বীজ আলু উত্তোলনে ব্যস্ত সময় পার করছে ডোমার বিএডিসির কর্মকর্তা কর্মচারীরা

মোঃ খলিলুর রহমান,নীলফামারী জেলা প্রতিনিধিঃ নীলফামারীর ডোমার বিএডিসি’র ভিত্তি বীজ আলু উৎপাদন খামারে চলতি মৌসুমে ভিত্তি বীজ আলু উৎপাদনে ব্যস্ত সময় পার করছে ডোমার বিএডিসির কর্মকর্তা কর্মচারীরা লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভবনা তৈরি হয়েছে।

খামারে উন্নত জাতের ভিত্তি বীজ আলু উৎপাদনের লক্ষ্যে এবছর প্রায় ৪০০ একর জমিতে ১৮ প্রজাতের বীজ আলু রোপন করা হয়।

২৬ টি জাতের প্লান্টলেটের মাধ্যমে উৎপাদিত চারা যন্ত্রের মাধ্যমে রোপন করে বিভিন্ন জনন ও রোপন কার্যক্রম শেষে এখন চলছে বীজ আলু তোলার কাজ।

উৎপাদনে লক্ষ্যমাত্রা ২ হাজার ১৫২ মেট্রিক টন থাকলে ও তা ছড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।

এরমধ্যে আমদানিকৃত উচ্চ ফলনশীল রপ্তানি উপযোগী এবং শিল্পে ব্যবহার যোগ্য এ্যালোয়েট, সানশাইন,কুইন এ্যানি, লেবেলা-এই পাঁচটি জাতের আলু মিনি টিউবার, ব্রিডার বা (প্রাক ভিত্তি) ও ভিত্তি বীজ হিসেবে ওই খামারে প্রায় ১০১.৭৯ একর জমিতে চাষ করা হয়েছে। ফলনও বাম্পার হয়েছে।

এছাড়াও ডোমার ভিত্তি বীজ আলু উৎপাদন খামারে আবু তালেব মিয়া উপ- পরিচালক পদে যোগদানের পর দুইটি টিস্যু কালচার ল্যাব থেকে পাঁচ লক্ষাধিক প্লানলেট চারা উৎপাদিত হয়েছে। চলতি মৌসুমে ১১ লাখ ৫০ হাজার চারা উৎপাদিত হয়েছে। যা পুর্বের তুলনায় দ্বিগুণের চেয়েও বেশি। মিনি টিউবার সর্বোচ্চ ২৯ মেট্রিকটন উৎপাদিত হয়েছিল। এ মৌসুমে তা প্রায় ৭০ মেট্রিক টনের ও বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

উল্লেখ্য যে, ডোমার ভিত্তি বীজ আলু উৎপাদন খামারে ইতোপুর্বে বীজের গুনগত মান খারাপ থাকায় চাষিরা আস্থা হারিয়ে ফেলেছিলেন।

খামারটির উপ পরিচালক আবু তালেব মিয়া ওই খামারে যোগদানের পর স্বল্প সময়ের মধ্যে খামারের বীজের গুনগত মান অনেকাংশেই ফিরিয়ে আসে বলে জানা গেছে।

সোনারায় ইউনিয়নের কুমডাঙা এলাকার কৃষক সেলিম হোসেন, শালডাঙা গ্রামের আঃ জলিল এবং গোলাম রহমান সহ আরও অনেকে বলেন, আবু তালেব মিয়া উপ-পরিচালক পদে যোগদানের পর থেকে এই খামারের বীজ আলু, আউশধান এবং গম সহ যাবতীয় ফসলের ব্যাপক উৎপাদন হয়েছে। তিনি আসার পর থেকে এই খামারের সুনাম বাড়ছে। খামারের বীজ আলু সংরক্ষণের জন্য ৮টি সেডের মধ্যে ৫টি নতুন সেড নির্মান কাজ সম্পন্ন করেছেন। ৩টি সেডের কাজ চলমান প্রক্রিয়াধীন।

এছাড়াও সাধারণ মানুষের চলাচলের জন্য হিরিংবোন রাস্তা নির্মান, ৭টি ব্রিজ নির্মান, প্রায় সাড়ে পাঁচ কিঃমিঃ নালা খনন ও নিচু জমিগুলোতে মাটি ভরাট করে চাষাবাদের উপযোগীসহ খামারের বিভিন্ন উন্নয়ন মুলক কাজ চলছে। পাশাপাশি মান সম্পন্ন বীজ আলু উৎপাদন সংরক্ষণ এবং তা কৃষক পর্যায়ে বিতরণ জোড়দার করার কাজ সুষ্ঠু ভাবে সম্পন্ন করছেন।

এছাড়াও ডোমার ভিত্তি আলু উৎপাদন খামারের সহকারী পরিচালক সুব্রত মজুমদারের বিশেষ অবদান রয়েছে।

এ বিষয়ে ডোমার ভিত্তি বীজ আলু উৎপাদন খামার (বিএডিসির) উপ-পরিচালক আবু তালেব মিয়া বলেন, খামার কর্তৃপক্ষ আমার উপর যে অর্পিত দ্বায়িত্ব দিয়ে এখানে পাঠিয়েছেন আমি তা সঠিক ভাবে পালন করার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছি।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

