কাজিপুরে ২৩০প্যাকেট সরকারি পাটবীজসহ জনতার হাতে ধরা খেলাও ব্লক সুপারভাইজার

সিরাজগঞ্জের কাজিপুরে কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে বিতরণের জন্যে প্রদত্ত ২৩০ প্যাকেট সরকারি পাটবীজসহ জনতার হাতে ধরা পড়েন এক উপসহকারি কৃষি কর্মকর্তা (বিএস) ও ক্রয়কারী এক ব্যবসায়ী। ওই কর্মকর্তার নাম আব্দুস সালাম।

তিনি উপজেলার তেকানি ইউনিয়নের চরবুরুঙ্গী গ্রামের শামসুল হক এর পুত্র। তিনি দীর্ঘদিন যাবৎ নিশ্চিন্তপুর ইউনিয়নে উপসহকারি কৃষি কর্মকর্তা হিসেবে কমরত আছেন। ওই পাটবীজের ক্রেতা ব্যবসায়ী গোলাই(৫০) চালিতাডাঙ্গ ইউনিয়নের ভানুডাঙ্গা গ্রামের গফুর আলীর পুত্র। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) বিকেলে ভ্যানে করে পাকেটজাত বিডিএস তোষা জাতের পাটবীজ নিয়ে যাবার সময় জনতা ওই দুইজনকে সন্দেহবশত আটক করে। এসময় জিজ্ঞাসাবাদে তারা ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন। খবর পেয়ে বিকেলেই নাটুয়াপাড়া পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা তাদের হেফাজতে নেন।
ওইদিন রাতেই কাজিপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোস্তাফিজুর রহমান চরপানাগাড়ি বাজারে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করেন। এসময় কৃষি বিভাগের ব্লক সুপারভাইজরকে বীজ আইন, ২০১৮ এর ২৪(১) ধারায় ৫০ (পঞ্চাশ হাজার) টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে ১ (এক) মাস বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন। একইসাথে ব্যবসায়ী গোলাইকে একই আইনের ২৫ ধারা মোতাবেক ৪০ (চল্লিশ হাজার) টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে ১(এক) মাস বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন তিনি।
অপরাধীদ্বয়ের পক্ষে তাতক্ষণিকভাবে অর্থদণ্ড আদায় হওয়ার ভবিষ্যতে অপরাধ না করার শর্তে সতর্ক করে মুচলেকা গ্রহণ করে তাদেরকে অবমুক্তি প্রদান করা হয়।
এদিকে ভ্রাম্যমান আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ইউএনও জানান,“ স্থানীয় পুলিশের মাধ্যমে খবর পেয়ে রাতেই ঘটানাস্থলে উপস্থিত হই। এসময় প্যাকেটজাত পাটের বীজ বিক্রির বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত হয়েই ওই দুজনকে দণ্ড প্রদান করা হয়েছে।
এদিকে কাজিপুর উপজেলা কৃষি অফিসার শরিফুল ইসলাম মুঠোফোনে জানান, “ চলতি বছরে এখনো সরকারি পাটবীজ উপজেলায় আসেনি। যতদূর জানতে পেরেছি বিগত বছরের এসব বীজ বিক্রি করেছেন ওই কর্মকর্তা। বিষয়টি জানার পরেই আমি উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।”

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

সিডনির নতুন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রথম যাত্রীবাহী ফ্লাইটের যাত্রা শুরু

Verified by MonsterInsights

কাজিপুরে ২৩০প্যাকেট সরকারি পাটবীজসহ জনতার হাতে ধরা খেলাও ব্লক সুপারভাইজার

আপলোডের সময় : 11:01:44 pm, Saturday, 4 April 2026

সিরাজগঞ্জের কাজিপুরে কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে বিতরণের জন্যে প্রদত্ত ২৩০ প্যাকেট সরকারি পাটবীজসহ জনতার হাতে ধরা পড়েন এক উপসহকারি কৃষি কর্মকর্তা (বিএস) ও ক্রয়কারী এক ব্যবসায়ী। ওই কর্মকর্তার নাম আব্দুস সালাম।

তিনি উপজেলার তেকানি ইউনিয়নের চরবুরুঙ্গী গ্রামের শামসুল হক এর পুত্র। তিনি দীর্ঘদিন যাবৎ নিশ্চিন্তপুর ইউনিয়নে উপসহকারি কৃষি কর্মকর্তা হিসেবে কমরত আছেন। ওই পাটবীজের ক্রেতা ব্যবসায়ী গোলাই(৫০) চালিতাডাঙ্গ ইউনিয়নের ভানুডাঙ্গা গ্রামের গফুর আলীর পুত্র। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) বিকেলে ভ্যানে করে পাকেটজাত বিডিএস তোষা জাতের পাটবীজ নিয়ে যাবার সময় জনতা ওই দুইজনকে সন্দেহবশত আটক করে। এসময় জিজ্ঞাসাবাদে তারা ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন। খবর পেয়ে বিকেলেই নাটুয়াপাড়া পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা তাদের হেফাজতে নেন।
ওইদিন রাতেই কাজিপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোস্তাফিজুর রহমান চরপানাগাড়ি বাজারে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করেন। এসময় কৃষি বিভাগের ব্লক সুপারভাইজরকে বীজ আইন, ২০১৮ এর ২৪(১) ধারায় ৫০ (পঞ্চাশ হাজার) টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে ১ (এক) মাস বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন। একইসাথে ব্যবসায়ী গোলাইকে একই আইনের ২৫ ধারা মোতাবেক ৪০ (চল্লিশ হাজার) টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে ১(এক) মাস বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন তিনি।
অপরাধীদ্বয়ের পক্ষে তাতক্ষণিকভাবে অর্থদণ্ড আদায় হওয়ার ভবিষ্যতে অপরাধ না করার শর্তে সতর্ক করে মুচলেকা গ্রহণ করে তাদেরকে অবমুক্তি প্রদান করা হয়।
এদিকে ভ্রাম্যমান আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ইউএনও জানান,“ স্থানীয় পুলিশের মাধ্যমে খবর পেয়ে রাতেই ঘটানাস্থলে উপস্থিত হই। এসময় প্যাকেটজাত পাটের বীজ বিক্রির বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত হয়েই ওই দুজনকে দণ্ড প্রদান করা হয়েছে।
এদিকে কাজিপুর উপজেলা কৃষি অফিসার শরিফুল ইসলাম মুঠোফোনে জানান, “ চলতি বছরে এখনো সরকারি পাটবীজ উপজেলায় আসেনি। যতদূর জানতে পেরেছি বিগত বছরের এসব বীজ বিক্রি করেছেন ওই কর্মকর্তা। বিষয়টি জানার পরেই আমি উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।”