
খুলনা-০৪ আসনের সংসদ সদস্য, বিএনপির তথ্য বিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল বলেছেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় মানুষের জীবন ও সম্পদ রক্ষার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর স্বাভাবিক জীবন ফিরিয়ে আনতে রাষ্ট্র, প্রশাসন ও জনগণকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত কোনো মানুষ যেন নিজেকে অসহায় মনে না করেন, সে দায়িত্ব আমাদের সবার। বিপদের সময় মানুষের পাশে দাঁড়ানোই একটি দায়িত্বশীল সমাজের সবচেয়ে বড় পরিচয়।
প্রাকৃতিক দুর্যোগ শুধু একটি পরিবারের ক্ষতি করে না, এর প্রভাব একটি এলাকার অর্থনীতি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রার ওপর পড়ে। তাই দুর্যোগের ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে তাৎক্ষণিক সহায়তার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসনের উদ্যোগ নিতে হবে।
বিশেষ করে দরিদ্র, অসহায়, বয়স্ক, নারী ও শিশুদের দুর্যোগের সময় বাড়তি সহযোগিতা প্রয়োজন। সরকারি সহায়তা যেন প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের হাতে পৌঁছে, সেটি নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।
তিনি বলেন, মানুষের কষ্টকে রাজনৈতিক বিভাজনের চোখে দেখা উচিত নয়। দুর্যোগের সময় দল-মত, ধর্ম-বর্ণ ও শ্রেণি-পেশার পার্থক্য ভুলে সবাইকে এক কাতারে দাঁড়াতে হবে। কারণ দুর্যোগ যখন আসে, তখন সেটি কোনো দলের মানুষকে আলাদা করে আঘাত করে না। তাই মানবিক সহায়তার ক্ষেত্রেও কোনো বিভাজন থাকা উচিত নয়।
দুর্যোগ মোকাবেলায় আমাদের মানসিক প্রস্তুতিও বাড়াতে হবে। প্রত্যন্ত এলাকার মানুষকে দুর্যোগের পূর্বাভাস সম্পর্কে সচেতন করা, নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা এবং জরুরি সময়ে দ্রুত যোগাযোগের সক্ষমতা বাড়ানো প্রয়োজন। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন, স্বেচ্ছাসেবক ও সাধারণ মানুষকে নিয়ে প্রতিটি এলাকায় দুর্যোগ মোকাবেলার একটি কার্যকর সামাজিক কাঠামো গড়ে তুলতে হবে।
তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে প্রাকৃতিক দুর্যোগের মাত্রা ও ধরন পরিবর্তিত হচ্ছে। বাংলাদেশও এর বাইরে নয়। তাই পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করা এখন আর শুধু পরিবেশবাদীদের বিষয় নয়; এটি আমাদের অস্তিত্ব রক্ষার বিষয়। নদী, খাল, জলাশয় ও সবুজ প্রকৃতি রক্ষা করতে হবে। নির্বিচারে গাছ কাটা বন্ধ করার পাশাপাশি বেশি বেশি বৃক্ষরোপণ করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, বৃক্ষরোপণকে আমাদের সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করতে হবে। একটি পরিবার যদি প্রতিবছর কয়েকটি করে গাছ লাগায় এবং সেই গাছের পরিচর্যা করে, তাহলে কয়েক বছরেই একটি এলাকার পরিবেশে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা সম্ভব। রাস্তার পাশে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আঙিনায়, বাড়ির আশপাশে ও পতিত জমিতে পরিকল্পিতভাবে গাছ লাগাতে হবে। শুধু গাছ লাগালেই হবে না, গাছ বাঁচানোর দায়িত্বও নিতে হবে।
তিনি বলেন, আমাদের উন্নয়নের সঙ্গে পরিবেশের ভারসাম্যও নিশ্চিত করতে হবে।
এমন উন্নয়ন করতে হবে, যেখানে মানুষের জীবনযাত্রার উন্নতির পাশাপাশি প্রকৃতি ও পরিবেশও নিরাপদ থাকে। ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যেন একটি বাসযোগ্য বাংলাদেশ পায়, সেটিই আমাদের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব। আজকের একটি ছোট উদ্যোগ আগামী দিনের বড় পরিবর্তনের সূচনা করতে পারে।
তিনি আরও বলেন, দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের হাতে আর্থিক সহায়তা তুলে দেওয়া সরকারের একটি মানবিক উদ্যোগ। তবে এই সহায়তার প্রকৃত সুফল তখনই নিশ্চিত হবে, যখন সমাজের সামর্থ্যবান মানুষও নিজেদের দায়িত্ব থেকে পিছিয়ে থাকবেন না। প্রত্যেকের সামর্থ্য অনুযায়ী সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে হবে।
কেউ অর্থ দিয়ে, কেউ শ্রম দিয়ে, কেউ সময় দিয়ে এবং কেউ একটি গাছ লাগিয়ে সমাজের জন্য অবদান রাখতে পারেন।
তিনি বলেন, খুলনা জেলার তেরখাদা উপজেলার মানুষের পাশে থেকে এলাকার উন্নয়ন, পরিবেশ সংরক্ষণ ও দুর্যোগ মোকাবেলায় প্রয়োজনীয় উদ্যোগ অব্যাহত রাখতে হবে।
একটি এলাকার উন্নয়ন শুধু রাস্তা-ঘাট বা অবকাঠামো নির্মাণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। মানুষের নিরাপত্তা, সুস্থ পরিবেশ, সামাজিক সম্প্রীতি এবং দুর্যোগের সময় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর সক্ষমতাও উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
তিনি ৬ আগষ্ট (বৃহস্পতিবার) বিকালে খুলনার তেরখাদা উপজেলায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় কর্তৃক বরাদ্দকৃত বিভিন্ন প্রকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত, দুঃস্থ ও অসহায় পরিবারের মাঝে মানবিক সহায়তা কর্মসূচির আওতায় নগদ অর্থ বিতরণ এবং বৃক্ষ রোপন অভিযান পরিচালনাকালে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় একথাগুলো বলেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিজ্ তাহমিনা সুলতানা নীলা। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব ও জেলা পরিষদের প্রশাসক এস, এম, মনিরুল হাসান বাপ্পী, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক খান জুলফিকার আলী জুলু ও এনামুল হক সজল, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক আতাউর রহমান রুনু, জেলা বিএনপির সদস্য মোঃ আনিচুর রহমান, জেলা যুব দলের যুগ্ম সম্পাদক গোলাম মোস্তফা তুহিন।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা করেন, উপজেলা কৃষি মোঃ মেহেদী হাসান, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকলল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মুজাহিদুল ইসলাম, থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ শহীদুল্লাহ, উপজেলা বিএনপির আহবায়ক চৌধুরী কাওছার আলী, সাবেক আহবায়ক চৌধুরী ফখরুল ইসলাম বুলু, সাবেক সদস্য সচিব এফ এম হাবিবুর রহমান, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোঃ রবিউল হোসেন, বিএনপির সম্মেলন প্রস্তুত কমিটির সদস্য যথাক্রমে মোল্যা মাহবুবুর রহমান, মোঃ ইকরাম হোসেন, সরদার আব্দুল মান্নান, মোঃ সাজ্জাদ হোসেন নান্টা, শরীফ নাঈমূল হক ও মোল্যা হুমায়ুন কবির, বিএনপি নেতা মোঃ মিল্টন মুন্সী, শেখ আজিজুর রহমান আজিবার, মোঃ বিল্লাল হোসেন, মোঃ আবুল হোসেন বাবু, মোঃ গোলাম মোস্তফা ভুট্টো, সোহাগ মুন্সী, মোঃ শামীম আহমেদ রমিজ, মোঃ রাজু চৌধুরী, মোঃ সাবু মোল্যা, মোঃ সাব্বির আহমেদ টগর প্রমূখ।