আহমেদ এর সাথে মুঠোফোনে হোয়াটসঅ্যাপ একাধীকবার যোগাযোগের চেষ্টা করে ও মোবাইল ফোন রিসিভ না করায় মতামত গ্রহন করা সম্ভব হয় নি।