সাঘাটায় অবৈধ বালু উত্তোলনবিরোধী অভিযান, ড্রেজার মেশিন ও সরঞ্জাম জব্দ

Verified by MonsterInsights

বীজ আলু উত্তোলনে ব্যস্ত সময় পার করছে ডোমার বিএডিসির কর্মকর্তা কর্মচারীরা

আপলোডের সময় : 02:38:19 pm, Tuesday, 27 February 2024

মোঃ খলিলুর রহমান,নীলফামারী জেলা প্রতিনিধিঃ নীলফামারীর ডোমার বিএডিসি’র ভিত্তি বীজ আলু উৎপাদন খামারে চলতি মৌসুমে ভিত্তি বীজ আলু উৎপাদনে ব্যস্ত সময় পার করছে ডোমার বিএডিসির কর্মকর্তা কর্মচারীরা লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভবনা তৈরি হয়েছে।

খামারে উন্নত জাতের ভিত্তি বীজ আলু উৎপাদনের লক্ষ্যে এবছর প্রায় ৪০০ একর জমিতে ১৮ প্রজাতের বীজ আলু রোপন করা হয়।

২৬ টি জাতের প্লান্টলেটের মাধ্যমে উৎপাদিত চারা যন্ত্রের মাধ্যমে রোপন করে বিভিন্ন জনন ও রোপন কার্যক্রম শেষে এখন চলছে বীজ আলু তোলার কাজ।

উৎপাদনে লক্ষ্যমাত্রা ২ হাজার ১৫২ মেট্রিক টন থাকলে ও তা ছড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।

এরমধ্যে আমদানিকৃত উচ্চ ফলনশীল রপ্তানি উপযোগী এবং শিল্পে ব্যবহার যোগ্য এ্যালোয়েট, সানশাইন,কুইন এ্যানি, লেবেলা-এই পাঁচটি জাতের আলু মিনি টিউবার, ব্রিডার বা (প্রাক ভিত্তি) ও ভিত্তি বীজ হিসেবে ওই খামারে প্রায় ১০১.৭৯ একর জমিতে চাষ করা হয়েছে। ফলনও বাম্পার হয়েছে।

এছাড়াও ডোমার ভিত্তি বীজ আলু উৎপাদন খামারে আবু তালেব মিয়া উপ- পরিচালক পদে যোগদানের পর দুইটি টিস্যু কালচার ল্যাব থেকে পাঁচ লক্ষাধিক প্লানলেট চারা উৎপাদিত হয়েছে। চলতি মৌসুমে ১১ লাখ ৫০ হাজার চারা উৎপাদিত হয়েছে। যা পুর্বের তুলনায় দ্বিগুণের চেয়েও বেশি। মিনি টিউবার সর্বোচ্চ ২৯ মেট্রিকটন উৎপাদিত হয়েছিল। এ মৌসুমে তা প্রায় ৭০ মেট্রিক টনের ও বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

উল্লেখ্য যে, ডোমার ভিত্তি বীজ আলু উৎপাদন খামারে ইতোপুর্বে বীজের গুনগত মান খারাপ থাকায় চাষিরা আস্থা হারিয়ে ফেলেছিলেন।

খামারটির উপ পরিচালক আবু তালেব মিয়া ওই খামারে যোগদানের পর স্বল্প সময়ের মধ্যে খামারের বীজের গুনগত মান অনেকাংশেই ফিরিয়ে আসে বলে জানা গেছে।

সোনারায় ইউনিয়নের কুমডাঙা এলাকার কৃষক সেলিম হোসেন, শালডাঙা গ্রামের আঃ জলিল এবং গোলাম রহমান সহ আরও অনেকে বলেন, আবু তালেব মিয়া উপ-পরিচালক পদে যোগদানের পর থেকে এই খামারের বীজ আলু, আউশধান এবং গম সহ যাবতীয় ফসলের ব্যাপক উৎপাদন হয়েছে। তিনি আসার পর থেকে এই খামারের সুনাম বাড়ছে। খামারের বীজ আলু সংরক্ষণের জন্য ৮টি সেডের মধ্যে ৫টি নতুন সেড নির্মান কাজ সম্পন্ন করেছেন। ৩টি সেডের কাজ চলমান প্রক্রিয়াধীন।

এছাড়াও সাধারণ মানুষের চলাচলের জন্য হিরিংবোন রাস্তা নির্মান, ৭টি ব্রিজ নির্মান, প্রায় সাড়ে পাঁচ কিঃমিঃ নালা খনন ও নিচু জমিগুলোতে মাটি ভরাট করে চাষাবাদের উপযোগীসহ খামারের বিভিন্ন উন্নয়ন মুলক কাজ চলছে। পাশাপাশি মান সম্পন্ন বীজ আলু উৎপাদন সংরক্ষণ এবং তা কৃষক পর্যায়ে বিতরণ জোড়দার করার কাজ সুষ্ঠু ভাবে সম্পন্ন করছেন।

এছাড়াও ডোমার ভিত্তি আলু উৎপাদন খামারের সহকারী পরিচালক সুব্রত মজুমদারের বিশেষ অবদান রয়েছে।

এ বিষয়ে ডোমার ভিত্তি বীজ আলু উৎপাদন খামার (বিএডিসির) উপ-পরিচালক আবু তালেব মিয়া বলেন, খামার কর্তৃপক্ষ আমার উপর যে অর্পিত দ্বায়িত্ব দিয়ে এখানে পাঠিয়েছেন আমি তা সঠিক ভাবে পালন করার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছি।