কাপ্তাইয়ের সীতাপাহাড়ে পথ হারিয়ে নিখোঁজ ৪ পর্যটককে উদ্ধার করল ফায়ার সার্ভিস

রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার সীতাপাহাড়ে প্রবল বৃষ্টির কবলে পড়ে পথ হারিয়ে নিখোঁজ হওয়া চার পর্যটককে শুক্রবার (২৮ আগস্ট) রাতে উদ্ধার করা হয়েছে। ফায়ার সার্ভিস, বন বিভাগ ও স্থানীয় প্রশাসনের যৌথ প্রচেষ্টায় তাদের নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হয়। উদ্ধার হওয়া পর্যটকরা হলেন রবিউল আলম (২২), সাইফুদ্দিন এমদাদ (২৫), মো. মামুন (২০) এবং মোস্তফা হাসেম সোহাগ (২৪)। উদ্ধার অভিযানের সময় পাহাড় থেকে নামতে গিয়ে মোস্তফা হাসেম সোহাগ সামান্য আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। কাপ্তাই ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার শাহাদাত হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

কাপ্তাই বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা মামুনুর রহমান জানান, শুক্রবার সকালে চট্টগ্রাম থেকে আসা এই চার পর্যটক কাপ্তাইয়ের বালুচর এলাকা দিয়ে কর্ণফুলী নদী পার হয়ে সীতাপাহাড়ে উঠেছিলেন। কিন্তু দুপুরের পর প্রবল বৃষ্টির কারণে পাহাড়ি পথ পিচ্ছিল হয়ে যায় এবং সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসায় তারা দিকভ্রান্ত হয়ে পড়েন। একপর্যায়ে বিষয়টি জানাজানি হলে উদ্ধারকারী দলগুলো দ্রুত তৎপরতা শুরু করে এবং রাতে তাদের খুঁজে বের করে।

স্থানীয় প্রশাসন ও বন বিভাগের পক্ষ থেকে বারবার সতর্ক করা সত্ত্বেও অনেক পর্যটক ঝুঁকিপূর্ণ ও দুর্গম এলাকায় প্রবেশের সময় প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন করেন না বলে অভিযোগ রয়েছে। কাপ্তাইয়ের বালুচর, সীতাপাহাড় ও ব্যাঙছড়িসহ বিভিন্ন এলাকায় বন্য হাতির চলাচল ও অবস্থান রয়েছে, যেখানে বন বিভাগের পক্ষ থেকে সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড ও নির্দেশনা দেওয়া আছে। তবুও স্থানীয় গাইড ছাড়া পর্যটকদের এসব নির্জন এলাকায় ভ্রমণ করাটা বড় ধরনের ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় ভ্রমণের ক্ষেত্রে পর্যটকদের বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। বৃষ্টির সময় পিচ্ছিল পাহাড়ি পথে চলাচল এড়িয়ে চলা, বিকেল ৫টার পর নির্জন বনাঞ্চলে প্রবেশ না করা এবং অপরিচিত এলাকায় স্থানীয় গাইড সাথে রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এছাড়া নৌভ্রমণের সময় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা, মোবাইলে পর্যাপ্ত চার্জ রাখা এবং কোনো কারণে পথ হারিয়ে ফেললে আতঙ্কিত না হয়ে নিরাপদ স্থানে অবস্থান করে দ্রুত ফায়ার সার্ভিস বা বন বিভাগের সহায়তা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। পর্যটন সংশ্লিষ্টদের মতে, নিরাপত্তা নির্দেশনা ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ আরও জোরদার করা গেলে ভবিষ্যতে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়ানো সম্ভব হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

সাঘাটায় অবৈধ বালু উত্তোলনবিরোধী অভিযান, ড্রেজার মেশিন ও সরঞ্জাম জব্দ

Verified by MonsterInsights

কাপ্তাইয়ের সীতাপাহাড়ে পথ হারিয়ে নিখোঁজ ৪ পর্যটককে উদ্ধার করল ফায়ার সার্ভিস

আপলোডের সময় : 11:22:04 am, Saturday, 29 August 2026

রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার সীতাপাহাড়ে প্রবল বৃষ্টির কবলে পড়ে পথ হারিয়ে নিখোঁজ হওয়া চার পর্যটককে শুক্রবার (২৮ আগস্ট) রাতে উদ্ধার করা হয়েছে। ফায়ার সার্ভিস, বন বিভাগ ও স্থানীয় প্রশাসনের যৌথ প্রচেষ্টায় তাদের নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হয়। উদ্ধার হওয়া পর্যটকরা হলেন রবিউল আলম (২২), সাইফুদ্দিন এমদাদ (২৫), মো. মামুন (২০) এবং মোস্তফা হাসেম সোহাগ (২৪)। উদ্ধার অভিযানের সময় পাহাড় থেকে নামতে গিয়ে মোস্তফা হাসেম সোহাগ সামান্য আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। কাপ্তাই ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার শাহাদাত হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

কাপ্তাই বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা মামুনুর রহমান জানান, শুক্রবার সকালে চট্টগ্রাম থেকে আসা এই চার পর্যটক কাপ্তাইয়ের বালুচর এলাকা দিয়ে কর্ণফুলী নদী পার হয়ে সীতাপাহাড়ে উঠেছিলেন। কিন্তু দুপুরের পর প্রবল বৃষ্টির কারণে পাহাড়ি পথ পিচ্ছিল হয়ে যায় এবং সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসায় তারা দিকভ্রান্ত হয়ে পড়েন। একপর্যায়ে বিষয়টি জানাজানি হলে উদ্ধারকারী দলগুলো দ্রুত তৎপরতা শুরু করে এবং রাতে তাদের খুঁজে বের করে।

স্থানীয় প্রশাসন ও বন বিভাগের পক্ষ থেকে বারবার সতর্ক করা সত্ত্বেও অনেক পর্যটক ঝুঁকিপূর্ণ ও দুর্গম এলাকায় প্রবেশের সময় প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন করেন না বলে অভিযোগ রয়েছে। কাপ্তাইয়ের বালুচর, সীতাপাহাড় ও ব্যাঙছড়িসহ বিভিন্ন এলাকায় বন্য হাতির চলাচল ও অবস্থান রয়েছে, যেখানে বন বিভাগের পক্ষ থেকে সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড ও নির্দেশনা দেওয়া আছে। তবুও স্থানীয় গাইড ছাড়া পর্যটকদের এসব নির্জন এলাকায় ভ্রমণ করাটা বড় ধরনের ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় ভ্রমণের ক্ষেত্রে পর্যটকদের বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। বৃষ্টির সময় পিচ্ছিল পাহাড়ি পথে চলাচল এড়িয়ে চলা, বিকেল ৫টার পর নির্জন বনাঞ্চলে প্রবেশ না করা এবং অপরিচিত এলাকায় স্থানীয় গাইড সাথে রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এছাড়া নৌভ্রমণের সময় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা, মোবাইলে পর্যাপ্ত চার্জ রাখা এবং কোনো কারণে পথ হারিয়ে ফেললে আতঙ্কিত না হয়ে নিরাপদ স্থানে অবস্থান করে দ্রুত ফায়ার সার্ভিস বা বন বিভাগের সহায়তা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। পর্যটন সংশ্লিষ্টদের মতে, নিরাপত্তা নির্দেশনা ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ আরও জোরদার করা গেলে ভবিষ্যতে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়ানো সম্ভব হবে।